মহান আল্লাহ এই জগৎ সৃষ্টি করেছেন এক সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে। এই জগতের কেন্দ্রে রয়েছে মর্যাদাপূর্ণ সৃষ্টি মানুষ। তাদেরই পরীক্ষা চলছে। মানুষ বরাবর সঠিক পথ হারিয়ে ফেলে। আল্লাহ চান তাদের পথে ফিরিয়ে আনতে। তিনি নতুন করে মানুষের চেতনাকে নাড়াতে চান। এ জন্য একটি বিশেষ রাত রয়েছে। সেই সময়ক্ষণটি হিজরি বর্ষপঞ্জির ১৪ শাবান দিবাগত রাত। এটি পুণ্যময় এক রজনী। এ দিন আল্লাহ কিছু মানুষের জন্য সৌভাগ্যের দরজা খুলে দেন। তাদের তিনি হেদায়েতের পূর্ণ আলোতে নিয়ে আসেন।

হজরত মুহাম্মাদ সা: বলেছেন, ‘যখন শাবানের পঞ্চদশ রজনীর আগমন ঘটে, তখন রাতে কিয়াম করো (দাঁড়িয়ে ইবাদত করো), আর দিনে রোজা রাখো। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সূর্যাস্তের পর থেকে প্রথম আসমানে বিশেষ জ্যোতি বর্ষণ করেন এবং বলেন— আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনাকারী কেউ আছ কি? তাকে ক্ষমা করে দেবো।’ পছন্দের বান্দারা এ দিন আল্লাহর পক্ষ থেকে আখিরাত ও দুনিয়ার কল্যাণের বরাদ্দ পান। তারা পরবর্তী জীবনে নিশ্চিতভাবে সফল হয়ে যান। মূলত দীর্ঘ রাত জেগে আল্লাহর মুখাপেক্ষী হওয়া একজন বিশ্বাসীর জন্য করণীয়।

কুরআনুল কারিমে বরকতময় রজনী বা ‘লাইলাতুল মুবারাকাহ’ হিসেবে শবেবরাতের উল্লেখ রয়েছে। হাদিসে শবেবরাতকে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ অর্থাৎ- শাবান মাসের মধ্যরজনী হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। সূরা দুখানে আল্লাহ বলছেন— ‘আমরা এই কুরআনকে এক মহিমান্বিত রাতে অবতীর্ণ করেছি। আমরা অবশ্যই সতর্ককারী। আমারই নির্দেশক্রমে ওই রাতে প্রতিটি প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ে ফয়সালা করা হয়। আর নিশ্চিতভাবে আমিই প্রেরণকারী।’ মানুষ সামান্য পৃথিবীর আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত। লোভ-লালসায় ভারাক্রান্ত। তারা শুধু দুনিয়া চায়। অথচ পরকাল এক অনন্ত সম্ভাবনার। সেখানে রয়েছে এক অনন্ত জীবন। কেউ যদি পরিপূর্ণ বিশ্বাসী হতে পারে সে নিশ্চিত পরকালের অনন্ত সুখের জীবন পাবে। এ জন্য দরকার আল্লাহর পাঠানো নিয়মনীতি অনুযায়ী নিজেকে পরিচালনা করা। এই নিয়মনীতি পরিষ্কার করে কুরআনে উল্লেখ রয়েছে। কুরআন বোঝার সৌভাগ্য এই রাতে আল্লাহ অনুমোদন দেন। এই রাতে আল্লাহ সেই মানুষকে মনোনীত করেন যারা কুরআনের জ্ঞানে আলোকিত হবে।

শবেবরাত সম্পর্কে কিছু ভ্রান্ত বিশ্বাস রয়েছে, কিছু ভুল আমলও অনেকে করেন এ উপলক্ষে। আমাদের দেশে দেখা যায়— আলোকসজ্জা, আতশবাজি, গোরস্তানে আগরবাতি, বিশেষ আইটেমের খাবার উপভোগ ইত্যাদি অর্থহীন ও অপচয়মূলক কাজ। এই কাজগুলো বর্জন করা কল্যাণকর। শিরক, পরশ্রীকাতরতা, মা-বাবার অবাধ্যতা, আত্মীয়তার সম্পর্কচ্ছেদ, ব্যভিচার, মদ্যপান বা নেশা করাসহ সব গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকার সুযোগ এই রাতে অর্জন করতে পারে বিশ্বাসীরা। মানুষ তার অপরাধপ্রবণতা থেকে আল্লাহর করুণা ছাড়া মুক্তি পেতে পারে না। এই বরকতময় রাতে আল্লাহ মানুষকে তারই অনুমোদন দেন।

একজন বিশ্বাসীর জন্য বছরের প্রতিটি রাতই গুরুত্বপূর্ণ। সে প্রতি রাতে পরম করুণাময়ের মুখোমুখি হয়। তবে বরকতময় রাতটির বিশেষত্ব দিয়েছেন আল্লাহ স্বয়ং। ওই রাতের ফজর পর্যন্ত আল্লাহ বিশেষ করুণা বর্ষণ করেন তাঁর বান্দাদের প্রতি। সুতরাং এই রাতে বিশ্বাসীরা আলাদা গুরুত্ব দিয়ে আল্লাহর প্রতি নিবিষ্ট হবেন।