মিডিয়া অবশ্যই অস্ত্রের চেয়েও শক্তিশালী হতে পারে, কারণ অস্ত্র কেবল শরীরকে আঘাত করে; কিন্তু মিডিয়া মানুষের মন, চিন্তা এবং পুরো সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। অস্ত্রের শক্তি সাময়িক এবং ধ্বংসাত্মক। মিডিয়ার শক্তি দীর্ঘস্থায়ী, যা মানুষের চিন্তাভাবনা ও সংস্কৃতিকে যুগের পর যুগ বদলে দেয়। অস্ত্র দিয়ে মানুষকে জোরপূর্বক বন্দী করা যায়। মিডিয়া কোনো রক্তপাত ছাড়াই মানুষের মগজ ধোলাই করে তাদের স্বেচ্ছায় অনুগত বানাতে পারে। মিডিয়া যেকোনো সাধারণ বিষয়কে বিশাল রূপ দিতে পারে। আবার বড় কোনো অন্যায়কেও চোখের আড়াল করে দিতে পারে। শুধু তথ্যের জোরে মিডিয়া বড় বড় সরকারের পতন ঘটাতে পারে। স্বৈরশাসকরাও তাই মিডিয়াকে বেশি ভয় পায়।
আধুনিক যুগে যুদ্ধের ময়দানের চেয়ে ‘তথ্যযুদ্ধ’ বা ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ার বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মিডিয়া প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে একটি দেশের মনোবল ভেঙে দেয়া যায়। নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেছিলেন, ‘হাজারটা কামানের চেয়ে তিনটি প্রতিকূল সংবাদপত্র বেশি ভীতিপ্রদ।’ তবে মিডিয়ার এই শক্তি যেমন সমাজ সংস্কারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে, তেমনি অপপ্রচারের মাধ্যমে সমাজে বিশৃঙ্খলাও তৈরি করতে পারে।
মিডিয়া কি সরকারের পতন ঘটাতে পারে?
মিডিয়া যেকোনো দেশের সরকারের পতন ঘটাতে পারে এবং ইতিহাসে এর অসংখ্য শক্তিশালী প্রমাণ রয়েছে। মিডিয়া যখন সরকারের দুর্নীতি, অনিয়ম, নির্যাতন বা ব্যর্থতার সত্য ঘটনাগুলো জনসাধারণের সামনে নির্ভুলভাবে তুলে ধরে, তখন জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই গণক্ষোভ কালক্রমে বিশাল গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়, যা শেষ পর্যন্ত সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করে। আধুনিক যুগে তথ্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গতি এত বেশি যে, স্বৈরাচারী শাসকরাও মিডিয়ার শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে মিডিয়া জনগণের চিন্তাভাবনাকে একতাবদ্ধ করে এবং একটি অন্যায্য শাসনের অবসান ঘটায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির (১৯৭২-৭৪) কথা বলা যায়। ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার দুই সাংবাদিক বব উডওয়ার্ড এবং কার্ল বার্নস্টেইন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের রাজনৈতিক দুর্নীতির খবর ফাঁস করে দেন, যার ফলে অভিশংসনের মুখে পড়ে নিক্সন পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এছাড়া ২০১০-১১ সালের ‘আরব বসন্ত’ আন্দোলনের কথা উল্লেখ করা যায়, যেখানে তিউনিশিয়া, মিসর এবং লিবিয়ার মতো দেশে দীর্ঘদিনের একনায়কতান্ত্রিক সরকারের পতন ঘটেছিল। এই আন্দোলনে আলজাজিরার মতো মূলধারার মিডিয়া এবং ফেসবুক-টুইটারের মতো সামাজিক মিডিয়া জনগণের ক্ষোভকে ছড়িয়ে দিতে এবং আন্দোলনকারীদের একত্রিত করতে মূল ভূমিকা পালন করেছিল। ১৯৯৮ সালে ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘকালীন রাষ্ট্রপতি সুহার্তোর পতনের পেছনেও মিডিয়ার মাধ্যমে তার পরিবারের দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সঙ্কটের খবর প্রকাশ পাওয়া বড় কারণ ছিল।
