এলামী মো: কাউসার

আসন্ন ঈদুল আজহা কোরবানির শিক্ষা ও তাকওয়ার বার্তা নিয়ে আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। কোরবানি একটি মহান ইবাদত। এটি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়। বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রাণপ্রিয় বস্তু উৎসর্গ করার নাম। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমাদের কোরবানি কি আল্লাহর দরবারে কবুল হচ্ছে?

কুরআনুল কারিমে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে,

لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَٰكِن يَنَالُهُ التَّقْوَىٰ مِنكُمْ

‘আল্লাহর কাছে তাদের গোশত ও রক্ত পৌঁছায় না। বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।’ (সূরা হজ্জ: ৩৭)

এই আয়াত আমাদের কোরবানির মূল দর্শনই পরিষ্কার করে দেয়। আল্লাহর দরবারে মূল্যবান হচ্ছে নিয়ত ও খালেস তাকওয়া। আজ আমরা বড় বড় গরু, উট, ছাগল কোরবানি দিচ্ছি। কিন্তু কতজন আমরা নিজেদের নিয়ত বিশুদ্ধ রাখছি?

হাদীসে এসেছে,

إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئ ما نوى

‘সকল আমলই নিয়তের উপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিফলন হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদীস ১)

তাই আমাদের কোরবানি কবুল হতে হলে যে বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে, তা হলো,

১. হালাল উপার্জন দ্বারা পশু ক্রয় : হারাম অর্থ বা সুদের টাকায় কোরবানি করলে তা কবুল হবে না।

২. নিয়ত বিশুদ্ধ রাখা : লোক দেখানো বা সামাজিক প্রতিযোগিতা যেন উদ্দেশ্য না হয়।

৩. সুন্নত মোতাবেক কোরবানি সম্পন্ন করা : নির্ধারিত সময়, বয়স ও শর্ত পূরণ করা জরুরি।

৪. গরিব ও অসহায়দের প্রতি ইনসাফ : কোরবানির গোশত যেন শুধু বিত্তশালীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে।

আজ আমরা দেখছি, কোরবানি হয়ে উঠেছে ফেসবুক লাইভ, ছবি তোলা, গরুর দাম নিয়ে গর্ব করার উৎসবে। অথচ ইবরাহিম আ. আল্লাহর নির্দেশে নিজের প্রিয় সন্তান ইসমাইল আ.-কে কোরবানি করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন, একটুও অহঙ্কার বা আত্মপ্রদর্শন ছিল না।

আমাদের সমাজে যখন একদিকে দরিদ্র মানুষ কোরবানির মাংসের আশায় থাকে। অন্যদিকে আমরা দামী পশু নিয়ে অহঙ্কার করি, তখন সেটি আল্লাহর কাছে ইবাদত নয়, একটি আত্মশোচনীয় খেলা হয়ে দাঁড়ায়।

আমরা যদি চাই আমাদের কোরবানি কবুল হোক, তাহলে আমাদের করণীয়,

- লেনদেনে স্বচ্ছতা

- গরিবের প্রতি দয়া

- নিয়তের একনিষ্ঠতা

- কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের চেতনা অর্জন।

শেষ কথা হলো, কোরবানি হোক শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য, লোক দেখানো থেকে দূরে থেকে, হালাল অর্থে করা এমন ইবাদত, যা কবুল হয় আরশের মালিকের দরবারে। তাহলেই আমাদের কোরবানি হবে সফল এবং আমরা পাব সেই ইসমাইলি আত্মত্যাগের শিক্ষা।

আল্লাহ আমাদের কোরবানি কবুল করুন এবং তাকওয়ার বাস্তব শিক্ষা আমাদের জীবনে বাস্তবায়ন করার তাওফিক দিন। আমিন।

লেখক : গবেষক, আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়