হাসিনাকে ভারতে রাজনৈতিক মঞ্চ দেয়া হয়নি
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
বাংলাদেশ ইস্যুতে সংলাপ বজায় রাখার সুপারিশ করেছে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি। হাসিনার ভারতে অবস্থান নিয়ে গত শুক্রবার ভারতীয় সংসদে জমা দেয়া ওই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে ওই কমিটি। প্রতিবেদনে শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করা হয়েছে। তবে তাকে রাজনৈতিক মঞ্চ ব্যবহার করতে দেয়ার ব্যাপারে আপত্তি জানানো হয়েছে। সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে এর চেয়ারম্যান শশী থারু স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচনে সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ব্যাপারে ভারত নিরন্তর সুপারিশ করে যাবে।
কমিটি সুপারিশ করছে, ভারত সরকার যেন বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সুশীল সমাজের সাথে নিরন্তর যোগাযোগ রেখে চলে, যাতে আস্থা ও বার্তালাপের পরিবেশ অনুকূল হয়। এ ক্ষেত্রে ১৯৭১ সালের ভাবাদর্শ এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার ভিত্তিকে যেন প্রাধান্য দেয়া হয়। কমিটির বৈঠকে কোনো কোনো সদস্য শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেয়া নিয়ে মত জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি বলেন, ভারতের সভ্যতার ইতিহাস দেখলেই বোঝা যায় কেউ যদি জীবন সংশয়ের জন্য ভারতে আশ্রয় চান, তা হলে ভারত তাকে আশ্রয় দিয়েছে। এটা আধুনিক কোনো ইতিহাস নয়।
শেখ হাসিনা ভারতে থাকলে পারস্পরিক সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কোনো প্রভাব পড়ার কথা নয়। এটা বাংলাদেশের কর্মকর্তাদেরও বলা হয়েছে। আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, তাকে (শেখ হাসিনা) কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ দেয়া হয়নি।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ নয়
বাংলাদেশের বর্তমান অস্থিতিশীল ও পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত। তবে প্রতিবেশী এই দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নয়াদিল্লি কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন। গত শুক্রবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই কথা জানানো হয়েছে।
নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, ভারত ও বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একমত যে বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত ‘পরিবর্তনশীল ও জটিল’।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা বোঝার জন্য একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ প্রয়োজন। কোনো দেশের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে অনাকাক্সিক্ষত ও দুঃখজনক ঘটনার সৃষ্টি হয়, যা সম্প্রতি তরুণ নেতা শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আরো স্পষ্ট হয়েছে।
বিবৃতিতে ভারত সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে বলা হয়, বাংলাদেশের চলমান প্রতিটি ঘটনাপ্রবাহের প্রতি সতর্ক নজর রাখছে ভারত। তবে সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দেশটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সরাসরি কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। মূলত শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটেই ভারতের এই অবস্থান সামনে এলো।
বাংলাদেশের বিক্ষোভকারীদের একটি বড় অংশ দীর্ঘ দিন ধরে নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে। তাদের অভিযোগ, ভারত সরকার দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সদস্যদের আশ্রয় দিয়ে আসছে। বিশেষ করে ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় ভারতীয় যোগ সূত্রের অভিযোগ তুলে শাহবাগে বিক্ষোভকারীরা সেøাগান দিচ্ছিলেন। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না করার এই আশ্বাস দেয়া হলো।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং জনআকাক্সক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নিতেই ভারত এমন সাবধানী অবস্থান গ্রহণ করেছে।