গোয়েবলস টেকনিক
‘গোয়েবলস টেকনিক’ রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা বা অপপ্রচারের একটি কুখ্যাত মনস্তাত্ত্বিক কৌশল, যার মূল কথা হলো- একটি মিথ্যাকে যদি বারবার, জোরালোভাবে এবং দীর্ঘ সময় ধরে প্রচার করা হয়, তবে সাধারণ মানুষ একসময় তাকে সত্য বলে বিশ্বাস করতে শুরু করে। এই কৌশলের নামকরণ করা হয়েছে হিটলারের জার্মানির তথ্য ও প্রচারমন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলসের নামানুসারে, যিনি নাৎসি পার্টির অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং ইহুদিদের বিরুদ্ধে জার্মান জনগণের মনে ঘৃণা ছড়ানোর জন্য এই পদ্ধতিটি সফলভাবে ব্যবহার করেছিলেন। এই টেকনিকের মূল ভিত্তি হলো মানুষের চিন্তাভাবনাকে যুক্তি দিয়ে নয়; বরং আবেগ, ভয় এবং বিভ্রান্তি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা। গোয়েবলস বিশ্বাস করতেন, সাধারণ মানুষের স্মৃতিশক্তি অত্যন্ত দুর্বল এবং তাদের গভীর রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বোঝার ক্ষমতা কম; তাই জটিল বিষয়কে সরল ও মিথ্যা আখ্যানে রূপ দিয়ে বারবার মানুষের সামনে উপস্থাপন করাই হলো এই কৌশলের মূল লক্ষ্য।
এই কৌশলটি মূলত কয়েকটি ধাপে মানুষের মনস্তত্ত্বের ওপর কাজ করে। প্রথমত, প্রোপাগান্ডাকারীরা একটি বড় এবং আকর্ষণীয় মিথ্যা বা আধা-সত্য আখ্যান তৈরি করে, যা সাধারণ মানুষের অবচেতন মনের ভয় বা আবেগকে স্পর্শ করে। দ্বিতীয়ত, সেই মিথ্যা তথ্যটিকে রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদপত্র এবং বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতো সব শক্তিশালী প্রচারমাধ্যমে একসাথে, বিরতিহীনভাবে প্রচার করা হয়। তৃতীয়ত, এই পদ্ধতিতে কোনো ভিন্নমত বা যুক্তিসঙ্গত পাল্টা প্রশ্নকে গণমাধ্যমে স্থান দেয়া হয় না এবং সমালোচকদের কণ্ঠরোধ করা হয়, যাতে মানুষ অন্য কোনো সত্য জানার সুযোগ না পায়। যখন একটি নির্দিষ্ট মিথ্যা তথ্য মানুষের চারপাশে সকাল-সন্ধ্যা প্রতিধ্বনিত হতে থাকে, তখন মানুষের মস্তিষ্ক যুক্তির দেয়াল ভেঙে সেই তথ্যটিকে একটি ‘স্বাভাবিক সত্য’ হিসেবে গ্রহণ করে নেয়। আধুনিক যুগেও অনেক স্বৈরাচারী শাসক, রাজনৈতিক দল এবং করপোরেট গোষ্ঠী জনমত নিজেদের পক্ষে আনতে বা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াতে এই গোয়েবলসীয় কৌশলের আধুনিক রূপ ব্যবহার করে থাকে।
মিডিয়া ট্রায়াল
মিডিয়া ট্রায়াল বলতে এমন একটি পরিস্থিতিকে বোঝায়, যেখানে কোনো অপরাধ বা ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া আদালতে শেষ হওয়ার আগেই গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সেই বিষয়ে নিজস্ব তদন্ত ও আলোচনা চালিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী বা নির্দোষ সাব্যস্ত করে ফেলে। সহজ কথায়, এটি হলো আদালতের কোনো মামলার সমান্তরাল বিচার চালানো। এর ফলে আইনের চোখে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক সম্মান নষ্ট হয় এবং জনসাধারণের মনে তার প্রতি তীব্র ঘৃণা বা সহানুভূতির সৃষ্টি হয়। এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো, আদালত