দেশের সব বয়সী মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন। তবে তরুণ প্রজন্ম সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি সময় ডুবে থাকে। ফেসবুক, এক্স হ্যান্ডেল, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ইত্যাদির ব্যবহারে তারা স্বচ্ছন্দ। ইদানীং টিকটক এত জনপ্রিয় হয়েছে যে, বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী, কিশোর-কিশোরী এতে বুঁদ হয়ে থাকছে। পরিণামে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে নেমে আসছে নৈতিকতার ধস। দেখা দিচ্ছে এক ধরনের মনোবৈকল্য। সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে অশ্লীলতা, বেহায়াপনা। অনেকে হচ্ছে বিপথগামী। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত।

নয়া দিগন্তের এক প্রতিবেদন বলছে, টিকটক ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে দাউয়ান নামে চীনে প্রথম চালু হয়। পরে সেপ্টেম্বর ২০১৭ সালে টিকটক নামে আন্তর্জাতিকভাবে চালু হয়। ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশে টিকটকের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। ২০১৯ সালের মধ্যে এটি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মকে ছাড়িয়ে যায়। যদিও কিছু সময়ের জন্য বাংলাদেশে টিকটকের কিছু কনটেন্ট ফিল্টার করা হয়েছিল, তবে পরে আবার তা চালু করা হয়। নাচ, কৌতুক এবং শিক্ষাসহ নানা বিষয়ের ওপর তিন থেকে ৬০ সেকেন্ড পর্যন্ত সময়সীমার বিভিন্ন ধরনের ছোট ভিডিও টিকটকে এদেশে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে এতে মারাত্মক আসক্ত হয়ে দেশের যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে। নীতিনৈতিকতা তরুণ-তরুণীরা ভুলে টিকটক ভিডিওতে অশালীন নাচগান ছড়িয়ে দিতেও দ্বিধা করছে না। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীরা বেশি ভিউ, শেয়ার বা কমেন্টের আশায় এগুলো অহরহ ছড়িয়ে দিচ্ছে। যার ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে পরিবার ও সমাজে। ব্যক্তি থেকে শুরু করে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র কিংবা ধর্মীয় সবখানে এর ভয়াবহতা আঘাত হানছে। টিকটকের কারণে অনেকের পরিবার ভাঙছে, অনেকে আত্মহত্যা করছে। সমাজে অস্থিরতা তৈরি হয় এমন উপাদানের প্রসার ঘটছে। এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে অভিভাবক ও সমাজ বিশ্লেষকদের মধ্যে।

বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ-তরুণীরা স্বল্প সময়ে তারকাখ্যাতি পাওয়ার লোভে উচ্ছৃঙ্খলতার পথ বেছে নিচ্ছে। তাদের মতে, এ অ্যাপের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে শুরু করে সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে মাদক, নগ্নতা ও অশ্লীলতার মতো ভয়াবহ দিকগুলো। এ কারণে বিভিন্ন দেশে নিষিদ্ধ হচ্ছে টিকটক। শুধু নিষিদ্ধ নয়, এ সস্তা বিনোদনের প্ল্যাটফর্মটির বিরুদ্ধে অনেক দেশ মামলাও করেছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, টিকটকে অশ্লীল শর্ট ভিডিও ছেড়ে এক শ্রেণীর মানুষ ভিউ ব্যবসা করছে। এর মাধ্যমে দু’পয়সা আয়ও করছে কিছু মানুষ। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের তরুণ প্রজন্ম।

যেহেতু তরুণ প্রজন্ম টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিনোদন খুঁজে থাকে। পাশাপাশি একশ্রেণীর মানুষ আছে এটাকে ব্যবসার মাধ্যম হিসেবে নিয়েছে। এতে সামাজিক অবক্ষয় ঘটছে। সরকারের উচিত, টিকটক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া। এর কন্টেন্টে নজরদারি বাড়ানো। মনে রাখতে হবে, দ্রুততম সময়ে এটি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সমাজে আরো বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এক্ষেত্রে পরিবার ও সমাজেরও সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।