জামালপুর শহরে লাইসেন্সধারী ইজিবাইক রয়েছে সাড়ে চার হাজার। লাইসেন্সবিহীন ইজিবাইক আছে আরো ষোলো হাজার। নিয়ন্ত্রণহীনভাবে যানবাহন বৃদ্ধি, অপর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা ও যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং করায় শহরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে এ তথ্য উঠে এসেছে। যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে পড়ে থেকে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন জামালপুর শহরবাসী। তবে পৌর কর্তৃপক্ষ যানবাহনের লাইসেন্স দিলেও যানজট নিরসনে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই।

শহরের প্রধান সড়কে দু’পাশে তমালতলা মোড়, বুড়ির দোকান মোড়, দয়াময়ী মোড়, ভোকেশনাল মোড়, শফি মিয়ার বাজার মোড়, সকাল বাজার, বকুলতলা মোড়, ফৌজদারি মোড় এলাকায় গড়ে উঠেছে বড় বড় বিপণিবিতান, ব্যাংক, বীমাসহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। এসব এলাকার ভেতর দিয়ে চলে গেছে শহরের প্রধান সড়ক। এ সড়ক দিয়ে রিকশা, ভ্যান, ইজিবাইক, অটোরিকশাসহ ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল করে। এ ছাড়া সড়কে গড়ে উঠেছে ইজিবাইক ও অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড। ফলে সড়কটি দিয়ে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

পৌরসভার হিসাব মতে, শহরের আয়তন ৫৩ দশমিক ২৮ বর্গকিলোমিটার। ২০১৫ সাল থেকে শহরে চলাচলে ইজিবাইকের লাইসেন্স দেয়া শুরু। ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে পৌরকর্তৃপক্ষ ইজিবাইকের লাইসেন্স দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। শহরে চলাচলে পৌরসভার লাইসেন্সধারী চার হাজার ৩০০টি ইজিবাইক রয়েছে। এর বাইরে লাইসেন্সবিহীন আছে আরো ১৬ হাজার। মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ লাইসেন্সধারী গাড়ি রয়েছে প্রায় ৫০ হাজার।

সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে মানুষের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান বাড়ছে। মানুষ শহরমুখী হচ্ছে। নগরায়ন হচ্ছে। শহরমুখী মানুষের এ স্রোত আগামী দিনে বাড়বে ছাড়া কমবে না। এসব মানুষের চলাচল সহজ করতে অতীতে রিকশার মতো কিছু বাহন থাকলেও সময়ের ব্যবধানে ইজিবাইকসহ নানা যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে। যানবাহনগুলো কতটা পরিবেশবান্ধব আর কতটা ক্ষতিকর তা দেখার বিষয় হলেও মানুষের চলাচল মসৃণ করাও জরুরি। এদিকে জেলা শহরের রাস্তাঘাট অনেকটা আগের মতো রয়েছে। শহরের সড়ক বাড়ানো ও প্রশস্তকরণের বিকল্প নেই। এ সত্য শুধু জামালপুর জেলা শহর নয়, দেশের অনেক জেলা শহরের জন্য প্রযোজ্য। এ ছাড়া শহরের ফুটপাথগুলো দখল করে দোকানপাট বসায়ও যে যানজটের সমস্যা হচ্ছে; সেদিকে কর্তৃপক্ষের নজর দেয়া দরকার। ফুটপাথের দোকানগুলো সরিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে বসানোর ব্যবস্থা করলে যানজট সমস্যা অনেকটা কমে আসবে।

শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে যারা রয়েছেন সবার আগে তাদের উদ্যোগ প্রয়োজন। শহরগুলোতে রাস্তার পাশে গড়ে ওঠা দোকানের সামনে গাড়ি পার্কিংয়ে যে পরিমাণ ফাঁকা জায়গা রাখার দরকার, দোকান মালিকরা তা রাখেন না। যে কারণে এসব দোকান ঘিরে যে যানজট হয় তাতে মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।

আমরা আশা করি, জামালপুর জেলা প্রশাসন শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা জনবান্ধব করতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে বসে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন। মানুষের চাহিদার আলোকে যেসব যানবাহনের উদ্ভব হয়েছে সেগুলো সহসাই যেমন বাদ দেয়ার সুযোগ নেই, তেমনি জনচলাচলও মসৃণ রাখতে হবে।