দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সাধারণত ভূগোল, বাণিজ্য, নিরাপত্তা বা আদর্শের নিরিখে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে ইতিহাস প্রায় সব কিছুর ওপর ছায়া বিস্তার করে আছে। সেটি স্বাভাবিক। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ কেবল পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়নি, রাজনৈতিক বিপর্যয়, সামরিক দমন-পীড়ন এবং সামরিক সঙ্ঘাতের মধ্য দিয়ে এ রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জাতীয় চেতনায় গভীরভাবে যুক্ত।
তবে রাষ্ট্রকে বর্তমানে বাস করতে হয়। আজ বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দু’টি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। দুই দেশের সম্মিলিত জনসংখ্যা ৪৩ কোটির বেশি এবং বিশ্বব্যাংকের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, সম্মিলিত জিডিপি প্রায় ৮৬৪ বিলিয়ন ডলার। তাই প্রশ্নটি এখন আর সম্পর্ক থাকবে কি-না তা নয়; প্রশ্ন হলো, সেই সম্পর্ক কেমন হবে এবং কোন শর্তে এগোবে।
সমাধানটি অতীত ভুলে যাওয়া এবং অতীতকে স্থায়ী বিরোধের উৎস বানানোর মাঝামাঝি। অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে, কিন্তু কোনো দেশ যেন অন্যের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল না হয়; সম্পর্কও কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে অবস্থানের ভিত্তি হওয়া উচিত নয়।
রাজনৈতিক বিচ্ছেদের পেছনে অর্থনীতি
পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্কট শুধু ভাষার প্রশ্নে ছিল না; এটি শুধু সাংবিধানিক বিরোধও ছিল না। রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, সম্পদের বণ্টন, বৈদেশিক মুদ্রা আয়, শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতার অসমতা ছিল সঙ্কটের কেন্দ্রে।
১৯৪৯ থেকে ১৯৭০ সালের মধ্যে দুই অংশের মাথাপিছু আয়ের ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। পূর্ব পাকিস্তান বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে বড় অবদান রাখলেও রাজনৈতিক ক্ষমতা, সরকারি ব্যয়, শিল্প বিনিয়োগ ও নীতিনির্ধারণ পশ্চিম পাকিস্তানকেন্দ্রিক— এমন ধারণা বাঙালিদের মধ্যে দৃঢ় হয়।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু ক্ষমতা হস্তান্তর হয়নি। এরপর সাংবিধানিক সঙ্কট, ১৯৭১ সালের মার্চে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর অভিযান এবং শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ। এই ইতিহাস আজো একটি মৌলিক শিক্ষা দেয়— প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর আস্থা ভেঙে গেলে অর্থনৈতিক সম্পর্কও টেকে না। নতুন বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের ভিত্তি তাই হতে হবে পারস্পরিক আস্থা, সমতা ও স্বচ্ছতা।
একাত্তরের অসমাপ্ত অধ্যায়
একাত্তরের নৃশংসতার ব্যাপ্তি ও প্রকৃতি বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতিতে অমোচনীয়। ২০২৫ সালের এপ্রিলে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের আলোচনা পুনরায় শুরু হলে বাংলাদেশ পাকিস্তানের কাছে সুস্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক ক্ষমা এবং আর্থিক দাবির বিষয় উত্থাপন করে— এগুলো নতুন দাবি নয়।
অন্যদিকে, পাকিস্তান দুঃখ বা অনুশোচনা প্রকাশ করেনি— এ কথাও ঠিক নয়। ১৯৭৪ সালের বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে পাকিস্তান অভিযোগকৃত অপরাধের জন্য ‘গভীর দুঃখ’ প্রকাশ করেছিল। প্রায় তিন দশক পরে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ ১৯৭১ সালের ‘বাড়াবাড়ি’র জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন।
অতীতকে স্পষ্টভাবে মোকাবেলা করতে পাকিস্তানের ভয় পাওয়ার কারণ নেই। স্বীকৃতি নতুন সম্পর্ককে শক্ত ভিত্তি দিতে পারে। একই সাথে বাংলাদেশেরও প্রতিটি বাণিজ্যিক লেনদেনের পূর্বশর্ত হিসেবে সব ঐতিহাসিক আর্থিক দাবির নিষ্পত্তি দাবি করার প্রয়োজন নেই। ঐতিহাসিক পুনর্মিলন এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ পাশাপাশি চলতে পারে।
কূটনৈতিক উষ্ণতা ও বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা
