বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এক দিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন করে তুলেছে, অন্য দিকে উচ্চ সুদহার, দুর্বল বিনিয়োগ ও মন্থর কর্মসংস্থান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এমন এক জটিল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সুদহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯.৫ শতাংশ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

বিশেষ তাৎপর্যের বিষয় হলো, মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই ঘোষিত সঙ্কোচনমূলক মুদ্রানীতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছিল। অথচ এরপরই ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে এই সিদ্ধান্ত কি অর্থনীতিকে গতিশীল করার জন্য একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ, নাকি এটি মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে চলমান লড়াইকে আরো কঠিন করে তুলতে পারে? বাস্তবতা হলো, অর্থনৈতিক নীতি কখনোই একটি মাত্র লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয় না। মূল্যস্থিতি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই মূল চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সেই ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হিসেবেই গণ্য হবে।

বাংলাদেশে নীতি সুদহারের বর্তমান অবস্থানে আসার পেছনে রয়েছে গত কয়েক বছরের বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিবর্তন। কোভিড-১৯ মহামারীর সময় ২০২০ সালে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের মতো বাংলাদেশও সহজ মুদ্রানীতি গ্রহণ করে। তখন নীতি সুদহার ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। কম সুদে ঋণ, তারল্য সহায়তা এবং প্রণোদনার মাধ্যমে অর্থনীতি সচল রাখাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু ২০২২ সাল থেকে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্কট এবং ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়। বাংলাদেশও এর বাইরে ছিল না। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করে।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ধাপে ধাপে নীতি সুদহার বাড়িয়ে ১০ শতাংশে নিয়ে যায়। উদ্দেশ্য ছিল বাজারে অতিরিক্ত অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা, ঋণের চাহিদা কমানো এবং মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশা নিয়ন্ত্রণে আনা। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ভারতের রিজার্ভ ব্যাংকসহ বিশ্বের অনেক কেন্দ্রীয় ব্যাংক একই ধরনের কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করে।

তবে বাংলাদেশের বাস্তবতা ছিল কিছুটা ভিন্ন। উচ্চ সুদহার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে প্রত্যাশিত সাফল্য আনতে পারেনি; বরং বেসরকারি খাতের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। ব্যাংক ঋণের সুদহার ১৪ থেকে ১৫ শতাংশে উঠে যাওয়ায় অনেক উদ্যোক্তার জন্য নতুন বিনিয়োগ কঠিন হয়ে পড়ে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির গতি কমে যায় এবং বিদেশী বিনিয়োগেও দুর্বলতা দেখা দেয়। এই বাস্তবতায় সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে একটি কঠিন সিদ্ধান্তের প্রয়োজন ছিল। এক দিকে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ধরে রাখা, অন্য দিকে অর্থনীতির উৎপাদনক্ষমতা পুনরুদ্ধারের জন্য বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা- এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই ছিল মূল বিষয়।

নীতি সুদহার কমানোর পেছনে অন্যতম প্রধান যুক্তি হলো, উচ্চ অর্থায়ন ব্যয়ের কারণে বেসরকারি খাত দীর্ঘদিন ধরে চাপে রয়েছে। একটি অর্থনীতিতে বিনিয়োগ কমে গেলে তার প্রভাব শুধু ব্যবসার ওপর পড়ে না; ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান, উৎপাদন এবং মানুষের আয়ের ওপরও পড়ে। তাই সুদের হার কিছুটা কমিয়ে বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেখায়, নীতি সুদহার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এটি কখনোই বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধির একমাত্র নির্ধারক নয়। সফল দেশগুলো মুদ্রানীতির সাথে শিল্পনীতি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ব্যবসায়বান্ধব সংস্কারের সমন্বয় ঘটিয়েই টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ভিয়েতনাম এর একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। দেশটি শুধু তুলনামূলক কম সুদহার বা সস্তা শ্রমের কারণে নয়; বরং নীতির ধারাবাহিকতা, আধুনিক অবকাঠামো, দ্রুত প্রশাসনিক সেবা এবং রফতানিমুখী শিল্পনীতির মাধ্যমে বৈশ্বিক উৎপাদন শৃঙ্খলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনার সময় বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বড় অংশ ভিয়েতনামে উৎপাদন স্থানান্তর করে, কারণ সেখানে একটি স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য বিনিয়োগ পরিবেশ গড়ে উঠেছিল।

ভারতের অভিজ্ঞতাও একই শিক্ষা দেয়। উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময় ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক সতর্ক ও সংযত মুদ্রানীতি অনুসরণ করলেও, কেন্দ্রীয় সরকার একই সাথে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং উৎপাদনভিত্তিক প্রণোদনা কর্মসূচির মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদন, শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ব্যবসায় সহজীকরণে ব্যাপক গুরুত্ব দেয়। এর ফলে তুলনামূলকভাবে উচ্চ সুদহারের পরিবেশেও ভারত দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ, উৎপাদন সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

