রাজাপুরে খাল খননে ব্যাপক অনিয়ম

Printed Edition

রাজাপুর (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় এলজিইডির খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরির সরেজমিন পরিদর্শনে। খাল খননে শিডিউল অনুযায়ী কাজ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

বুধবার বিকেলে উপজেলার আঙ্গারিয়া এলাকায় রাঢ়ি বাড়ির সামনে থেকে শুরু হওয়া খাল পুনঃখনন এলাকা পরিদর্শনে যান ইউএনও। এ সময় তিনি ফিতা দিয়ে খালের প্রস্থ মাপেন। প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী খালের প্রস্থ ৩০ ফুট হওয়ার কথা থাকলেও কোথাও ২৬ ফুট, কোথাও ২৮ ফুট পাওয়া যায়। পরিদর্শনে উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের আওতায় প্রায় এক হাজার ৪০০ মিটার খাল পুনঃখননে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২৪ লাখ টাকা। এ ছাড়া উপজেলায় ১৩টি খাল খনন ও তিনটি বাঁধ নির্মাণে মোট প্রায় তিন কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। আলোচিত দু’টি খালের ৪ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার খননে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, খালটি পূর্ণাঙ্গভাবে খনন না করে মাঝখান থেকে সামান্য পলি অপসারণ করে দায়সারাভাবে কাজ করা হয়েছে। এতে সরকারের অর্থ ব্যয় হলেও কৃষকেরা প্রত্যাশিত সেচ সুবিধা পাবেন না।

তারা আরো জানান, কাজের সময় খালের দুইপাড়ের বহু ফলদ ও বনজগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। যথাযথ পাড় কাটা না হওয়ায় পুনরায় ধসে পড়ারও আশঙ্কা রয়েছে। ফলে সেচ সুবিধা ও মাছ চাষ দুই ক্ষেত্রেই ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইউএনও রিফাত আরা মৌরি বলেন, অনিয়মের অভিযোগের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। মাপজোখে কয়েকটি স্থানে নির্ধারিত ৩০ ফুট প্রস্থ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।