একটি জনগোষ্ঠী তখনই জাতি হয়ে ওঠে যখন স্বকীয়তা-স্বাতন্ত্র্যে প্রাতিষ্ঠানিকতা অর্জন করে। এই প্রাতিষ্ঠানিকতাই নির্মাণ করে জাতিরাষ্ট্রের ভিত্তি। সহজ ভাষায় বলা যায়, ‘কোনো একটি জাতি যখন মনে করে তারা একটি জাতি, তখনই তারা রাষ্ট্র গঠনে সফল হয়’। এক কথায়, Sentiment of oneness জাতীয় রাষ্ট্রের সীমানা নির্ধারণ করে। ষষ্ঠ শতাব্দীতে ইউরোপীয় জাতিরাষ্ট্র গঠনের ইতিহাস আর আমাদের জাতিরাষ্ট্র গঠনের পর্যায় এক নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ঔপনিবেশিকতার অবসানে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায় যে রাষ্ট্রগোষ্ঠীর সৃষ্টি হয় তার কোনো কোনোটি সম্পর্কে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বলেন, Only nations in hope। ১৯৪৭ সালে এই উপমহাদেশ ভাগ হয়ে যখন হাজার মাইলের ব্যবধানে একক পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয় তখন বলা হয়, Impossible State অথবা Double State।
১৯৭১ সাল প্রমাণ করে যে, আসলে জাতিরাষ্ট্র হয়ে ওঠার আরো যেন কিছু অসমাপ্ত রয়ে গেছে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে। তারই অনিবার্যতায় বিভক্ত হয় দেশ। এর মাঝেই হিন্দু জাতীয়তাবাদ অর্জন করে বিভাজনে সুবিধা। অনেকে জাতিরাষ্ট্রকে বহতা নদীর সাথে তুলনা করেন। নদী বয়ে যায় উচ্চ পর্বতশৃঙ্গ থেকে সরোবর হয়ে পাহাড় উপত্যকায়, সমতল অসমতলে অবশেষে বিরাট জলাধারে। ধরুন ব্রহ্মপুত্র নদের কথা। যেটি আমাদের দেশে যমুনা নদী নামে প্রবাহিত হিমালয়ের মানস সরোবর হ্রদ থেকে উৎপন্ন হয়ে সাংপো নামে তিব্বতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। ভারতের সীমান্তের কাছে এসে এটি ব্রহ্মপুত্র নাম ধারণ করে রংপুর ময়মনসিংহ সীমান্তে যমুনা নামে প্রবাহিত হয়ে গোয়ালন্দের কাছে পদ্মা নাম নিয়ে চাঁদপুরের কাছে মেঘনার সাথে মিশেছে। অবশেষে মেঘনা নদী নাম ধারণ করে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে। অপর একটি প্রধান ধারা পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার মধ্য দিয়ে ভৈরবের কাছে মেঘনায় পড়েছে। এটি এখন মৃতপ্রায়।
বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্রের ইতিহাসও এই ব্রহ্মপুত্রের মতো নানা বাঁক, নানা ধারা উপধারা সৃষ্টি করে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্রের নাম ধারণ করেছে। প্রাচীন বাংলার অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ, হরিকল ও সমতটের কথা অনেকেই জানেন। দ্বাদশ শতাব্দীতে মুসলিম শাসক শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহের আমলে ভাষায় ও মানচিত্রে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো স্বতন্ত্র সত্তায় যাত্রা শুরু করে। মুঘল আমলে সুবে বাংলা বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্য সাধন করে। ১৭৫৭ সালের ভাগ্য বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে বাংলা বিহার উড়িষ্যার বাধ্যতামূলক সম্মিলন ঘটে। প্রায় ২০০ বছরের ব্রিটিশ রাজত্বে হিন্দু ও মুসলমানের দ্বৈতসত্তা ক্রমেই প্রকট হয়ে ওঠে। অথচ মুঘল তথা মুসলিম শাসনের সুদীর্ঘকালে এই বিভাজনতত্ত্ব বা সাম্প্রদায়িকতার অস্তিত্ব ছিল না। ১৮৮৫ সালে জাতীয় কংগ্রেস গঠনের মধ্য দিয়ে মূলত হিন্দু জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে। ব্রিটিশরাও অখণ্ড ভারতীয় জাতীয়তাবাদ লালনের চেষ্টা করে। সে প্রয়াস ব্যর্থ হয়। ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ গঠনের মধ্য দিয়ে হিন্দু মুসলিম সীমারেখা তীব্রতর হয়। ১৯০৫ সালে পূর্ববাংলা ও আসাম নিয়ে স্বতন্ত্র প্রদেশ সৃষ্টি হলে হিন্দুদের গাত্রদাহ শুরু হয়। তারা ১৯০৫ থেকে ১৯১১ সাল পর্যন্ত অখণ্ড বাংলার দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম ও সন্ত্রাস শুরু করে।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে ১৯১১ সালে পঞ্চম জর্জের ‘ভারত সম্রাট’ অভিষেক সময়কালে বঙ্গভঙ্গ রোধ করা হয়। কী বিচিত্র ইতিহাসের গতি! ১৯৪৭ সালে যখন মুসলমানরা কলকাতার মেয়র ও অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, তখন তাদের প্রকৃত চেহারা ফুটে ওঠে। মুসলমানরা চাইল এক থাকতে, ‘অবিভক্ত স্বাধীন বাংলা’ গড়তে, তখন তারা উল্টো বঙ্গভঙ্গের জন্য অনড় ও অটল হয়ে উঠল। (বিস্তারিত দেখুন, জয়া চ্যাটার্জি, বাংলা ভাগ হলো, ইউপিএল, ঢাকা, ২০১৯)। যা হোক, এ দেশের মুসলমানরা অবশেষে একক পাকিস্তান গড়ে তুলল। সেও ইতিহাসের এক অনিবার্য পরিণতি। কখনো মনে হয়, পূর্ব পশ্চিমের সেই ধর্মবন্ধন কি অলীক ছিল? উত্তরটি খুঁজতে হবে সেদিনের ঘটনা পরম্পরায়। আজকের প্রেক্ষিতে নয়।
১৯৪৭ সালে দেশ বিভাজনের পর একটি অভ্যন্তরীণ উপনিবেশবাদ আমাদের ওপর আরোপিত হয়। সে করুণ ইতিহাস। আমাদের লাখো প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করতে হয়। একটি জাতিরাষ্ট্র যখন তার সব উপাদান একত্রিত করে একক সত্তা সৃষ্টিতে ব্যর্থ হয়, তখন জাতীয়তার শাখা-প্রশাখা বা উপাদানগুলো ভিন্নভাবে আবির্ভূত হয়। পাকিস্তান নামক জাতিরাষ্ট্র ছিল সিন্ধি, পাঞ্জাবি, বেলুচি, পাঠান ও বাঙালি পঞ্চ জাতির সমাহার। বৈচিত্র্যের মাঝে যে ঐক্য সাধিত হতে পারে তার উত্তম উদাহরণ বর্তমান ভারত। ইসলামই ছিল পূর্ব ও পশ্চিম অংশের একমাত্র বন্ধন। ইসলামের সাম্য মৈত্রীর বন্ধন যদি ন্যায়ানুগ হতো তাহলে হয়তো বা একক জাতি হিসেবে আরো কিছুকাল একসাথে চলা যেত। এককভাবে চলার পথও হয়তো বের হয়ে যেত। কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক শাসকরা বিশেষত ধুরন্ধর ভুট্টোর কারসাজিতে পাকিস্তানের বিভাজন অনিবার্য হয়ে ওঠে। তবে হাজার মাইলের দূরত্ব ঘুচানো যেত না কিছুতে।
এত ভূগোল-ইতিহাস টানলাম জাতীয়তার স্বাতন্ত্র্য, সংস্কৃতির স্বকীয়তা বোঝানোর জন্য। পাকিস্তানের জনগণ এবং বাংলাদেশের জনগণ ধর্মে এক হলেও ভাষা, সংস্কৃতি ও নৃ-তত্ত্বে এক নয়। আবার ভারতের বাঙালিরা আর আমরা বাংলা ভাষায় কথা বললেও ধর্ম, কর্ম ও সংস্কৃতিতে এক নই। শাসকগোষ্ঠীর আরোপিত রাষ্ট্রীয় কাঠামো ঠুনকো হয়ে পড়ে যদি এক জাতীয়তার সেন্টিমেন্ট রাষ্ট্রের দিকে না গড়ায়। সে জন্য রবীন্দ্রনাথের আশা অনুযায়ী ‘হেথায় আর্য, হেথা অনার্য, হেথায় দ্রাবিড় চীন, শক-হুন-দল-পাঠান-মুঘল এক দেহে লীন’ হলেও বাঙালি মুসলমানরা বাঙালি অথবা ভারতীয় জাতীয়তাবাদে বিলীন হয়নি। অন্য দিকে, জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের ভাষায়, ওপারের বাঙালিরা হলো, Willing Victim। স্বাতন্ত্র্যই হলো বাংলাদেশ জাতিসত্তার প্রাণ।
এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় যে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশ জাতিসত্তার স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তা শাসকগোষ্ঠী বুঝতে ব্যর্থ হয়। তারই অনিবার্য প্রতিক্রিয়া হিসেবে স্বাধীনতার পরই মুসলিম বাংলার স্লোগান ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হয়। সিরাজ শিকদারকে প্রাণ দিতে হয়। ওপারের লেখক বসন্ত চ্যাটার্জি বাংলাদেশ সফর শেষে তার Inside Bangladesh গ্রন্থে এই স্বাতন্ত্র্যের কথা তুলে ধরেন। কিভাবে শাসকগোষ্ঠী উদ্দেশ্যমূলকভাবে মুসলিম জাতিসত্তা নিঃশেষ করার ব্যবস্থা নেয় তার একটি বিশ্বস্ত বর্ণনার জন্য দেখুন Bangladesh Institute of International Strategic Studies সম্পাদিত গ্রন্থ Nation Building। গ্রন্থটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত। পরবর্তীকালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদের সব উপাদান সমন্বিত করার প্রয়াস নেন। কিন্তু আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে (২০০১-২০০৬ সময়কাল বাদে) আবার সেই পুরনো পরিত্যক্ত বাঙালি জাতীয়তাবাদে ফিরে যায়। তারা হিটলার ও মুসলিনির মতো উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদ ব্যবহার করে প্রকারান্তরে ভারতীয় আধিপত্যবাদের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার চেষ্টা করে। এমনকি পাঠ্যবইয়ে মোদি সরকারের অনুরূপে মুসলমানদের বহিরাগত এবং আক্রমণকারী বলার ধৃষ্টতা দেখায়।
জাতিসত্তার উৎসমূল যদি হয় প্রবল এবং হৃদয় প্রোথিত, তাহলে তার উৎপাটন সহজ হয় না। ২০২৪ সালের গণবিপ্লব তা আবার প্রমাণ করেছে। এই গণবিপ্লবের ভিত্তি ছিল এই দেশের মানুষের স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তা। দীর্ঘ ১৭ বছরেও তা বিলীন হয়ে যায়নি। এক/এগারোর শাসকরা ছিল তাদেরই প্রতিনিধি। বাংলাদেশের তৎকালীন সেনাপ্রধানকে ছয়টি ঘোড়া উপহার দিয়ে ভারতীয় শাসকগোষ্ঠী সেই মধ্যযুগীয় ‘অশ্বমেধ যজ্ঞ’-এর প্রতীকী প্রমাণ রেখেছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচন ছিল তাদের ক্ষমতায় আনার মহড়া মাত্র। সেই থেকে ক্রমেই পরিকল্পিতভাবে এ দেশের মানুষের ঈমান-আমান কেড়ে নেয়ার যাবতীয় অপচেষ্টা চালানো হয়। এটি ন্যক্কারজনক সত্য যে, একসময় এ দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সুন্নতি লেবাস পরাও বিব্রতকর হয়ে ওঠে। জাতির সর্বস্তরে বিশেষত শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলাম বিতাড়নের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। আলেম ওলামাদের ওপর নির্মম নিষ্ঠুর আচরণ চলে। ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে নির্মম নিষ্ঠুর রক্তপাত ঘটানো হয়। এমনকি জুমার নামাজে সত্য কথা বলার জন্য ইমামদের অপমান অপদস্থ করা হয়। ওয়াজ মাহফিলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপিত হয়। বিগত ১৭ বছরে সব রাজনৈতিক দলের ওপর অন্যায় অত্যাচারের স্টিমরোলার চালানো হয়। বিএনপিকে নির্মূল করার চেষ্টা করা হয়।