অন্য দিকে, ২০২২ সালের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সঙ্কট-পরবর্তী শ্রীলঙ্কাও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। দেশটি প্রথমে কঠোর মুদ্রানীতি, রাজস্ব সংস্কার ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (ওগঋ) কর্মসূচির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করে। এরপর অর্থনীতিতে আস্থা ফিরতে শুরু করলে ধাপে ধাপে নীতি সুদহার কমানো হয়, যাতে উৎপাদন ও বেসরকারি বিনিয়োগ পুনরুদ্ধার করা যায়। অর্থাৎ শ্রীলঙ্কা সুদহার কমিয়েছে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি তৈরি হওয়ার পর।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, সুশাসন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, কার্যকর ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে নীতির সুফল মিলবে। শুধু সুদের হার কমিয়ে কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব নয়। উদ্যোক্তারা শুধু ঋণের খরচ বিবেচনা করেন না; তারা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, জ্বালানি সরবরাহ, করনীতি, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং ব্যবসার নিরাপত্তাকেও গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশে বর্তমানে মূল্যস্ফীতির চাপ পুরোপুরি দূর হয়নি। খাদ্যপণ্য, জ্বালানি, পরিবহন ব্যয় এবং আমদানিনির্ভর কাঁচামালের মূল্য এখনো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে। এমন পরিস্থিতিতে সুদের হার কমানোর ফলে যদি অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়; কিন্তু উৎপাদন একই হারে না বাড়ে, তাহলে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি অতিরিক্ত চাহিদার ফল নয়; বরং এর পেছনে সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজার ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রে ২০২২ সালে মূল্যস্ফীতি চার দশকের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর ফেডারেল রিজার্ভ দ্রুত সুদহার বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা ধীরগতি এলেও মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশা নিয়ন্ত্রণে আসে। ইউরোপীয় দেশগুলোও একই ধরনের কঠোর নীতি গ্রহণ করে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের আস্থা ধরে রাখা এবং মূল্যস্ফীতিকে স্থায়ী রূপ নেয়া থেকে ঠেকানো।

ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক দীর্ঘ সময় ধরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকার দিয়েছে। তবে ভারত একই সাথে অবকাঠামো উন্নয়ন, উৎপাদন খাতে প্রণোদনা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিয়েছে। ফলে উচ্চ সুদহারের মধ্যেও অর্থনীতির উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।

অন্য দিকে শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা দেখায়, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে না এলে সুদহার কমানোর সুযোগ সীমিত থাকে। তীব্র বৈদেশিক মুদ্রা সঙ্কট ও মূল্যস্ফীতির পর দেশটি প্রথমে কঠোর নীতি গ্রহণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর ধীরে ধীরে সুদহার কমিয়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি করে। বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের বিশেষত্ব হলো, এখানে মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না এলেও প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগের দুর্বলতা বিবেচনায় নিয়ে নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তাহলে প্রশ্ন আসে, বাংলাদেশ ব্যাংক যদি নীতি সুদহার না কমাত, তাহলে কী হতে পারত? একদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বার্তা আরো শক্তিশালী হতো। বাজারে অর্থের প্রবাহ সীমিত থাকত এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর অবস্থানের বিশ্বাসযোগ্যতা আরো দৃঢ় হতে পারত। কিন্তু এর বিপরীতে অর্থনীতির অন্য একটি ঝুঁকি বাড়ত, বিনিয়োগে স্থবিরতা আরো দীর্ঘায়িত হতে পারত।

দীর্ঘদিন উচ্চ সুদহার বজায় থাকলে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। কারণ তাদের অধিকাংশই ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল। ঋণের ব্যয় বেশি হলে তারা ব্যবসায় সম্প্রসারণের পরিবর্তে বিদ্যমান কার্যক্রম টিকিয়ে রাখার দিকে মনোযোগ দেন। এর ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি কমে যায় এবং অর্থনীতির সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অর্থনৈতিক নীতিতে সব সময় কিছু না কিছু সমঝোতা করতে হয়।

শুধু সুদের হার কমিয়ে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে হবে, প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে খেলাপি ঋণ, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও সুশাসনের ঘাটতি ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রদানের সক্ষমতাকে প্রভাবিত করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে হলে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধি, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জ্বালানি ও অবকাঠামো সঙ্কট নিরসন, বাজার ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা। একই সাথে মূল্যস্ফীতির ওপর নিবিড় নজর রেখে প্রয়োজনে দ্রুত নীতিগত সমন্বয়ের সক্ষমতা বজায় রাখতে হবে।

নীতি সুদহার ১০ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে একটি সাহসী এবং সময়োপযোগী নীতিগত পদক্ষেপ। তবে এটি একই সাথে একটি পরিকল্পিত ঝুঁকি, যার সাফল্য নির্ভর করবে সরকারের পরবর্তী নীতিগত পদক্ষেপ এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতার ওপর। যদি এই সিদ্ধান্ত উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক গতি সৃষ্টি করার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতিকে সহনীয় পর্যায়ে রাখতে পারে, তবে এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হবে। কিন্তু যদি কাঠামোগত দুর্বলতা, বাজারের অদক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা দূর না হয়, তাহলে শুধু সুদহার কমিয়ে কাক্সিক্ষত ফল অর্জন করা সম্ভব হবে না।

লেখক : অর্থনীতিবিদ গবেষক ও কলামিস্ট

mizan12bd@yahoo.com