জামালপুরের সীমান্তবর্তী উপজেলা বকশীগঞ্জে বন্যহাতির আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে মানুষের। নয়া দিগন্তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাহাড়ি হিংস্র বন্যহাতির পাল দলবেঁধে খাবারের সন্ধানে ঢুকে পড়ছে লোকালয়ে। বাড়িঘর ও ফসলি জমিতে আক্রমণ চালিয়ে ক্ষতি করছে কৃষকদের। উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের সোমনাথ পাড়া, দিঘলকোনা, টিলাপাড়া, বালুচর ও হাতিবারকোনাসহ সীমান্তবর্তী ১০ গ্রামের মানুষ বন্যহাতির আতঙ্কে ফসল রক্ষায় মশাল জ্বালিয়ে, ঢাকঢোল বাজিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করছেন। ক্ষেতের ফসল রক্ষায় অনেক কৃষক আবার হাতির পাল তাড়াতে মশাল জ্বালিয়ে নিজের জমিতে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছেন রাতভর।
গত কয়েক দিন ধরে ৩০-৪০টি বন্যহাতি ভারত থেকে কাঁটাতারের বেড়া টপকে ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান করছে। বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে হাতির পাল লোকালয়ে ঢুকে গাছপালা ও আবাদি ফসল নষ্ট করে ফেলছে। এতে কৃষকরা বিপুল ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নজরুল বলেন, বর্তমানে পাহাড়ের সমতলে আমন ও সবজির চাষ শুরু হয়েছে। প্রতি বছরই হাতির পাল এসে আমাদের ফসল নষ্ট করে। বেশির ভাগ সময় ধান ও কাঁঠাল পাকার মৌসুমে হাতির পাল খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসে। এবার এসেছে ফসলের মৌসুমের শুরুতেই।
বন্যপ্রাণী হাতি লোকালয়ে ফসলের খেতে হানা দেয়ার অর্থ হলো, হাতিগুলো বনে খাদ্য সঙ্কটে ভুগছে। প্রাণীবিষয়ক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, একটি প্রাপ্তবয়স্ক হাতি সাধারণত দিনে প্রায় ১৫০ কেজি খাবার খায় এবং ২১০ লিটার পর্যন্ত পানি পান করে। কিন্তু সীমান্তবর্তী এলাকায় বন-জঙ্গল উজার হচ্ছে। সেখানে বন্যপ্রাণীর জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য থাকছে না। ফলে খাবারের জন্য তারা তাদের বাসস্থান ছেড়ে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। ত্রুটিপূর্ণ বনায়নের অংশ হিসেবে বনে যেসব গাছ লাগানো দরকার ছিল সেগুলো না লাগানোয় হাতির খাবারের সঙ্কট হচ্ছে। এখন যেকোনোভাবে লোকালয় থেকে হাতি তাড়িয়ে দেয়া গেলেও এই সমস্যার সমাধানে বনে বন্যপ্রাণীর খাবার উপযোগী গাছ-গাছালি লাগানো দরকার।
বন্যপ্রাণী হাতিদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে হাতিগুলো যাতে লোকালয়ে এসে মানুষের ফসল ও তাদের স্বাভাবিক জীবনে ব্যাঘাত সৃষ্টি না করে সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে। মানুষ ও বন্যপ্রাণী কেউ কারো শত্রু নয়। একে অপরের সহায়ক। সুতরাং বন্যপ্রাণী হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা যেসব কৌশল অবলম্বনের পরামর্শ দেন সে আলোকে কাজ করতে হবে।
স্থানীয় প্রশাসন হাতির আক্রমণ বন্ধে যেসব ব্যবস্থা নিয়েছে তা আশাব্যঞ্জক। তবে হাতির আক্রমণ ঠেকানোর প্রচেষ্টায় যেন ঘাটতি না থাকে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। কারণ অতীতে হাতির আক্রমণে বেশ কিছু মানুষের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, বকশীগঞ্জে প্রতি বছর যেসব হাতির পাল ওপার থেকে নেমে আসে সেগুলো মেঘালয়ের পাহাড়ের বাসিন্দা। তাই এসব হাতির আগমন বন্ধ করতে ভারত সরকারেরও করণীয় রয়েছে। আমরা মনে করি, বকশীগঞ্জের গ্রামে হাতির তাণ্ডব বন্ধে বাংলাদেশ ও ভারত সম্মিলিতভাবে ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে উদ্যোগটা বাংলাদেশেরই নিতে হবে।