সরকার লবণ চাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে লবণ চাষে সহায়তা দিতে স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বুধবার সংসদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কক্সবাজারের ৩২ হাজার ৪১০ জন এবং চট্টগ্রামের ৭ হাজার ৭৪০ জনসহ মোট ৪০ হাজার ১৫০ জন লবণ চাষি ৬৭ হাজার ৭৫৭ একর জমিতে লবণ চাষ করে ১৯ লাখ ৪৫ হাজার টন লবণ উৎপাদন করেছেন।
তিনি বলেন, উৎপাদন ব্যয় যাচাই করে মাঠপর্যায়ে লবণের ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, যাতে লবণ চাষিরা তাদের উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য পান।
মন্ত্রী বলেন, শিল্প খাতে ব্যবহারের জন্য লবণ আমদানির সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের মাধ্যমে সরকার লবণ আমদানি নিয়ন্ত্রণ করছে।
তিনি আরো বলেন, সোডিয়াম সালফেট বা ডাইসোডিয়াম সালফেটের নামে যাতে সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানি করা না যায়, সেজন্য শুল্ক ছাড়ের আগে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার লবণের আমদানি শুল্কহার পর্যালোচনা করছে। পাশাপাশি দেশীয়ভাবে উৎপাদিত লবণের গুণগত মান উন্নয়নে নিয়মিত চাষিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের ফলে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বর্তমানে লবণ চাষিরা ভালো দাম পাচ্ছেন। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে প্রতি মণ লবণের গড় মূল্য ৩৩৭ টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৭১ টাকা।
লবণ চাষিদের আর্থিক সহায়তার বিষয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) জামানতবিহীন ৫ শতাংশ সরল সুদে ‘লবণ চাষিদের জন্য বিশেষ ঋণ কর্মসূচি’ চালু করেছে।
তিনি জানান, এ কর্মসূচির আওতায় এ পর্যন্ত ৬৭৭ জন লবণ চাষির মধ্যে ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালার আওতায় তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রকৃত লবণ চাষিদের ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদে ঋণ প্রদান করা হচ্ছে বলেও তিনি সংসদকে জানান। সূত্র : বাসস