এর পরিণতিতে ২০২৪ সালের গণবিপ্লবে বেপরোয়া রক্তপাত ঘটিয়েও তারা ক্ষমতা রক্ষা করতে পারেনি। অপমানজনক পলায়ন করতে হয় সেখানে (ভারতে), যেটি ছিল তার ক্ষমতার উৎসভূমি। এবারই প্রথম বাংলাদেশে প্রতিবেশীর প্রভাব ছাড়াই স্বকীয় সত্তায় বৈশাখী উৎসব পালিত হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে জাগ্রত রাজনৈতিক নবচেতনায় পালিত হয়েছে এবারের বৈশাখ। এটি দেশ ও জাতিকে নতুনভাবে নিজেদের স্বাতন্ত্র্য নিয়ে ভাববার এবং নিজেদের নতুন করে গড়ে তুলবার ভিত্তি তৈরি করেছে। সবাই অনুভব করেন যে, নতুন উপলব্ধি ও নতুন অভিজ্ঞতা দিয়ে রাজনৈতিকভাবে, সামাজিকভাবে ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে অধীনতার সংস্কৃতি রুখতে হবে। সেই ভাবধারায় এবার ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে বৈশাখী উৎসব পালিত হয়েছে। সমাগত দিনগুলোতে বাংলাদেশের স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয় সত্তায় নববর্ষকে নবভাবে আবিষ্কার করতে হবে। বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাস যেমন বর্ণিল ও বর্ণাঢ্য সেই একইভাবে আমাদের সব উৎসব এবং বিশেষত বৈশাখী উৎসবকে ঢেলে সাজাতে হবে। আমাদের সংস্কৃতি অবশ্যই আমাদের জাতীয় ইতিহাস ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাথে সমন্বয়ধর্মী হতে হবে।
অপ্রিয় হলেও সত্য যে, আমরা দুই ধরনের সাংস্কৃতিক আগ্রাসনে আক্রান্ত। প্রথমটি প্রতিবেশী এবং দ্বিতীয়টি পাশ্চাত্য। ভৌগোলিকভাবে এটি ভারত তথা কলকাতাকেন্দ্রিক সাহিত্য সংস্কৃতি। ‘ধুতি কালচার’ আমাদের নয়। সেই ‘বাবু কালচার’ ছেড়ে আসার জন্য আমাদের অতীত ইতিহাসের কারিগররা রক্ত, শ্রম ও সাধ্য ঢেলে দিয়েছেন। অন্য দিকে, পাশ্চাত্য থেকে আগত হাফপ্যান্ট কালচারও আমাদের নয়। আধুনিকতার নামে বেহায়াপনা, অশ্লীলতা ও শরীর সংস্কৃতি আমাদের স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তাকে ক্রমেই নিঃশেষ করে দিচ্ছে। সংস্কৃতি সম্পর্কে একটি প্রবাদবাক্য এ রকম ‘Culture is that what we are’। আমাদের লোকেরা যদি লুঙ্গি পরে, তাই আমাদের। ধুতি বা হাফপ্যান্ট নয়। আমাদের লোকেরা যদি ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে সেটিই আমাদের সংস্কৃতি। পাশ্চাত্যের ধার করা ‘গুড মর্নিং’-এর অনুবাদ ‘শুভ সকাল’ বা ‘শুভ সন্ধ্যা’ অবশ্যই আরোপিত। আমরা স্যুটেট-বুটেট হয়ে আধুনিক হই। আসলে এটি আমরা যে ২০০ বছর ব্রিটিশের গোলাম ছিলাম তার সাক্ষ্য। এ কথার অর্থ এই নয় যে, আমরা অস্বীকার করব যে একটি বৈশ্বিক পৃথিবীতে আমরা বসবাস করি। আদান-প্রদান, গ্রহণ-বর্জনের নিয়মিত ও নিরন্তর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গড়ে উঠবে আমাদের সংস্কৃতি। কিন্তু জাতির মৌলিক আদর্শ, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির আলোকে তা হতে হবে পরিশীলিত, পরিবর্তিত ও পরিমার্জিত। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আদর্শ ও আলোকে পরিমার্জিত হোক বৈশাখী উৎসবের মতো সব পরিচয়।
লেখক : অধ্যাপক (অব:), সরকার ও রাজনীতি বিভাগ,
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়