জ্বালানি সঙ্কট ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল রেশনিংয়ের সুপারিশ জাবি শিক্ষকের
Printed Edition
জাবি প্রতিনিধি
দেশে চলমান জ্বালানি সঙ্কট মোকাবেলায় ন্যায্য বণ্টন, স্বচ্ছতা ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর একটি ডিজিটাল রেশনিং ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সিএসই বিভাগের অধ্যাপক আবু সাঈদ মো: মোস্তাফিজুর রহমান। কিউআর কোড ও ওটিপি ভিত্তিক সমন্বিত জ্বালানি রেশনিং সিস্টেম শীর্ষক এই প্রস্তাবে সীমিত জ্বালানি সম্পদের সুষম ব্যবহার নিশ্চিতের কাঠামো তুলে ধরেন তিনি। গতকাল গণমাধ্যমের মাধ্যমে সরকারের কাছে তিনি এই পদ্ধতিতে জ্বালানি সঙ্কট ব্যবস্থাপনার বিস্তারিত উপস্থাপন করেন।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি যানবাহন বা জ্বালানি ব্যবহারকারীর জন্য একটি ইউনিক ডিজিটাল পরিচয় তৈরি করা হবে, যা কিউআর কোডের মাধ্যমে শনাক্ত করা যাবে। ব্যবহারকারীর ধরন অনুযায়ী সাপ্তাহিক বা মাসিক জ্বালানি কোটা নির্ধারণ করে সীমিত জ্বালানির ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তবে কেবল কিউআর কোডনির্ভর ব্যবস্থা যথেষ্ট নয় বলেও মত দেন তিনি।
তার মতে, কিউআর কোড সহজেই কপি বা শেয়ার করা যায়, ফলে প্রকৃত ব্যবহারকারী শনাক্তে জটিলতা তৈরি হয়। এ সীমাবদ্ধতা কাটাতে প্রতিটি লেনদেনের সময় নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে ওটিপি (ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড) পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি, যা অতিরিক্ত নিরাপত্তা স্তর হিসেবে কাজ করবে এবং অননুমোদিত ব্যবহার কমাবে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় জ্বালানি গ্রহণ প্রক্রিয়াটি হবে সহজ ও স্বচ্ছ। পাম্পে যানবাহন এলে প্রথমে কিউআর কোড স্ক্যান করে ব্যবহারকারীর অবশিষ্ট কোটা যাচাই করা হবে। এরপর নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি ইনপুটের পর মালিক বা অনুমোদিত ড্রাইভারের মোবাইলে ওটিপি পাঠানো হবে। ওটিপি যাচাই সম্পন্ন হলে জ্বালানি বিতরণ করা হবে এবং একই সাথে কেন্দ্রীয় সার্ভারে ব্যবহারকারীর কোটা ও পাম্পের স্টক রিয়েল-টাইমে আপডেট হবে। সবশেষে তিনি বলেন, জ্বালানি সঙ্কটে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কেবল সরবরাহ নয়, বরং এর ন্যায্য ব্যবহার নিশ্চিত করা। বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা বলছে, সঙ্কট যত গভীর হয়, প্রযুক্তিনির্ভর নিয়ন্ত্রণ তত বেশি প্রয়োজন হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একটি কার্যকর ডিজিটাল রেশনিং কাঠামো হতে পারে সময়োপযোগী ও টেকসই সমাধান।