বিদেশে শ্রমবাজারে মালয়েশিয়া হলো বাংলাদেশী প্রবাসী শ্রমিকদের দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্য। মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরবের পরে মালয়েশিয়ার অবস্থান। অন্তত আট লাখ বাংলাদেশী সেখানে কর্মরত, যাদের মধ্যে সাড়ে চার লাখ গেছেন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। কিন্তু গত এক বছর ধরে দেশটির শ্রমবাজার বাংলাদেশীদের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ আছে। শিগগির তা খোলার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না।
নয়া দিগন্তে প্রকাশিত গতকাল এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বলা হয়েছে, বহির্গমন অনুমোদন পাওয়া একজন কর্মীও মালয়েশিয়ায় যেতে পারেননি। যদিও ১৮ হাজার শ্রমিককে গ্রহণ করার ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। খোদ দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইবরাহিম ঢাকায় এসে প্রধান উপদেষ্টার সাথে আলোচনার পর ওই ঘোষণা দেন।
গত বছর মার্চে মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশী কর্মীদের নামে কলিং ভিসা ইস্যু বন্ধ করে। তবে ৩১ মে পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছিল। ওই সময়ের মধ্যে দেশটিতে পৌঁছাতে পারেননি ৩০ হাজার কর্মী। তাদের মধ্যে ঢাকার বহির্গমন ছাড়পত্র পেয়েছিলেন ১৮ হাজার জন। এদের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দেন আনোয়ার ইবরাহিম। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত যেতে পারেননি। মূলত দেশটির শ্রমবাজারে সক্রিয় সিন্ডিকেটের সৃষ্ট জটিলতা এর কারণ।
বাংলাদেশীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বারবার অস্থিতিশীল হয়েছে সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির কারণে। ১৫ বছরে স্বৈরশাসকরা এ নিয়ে কিছু করেনি। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইবরাহিম সফরকালে বাংলাদেশকে সতর্কতা অবলম্বনের তাগিদ দিয়ে বলেছিলেন, দুর্নীতি, সুশাসন ও অর্থনৈতিক মৌলিক বিষয়ে তারা আপস করেন না। স্বৈরাচারী সরকার ক্ষমতায় থাকলে ধরে নেয়া যেত তারা এসব বিষয়ে কান পাতবে না; কিন্তু এখন চোরতন্ত্রের সরকার নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে এটি প্রত্যাশিত। সবচেয়ে বড় বিষয়, দেশে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব ঘোচাতে ব্যবস্থা নিতে হবে। শ্রমঘন শিল্প স্থাপন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির অবস্থা এখন নেই। অর্থনীতির মাজা ভেঙে দিয়ে গেছে পতিত সরকার। এ ক্ষেত্রে বিদেশের শ্রমবাজার বড় ভরসা। বন্ধু দেশ মালয়েশিয়া হতে পারে প্রধান নিশানা। মনে করা যেতে পারে, স্বৈরাচার উৎখাতের পর আনোয়ার ইবরাহিম ছিলেন প্রথম বিদেশী সরকারপ্রধান যিনি বাংলাদেশ সফরে আসেন। এটি ছিল নতুন সরকারের প্রতি মালয়েশিয়ার বন্ধুত্বের স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু দেশটির দরজা খুলতে সিন্ডিকেট ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।
গতকাল নয়া দিগন্তের ভিন্ন এক খবরে জানা গেল, মালয়েশিয়ায় পাসপোর্ট ও ভিসা জালিয়াতি চক্রের ছয় সদস্য আটক হয়েছে। সেই চক্রের হোতা বাংলাদেশী নাগরিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাৎ এখন পর্যন্ত বাংলাদেশী দুর্বৃত্ত চক্র সে দেশে সক্রিয় আছে। এ অবস্থার অবসান হওয়া জরুরি। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে আমাদের শ্রমিকদের সুনাম ধরে রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।