চূড়ান্ত রায় দেয়ার আগেই সংবাদপত্র, টেলিভিশন টকশো বা সোশ্যাল মিডিয়া কোনো ব্যক্তিকে ‘অপরাধী’ বা ‘দুর্নীতিবাজ’ হিসেবে উপস্থাপন করে। সাধারণত সেলিব্রেটি, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি, খুন বা ধর্ষণের মতো সংবেদনশীল ও হাই-প্রোফাইল মামলাগুলোকে কেন্দ্র করে মিডিয়া ট্রায়াল বেশি হয়। ফৌজদারি আইনের মূল কথাই হলো- আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক ব্যক্তিই নির্দোষ। মিডিয়া ট্রায়াল এই নীতিটিকে সরাসরি অমান্য করে। গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তৈরি হওয়া প্রবল জনমত অনেক সময় পরোক্ষভাবে তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং বিচারকদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করে, যা নিরপেক্ষ বিচারকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। মিডিয়া ট্রায়ালের কারণে উত্তেজিত জনতা অনেক সময় আইন নিজের হাতে তুলে নেয় এবং অভিযুক্তকে সামাজিকভাবে বয়কট বা শারীরিক আক্রমণ করে বসে। গণতান্ত্রিক দেশে গণমাধ্যমের তথ্য প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মিডিয়ার কাজ হলো ঘটনার নিরপেক্ষ তথ্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ তুলে ধরা, নিজেরা বিচারকের আসনে বসে রায় দেয়া নয়।
মিডিয়া ট্রায়াল ও মব জাস্টিস
আজকের আলোচনায় মনে রাখা জরুরি যে, মিডিয়া ট্রায়াল এবং মব জাস্টিস এক জিনিস নয়; তবে এদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সহজ কথায়, মিডিয়া ট্রায়াল হলো প্রচারণার মাধ্যমে জনমত গঠন করা, আর মব জাস্টিস হলো উত্তেজনার বশে সরাসরি আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া। মিডিয়া ট্রায়াল প্রচারণামূলক বা মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়া। টেলিভিশন, সংবাদপত্র, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা এটি করে থাকে। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তির সামাজিক সম্মান নষ্ট হয় এবং জনগণের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অপরদিকে মব জাস্টিস শারীরিক সহিংসতা বা আইন অমান্য করে। উত্তেজিত বা ক্ষুব্ধ একদল উচ্ছৃঙ্খল জনতা এটি করে। এতে মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়, অভিযুক্তের গুরুতর শারীরিক ক্ষতি বা মৃত্যু ঘটে এবং দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা প্রশ্নের মুখে পড়ে। মিডিয়া ট্রায়াল অনেক সময় মব জাস্টিসের মূল জ্বালানি হিসেবে কাজ করে।
গদি মিডিয়া
ভারতে ‘গদি মিডিয়া’ শব্দটি মূলত মূলধারার সেসব গণমাধ্যমকে নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয়, যারা ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তির প্রতি অন্ধ আনুগত্য প্রদর্শন করে। ভুয়া তথ্য এবং মিথ্যা বিবরণী ছড়ানোর ক্ষেত্রে এই মিডিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত বিতর্কিত এবং নেতিবাচক। তারা প্রকৃত সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা, যেমন- বেকারত্ব বা মূল্যবৃদ্ধি থেকে জনগণের নজর ঘোরাতে প্রায়ই কৃত্রিম ও সংবেদনশীল আখ্যান তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায় সত্যতা যাচাই না করেই বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর খবর, এডিটেড ভিডিও বা একপেশে তথ্য পরিবেশন করা হয়। ফলে মূলধারার টেলিভিশন চ্যানেলগুলো অনেক সময় সঠিক তথ্য দেয়ার পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিণত হয়। রিউমর স্ক্যানারের প্রতিবেদনে জানা যায়, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম বাংলাদেশ নিয়ে ভুয়া খবর ও গুজব ছড়িয়েছে। এমন ভুয়া খবর প্রচারের তালিকায় ভারতের অন্তত ৪৯টি গণমাধ্যমের নাম উঠে এসেছে।
মিডিয়ার ক্ষমতা ও সংহতি
মিডিয়া খুব কমই শূন্য থেকে জনমত তৈরি করে। এটি নির্বাচন করে, পুনরাবৃত্তি করে, উন্নত করে এবং সাজায়। যুদ্ধের সময় সেই ক্ষমতা প্রচণ্ড হয়ে ওঠে। একটি শিরোনাম আলোচনাকে আত্মসমর্পণের মতো দেখাতে পারে। রাষ্ট্রীয় দুর্বলতার একটি অবিচলিত খাদ্য আরো নিষেধাজ্ঞা, আরো গোপন পদক্ষেপ এবং আরো সামরিক শক্তিকে মানবিক বলে মনে করতে পারে। একটি সঙ্কীর্ণ যুদ্ধবিরতিকে একটি অনুমিত ঐতিহাসিক সুযোগের বাধা দেয়ার চেয়ে জীবন রক্ষার মতো কম দেখাতে পারে। একটি আলোচনার বিরতিকে একটি কৌশল হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। সহিংসতা হ্রাসকে একটি সুযোগ হিসাবে ফ্রেম করা যেতে পারে।
সত্য এবং প্রোপাগান্ডার
গণমাধ্যমের এই বিশাল যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আপনি কীভাবে সঠিক তথ্য জানবেন সেটি জরুরি বিষয়। কোনটি সঠিক কোনটি ‘চাপাবাজি’ তা যাচাই করে আপনাকে তথ্যের সমুদ্রে সাঁতার কাটতে হবে। সংবাদের সাথে যুক্ত থাকা একটি উত্তম পদক্ষেপ। প্রতিনিয়ত সংবাদের সাথে যুক্ত থাকা এবং খবরের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সত্যকে চেনার সবচেয়ে সহজ উপায়। যখন একজন মানুষ নিয়মিত খবর শোনেন বা পড়েন, তখন তার মস্তিষ্কে ঘটনার একটি ধারাবাহিক প্রেক্ষাপট বা ‘টাইমলাইন’ তৈরি হয়ে যায়। ফলে হঠাৎ করে কোনো গ্রুপ বা আইটি সেল যদি একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বা কাল্পনিক তথ্য বাজারে ছাড়ে, তবে নিয়মিত সংবাদ পাঠক বা দর্শক খুব সহজেই সেই তথ্যের অসঙ্গতি ও অস্বাভাবিকতা ধরে ফেলতে পারেন। দীর্ঘ সময় সংবাদের বাইরে থাকলে এই প্রেক্ষাপটটি হারিয়ে যায়, যা মানুষকে গুজবের প্রতি আরো বেশি অরক্ষিত করে তোলে।
তবে এই চমৎকার অভ্যাসের পাশাপাশি আরেকটি ছোট কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা জরুরি, তা হলো- নামকরা বা সুনাম আছে এমন মিডিয়ারও অন্ধ অনুকরণ না করা। বর্তমান করপোরেট ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেক সময় সুপ্রতিষ্ঠিত ও বড় বড় গণমাধ্যমও নিজস্ব অ্যাজেন্ডা, ব্যবসায়িক স্বার্থ বা সরকারি চাপের কারণে সত্যকে আড়াল করে কিংবা আংশিক সত্য প্রচার করে। তাই সুনাম থাকা মিডিয়াকে ফলো করার পাশাপাশি সমসাময়িক আরো দুই-একটি ভিন্ন ঘরানার বা স্বাধীন নিউজ পোর্টালের খবরের ওপর চোখ বুলানো বুদ্ধিমানের কাজ। এটি একজন মানুষকে কোনো একটি নির্দিষ্ট মিডিয়ার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি বা প্রোপাগান্ডার ফাঁদে পড়া থেকে রক্ষা করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ সত্যটি বুঝতে সাহায্য করে।
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব ও গ্রন্থকার