সম্পর্কের পরিবর্তন এখন দৃশ্যমান। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ১৫ বছরের বিরতির পর ঢাকায় পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের আলোচনা হয়। আগস্টে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ঢাকা সফর করেন। অক্টোবর ২০২৫-এ ২০ বছরের মধ্যে প্রথমবার যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, যোগাযোগ, ব্যাংকিং, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসহ বিস্তৃত বিষয় আলোচিত হয়।
ভৌত যোগাযোগও বাড়ছে। করাচি-চট্টগ্রাম সরাসরি নৌযোগাযোগ আবার চালু হয়েছে এবং ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি ১৪ বছরের বিরতির পর ঢাকা-করাচি সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও এ যোগাযোগের ধারা থেমে যায়নি। এর অর্থ, সম্পর্ক এখন আর শুধু প্রতীকী সৌজন্যে সীমাবদ্ধ নেই।
তবে অর্থনৈতিক বাস্তবতা এখনো সম্ভাবনার তুলনায় অনেক পিছিয়ে। ২০২৩ সালে দুই দেশের মোট পণ্যবাণিজ্য ছিল আনুমানিক ৭১৪ মিলিয়ন ডলার। সাম্প্রতিক হিসাবে তা প্রায় এক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। কিন্তু দুই দেশের সম্মিলিত অর্থনীতির তুলনায় এটি খুবই ছোট। তার ওপর বাণিজ্য ভারসাম্য পাকিস্তানের পক্ষে।
পাকিস্তান বাংলাদেশে তুলা, সুতা, বস্ত্রের কাঁচামাল, সিমেন্ট, রাসায়নিক ও কৃষিপণ্য রফতানি করে; বাংলাদেশ পাকিস্তানে তুলনামূলকভাবে কম পরিমাণে পাট, ওষুধ, বস্ত্রজাত ও অন্যান্য শিল্পপণ্য রফতানি করে।
প্রতিযোগিতা নয়, মূল্যশৃঙ্খল
বিশেষ করে টেক্সটাইল খাতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান নিজেদের প্রতিযোগী হিসেবে দেখে। কিন্তু আধুনিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মূল্যশৃঙ্খলনির্ভর। এ দিক থেকে দুই দেশের শক্তি পরস্পরের পরিপূরক। বাংলাদেশের শক্তি তৈরী পোশাক উৎপাদন, বৃহৎ রফতানি, সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনা এবং পশ্চিমা ক্রেতাদের সাথে সম্পর্ক। পাকিস্তানের শক্তি তুলা, সুতা এবং টেক্সটাইলের প্রাথমিক ধাপে। যৌথভাবে কাজ করলে উভয় দেশই লাভবান হতে পারে।
বস্ত্রের বাইরেও সুযোগ আছে। বাংলাদেশের শক্তিশালী ওষুধ শিল্প, পাট, চামড়া, সিরামিক, হালকা উৎপাদন ও ডিজিটাল সেবা রয়েছে। পাকিস্তানের কৃষি, সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি, ক্রীড়াসামগ্রী, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বড় ভোক্তাবাজার রয়েছে। এসব খাতকে মূল্যশৃঙ্খলে যুক্ত করা গেলে দুই দেশের বাণিজ্য শুধু কনটেইনার ভর্তি পণ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; প্রযুক্তি, পুঁজি, দক্ষতা ও জ্ঞানের বিনিময়ও বাড়বে।
সহযোগিতার পাঁচটি বাস্তব ক্ষেত্র হতে পারে বস্ত্র ও তৈরী পোশাক, কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা, ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা, হালাল অর্থনীতি এবং ডিজিটাল সেবা। ২০২৫ সালের যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হালাল বাণিজ্য নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। এটিকে হালাল মানদণ্ড, খাদ্য, ওষুধ, লজিস্টিকস ও ইসলামী অর্থায়নে বাস্তব সহযোগিতায় রূপ দেয়া যেতে পারে।
যোগাযোগ বাড়লেও কাস্টমস, ব্যাংকিং চ্যানেল, এলসি, মানের পারস্পরিক স্বীকৃতি, ব্যবসায়িক ভিসা, বীমা ও তথ্যের বাধা দূর করা জরুরি। দক্ষিণ এশিয়ার মোট বাণিজ্যের মাত্র প্রায় ৫ শতাংশ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে হয়, যেখানে আসিয়ানে এ হার প্রায় ২৫ শতাংশ। রাজনীতি দক্ষিণ এশিয়ার ওপর দীর্ঘদিন ধরে বড় অর্থনৈতিক মূল্য চাপিয়ে রেখেছে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান অন্তত নিজেদের সম্পর্কে সেই ভুল পুনরাবৃত্তি না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
পাকিস্তাননীতি যেন ভারতনীতির সম্প্রসারণ না হয়
এখানে বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি এড়াতে হবে। পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নকে ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ২০২৪ সালের পর থেকে চাপের মধ্যে থাকলেও ভূগোলের বাস্তবতায় ভারত সবসময়ই বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী থাকবে।
বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ কৌশলগত বৈচিত্র্যে। ভারতের সাথে কার্যকর সম্পর্ক, চীনের সাথে সম্পৃক্ততা, পাকিস্তানের সাথে যোগাযোগ, আসিয়ান ও উপসাগরীয় অঞ্চল এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সহযোগিতা— সবই একসাথে সম্ভব। প্রয়োজন হলে ঝঊঅঈঙ-এর মতো নতুন আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোটও বিবেচনায় আসতে পারে।
পাকিস্তান এই বৈচিত্র্যময় পররাষ্ট্রনীতির একটি অংশ হবে, ভারতের বিরুদ্ধে পাল্টা ভারসাম্য নয়। ইসলামাবাদেরও বাংলাদেশকে ভারত-পাকিস্তান প্রতিদ্বন্দ্বিতার চোখে দেখা উচিত নয়। ঢাকা ও ইসলামাবাদের প্রয়োজন নিজেদের স্বার্থভিত্তিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে সম্পর্ক নয়।
পরস্পরের কাছ থেকে শেখার সুযোগও আছে। বাংলাদেশ পাকিস্তানের কৃষি গবেষণা, তুলাশিল্প, কিছু প্রযুক্তি খাত ও সাম্প্রতিক সৌরবিদ্যুৎ প্রসারের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে পারে। পাকিস্তান বাংলাদেশের রফতানিমুখী শিল্পায়ন, নারীর শিল্প কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্রঋণ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং সামাজিক উন্নয়নের কিছু অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে পারে।
একটি বাস্তব অর্থনৈতিক কমপ্যাক্ট
সামনের দিকে একটি পরিমাপযোগ্য লক্ষ্য হতে পারে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য অন্তত দুই বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা। শুধু পুরনো পণ্যের পরিমাণ বাড়িয়ে নয়, নতুন পণ্য ও সেবা যুক্ত করে এটি করতে হবে। পাকিস্তান প্রতিযোগিতামূলক বাংলাদেশী ওষুধ, পাটজাত পণ্য, তৈরী পোশাক, চামড়া, সিরামিক ও অন্যান্য শিল্পপণ্যের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমাতে পারে।
পূর্ণাঙ্গ মুক্তবাণিজ্য চুক্তিতে তাড়াহুড়া না করে সীমিত অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি করা যেতে পারে। দুই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং ও ট্রেড ফাইন্যান্স ব্যবস্থা শক্তিশালী করা দরকার, যাতে বৈধ লেনদেনে তৃতীয় দেশের আর্থিক মধ্যস্থতাকারীর ওপর অপ্রয়োজনীয় নির্ভরতা না থাকে।
এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে ঢাকা ও করাচি বা ইসলামাবাদে বার্ষিক বাংলাদেশ-পাকিস্তান ব্যবসায় ও বিনিয়োগ ফোরাম আয়োজন করা যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও সম্পর্কের সাথে যুক্ত করা দরকার। বৃত্তি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ গবেষণা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দুই দেশের মানুষের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
ইতিহাস কারাগার নয়, শিক্ষক হোক
এক অর্থে অর্থনীতি পুরনো বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক ভাঙার পেছনে ভূমিকা রেখেছিল; এখন অর্থনীতিই একটি সুস্থ নতুন সম্পর্ক নির্মাণে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে দুই স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের সমমর্যাদার সম্পর্ক। বাংলাদেশ একাত্তরের স্মৃতি ধরে রাখবে, প্রয়োজনীয় স্বীকৃতি চাইবে, আবার একই সাথে বাণিজ্য, শিক্ষা ও আঞ্চলিক সহযোগিতাও বাড়াবে।
পাকিস্তানেরও শুধু ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে দুই দেশকে কাছে আনার চেষ্টা করা উচিত নয়। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১-এর অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, শুধু ধর্মীয় পরিচয় টেকসই রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সম্পর্কের জন্য যথেষ্ট নয়। ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত রাজনৈতিক সমতা, অর্থনৈতিক পারস্পরিকতা এবং জাতীয় পরিচয়ের প্রতি সম্মান।
সঠিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখলে ১৯৭১ ইতিহাসের কারাগার হয়ে থাকবে না; বরং একটি উন্নত ভবিষ্যৎ নির্মাণের শিক্ষক হয়ে উঠতে পারে।
লেখক : অধ্যাপক, অর্থনীতি ও ফাইন্যান্স বিভাগ, ইউনিভার্সিটি অব নিউ অরলিন্স