এশিয়া অঞ্চল থেকে শেষ রণতরী সরাচ্ছে পেন্টাগন

Printed Edition

এপি

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলোর সক্ষমতার ওপর ক্রমেই চাপ বাড়াচ্ছে। একই সময়ে চীন যখন আরো আগ্রাসী মনোভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তখন পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর একটি থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছে।

মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাচ্ছে। সেখানে এটি ইউএসএস আবরাহাম লিংকনের স্থলাভিষিক্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন সমুদ্রে অবস্থান করা লিংকনে মানসিক স্বাস্থ্য ও সরবরাহসংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যেই এই পরিবর্তন আসছে। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সহায়তা করার জন্য লিংকনের সমুদ্রে থাকার সময়সীমা তার নির্ধারিত মে মাসে ফেরার তারিখের পরও বাড়ানো হয়েছে।

আগামী এক-দুই মাসের মধ্যে নৌবাহিনী আরেকটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন কোনো ক্যারিয়ার না থাকার পরিস্থিতি হয়তো খুব বেশি দিন স্থায়ী হবে না। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান অনির্দিষ্টকালীন সামরিক অভিযান কিভাবে মার্কিন নাবিকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে- এই ঘটনা তারই একটি উদাহরণ। একই সাথে ট্রাম্প প্রশাসন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে আরো মনোযোগ সরিয়ে পশ্চিম গোলার্ধে গুরুত্ব দিচ্ছে।

মার্কিন থিংকট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া কর্মসূচির পরিচালক গ্রেগ পোলিং বলেন, ট্রাম্প ‘প্রশাসন বলছে, পশ্চিম গোলার্ধের পর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র তার আগে প্রকাশ করা মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরে আসার লক্ষ্যের ঠিক বিপরীত কাজ করছে।’ পোলিংয়ের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন মিত্ররা রিপাবলিকান প্রশাসনের অনির্দেশ্য নীতিতে অস্বস্তিতে রয়েছে। অন্যদিকে বেইজিং ‘যুক্তরাষ্ট্রের ব্যস্ত হয়ে পড়া, তার মিত্র ও অংশীদারদের হতাশা নিয়ে বেশ খুশি।’

বেইজিং মনে করে, এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি চীনের উত্থানের জন্য হুমকি এবং স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ান নিজের নিয়ন্ত্রণে নেয়ায় তার উচ্চাকাক্সক্ষার পথে বাধা। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি হলো, অর্থনৈতিক দিক থেকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে সেটি হারানোর সুযোগ নেই।

কেবল একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী অঞ্চল ছেড়ে যাওয়ায় চীন তাইওয়ানে হামলা চালাবে, এমনটা কেউ মনে করছেন না। তবে ওই ক্যারিয়ারের অনুপস্থিতি চীনকে নিজের শক্তি প্রদর্শনের আরেকটি সুযোগ করে দিচ্ছে বলে মনে করেন হাডসন ইনস্টিটিউটের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এবং সাবেক নৌবাহিনীর সাবমেরিনার ব্রায়ান ক্লার্ক।

ক্লার্ক বলেন, ‘ফিলিপাইন, জাপান, ইন্দোনেশিয়া এবং অন্য দেশগুলোর কাছে এটা দেখানোর বয়ানের অংশ হিসেবেই তারা এটিকে ব্যবহার করছে যে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্র আর সবচেয়ে বড় শক্তি নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘তারা শুধু চায়, এই অঞ্চলের দেশগুলো যেন মনে করতে শুরু করে যে চীনই বড় শক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্র আর তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে সক্ষম নয়।’

চীন চলতি সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়ার সাথে নৌমহড়া করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে জাপান ও ফিলিপাইনের বিরুদ্ধেও বেইজিংয়ের আগ্রাসী আচরণের নানা লক্ষণ দেখা গেছে। দেশ দু’টি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র এবং উভয়ের সাথেই চীনের আঞ্চলিক বিরোধ রয়েছে।