চৌর্যবৃত্তি ও হয়রানির অভিযোগকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বললেন ঢাবি শিক্ষক
Printed Edition
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের (আইবিএ) শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো: রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে প্রবন্ধে শতভাগ চৌর্যবৃত্তি ও নারী সহকর্মীকে হয়রানিসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ উঠেছে। ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিগত সময়ে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের প্রভাব খাটিয়ে এসব অভিযোগ থেকে পার পেয়ে যান তিনি। যদিও অভিযুক্ত এই শিক্ষকের ভাষ্য, বিগত সময়ে আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটি আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের বিদ্রোহী অংশের সাথে আঁতাত করার চেষ্টা করছেন ড. রিদওয়ান। ফলে বিস্তর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সাদা দলের প্রভাব থাকায় তার বিরুদ্ধে কোনো ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন হয়নি। এই অভিযোগ অস্বীকার করেন ড. রিদওয়ান বলেন কোনো রকম সত্যতা ছাড়াই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া হচ্ছে। এটা আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।
এ দিকে গত রোববার (৪ মে) এই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ভিসি বরাবর অভিযোগ জমা দিয়েছেন ইনস্টিটিউটের তিন শিক্ষক। যদিও নাম প্রকাশ করতে চাননি তারা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অধ্যাপক ড. মো: রিদওয়ানুল হক বিগত প্রশাসনের সময় নিয়মবহির্ভূতভাবে বিদেশ গমন, প্রবন্ধে শতভাগ চৌর্যবৃত্তি, নারী সহকর্মীকে হয়রানি, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে বিবৃতিতে স্বাক্ষরসহ নানা অপকর্মে জড়িত হন। ২০১০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়াই অস্ট্রেলিয়ায় যান তিনি। তখন সিন্ডিকেটে একই ধরনের অপরাধের জন্য বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হলেও এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শুধু সতর্কীকরণ স্মারক জারি করা হয়। অভিযোগকারীদের মতে, তৎকালীন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপে ড. রিদওয়ানকে রক্ষা করা হয়। এ ছাড়াও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে ড. মো: রিদওয়ানুল হক দুটি ইনস্টিটিউটে প্রবন্ধ জমা দেন। তার মধ্যে একটি প্রকাশিত হয়েছে এবং অন্যটি অধ্যাপক পদের জন্য প্রকাশের জন্য গৃহীত হয়। যাচাই করে দেখা যায়, প্রবন্ধ দুটিতেই শতভাগ চৌর্যবৃত্তি ধরা পড়ে। জানা যায়, প্রবন্ধে একটি শব্দ বাদে অর্থাৎ সরকারি হাসপাতাল শব্দের স্থলে বেসরকারি হাসপাতাল বসিয়ে শতভাগ কপি করেন তিনি। তখন তার বিরুদ্ধে একটি তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়। জানা যায়, সে সময় ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবায়াত উল ইসলাম বিষয়টি হালকা করার জন্য কমিটিকে প্রকাশ্যে প্রভাবিত করেছিলেন। অধ্যাপক রিদওয়ানকে শতভাগ চৌর্যবৃত্তি ধরা পড়া প্রবন্ধটি প্রত্যাহার করার সুযোগ করে দেয়া হয়। এ সময় একটা কথা চাউর হয় যে, অধ্যাপক রিদওয়ান অধ্যাপক শিবলী রুবায়াতকে বিপুল পরিমাণ টাকার বিনিময়ে শাস্তি থেকে রক্ষা পান। নারী সহকর্মীকে হয়রানির অভিযোগ উল্লেখ করে শিক্ষকরা বলেন, ইনস্টিটিউটের ৪ নারী শিক্ষকের হয়রানির অভিযোগ রয়েছে এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। সূত্রমতে, ২০২০ সালে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জঘন্যতম নোংরা মেসেজ পাঠিয়ে আইবিএর একজন নারী সহকর্মীকে হয়রানি করেন তিনি। এ ঘটনায় অনুষদের পাঁচজন নারী শিক্ষক তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে একটি তথ্য অনুসন্ধান কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। তবে কমিটি একটি ভিন্ন ভিন্ন মতামত নিয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। এখানেও সেই অধ্যাপক শিবলী রুবায়াত উল ইসলাম সরাসরি কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমানকে প্রভাবিত করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল।