বাংলাদেশে শিল্প এলাকাগুলোতে অন্যান্য নিরাপত্তা দুর্বলতার পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। পুরান ঢাকার মতো ঘিঞ্জি ও খুব ব্যস্ত এলাকায়ও বারুদের স্ত‚পের মধ্যে ব্যবসাবাণিজ্য ও কারখানা চলমান। ওই এলাকায় উপর্যুপরি অগ্নিকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি হলেও আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণ দূর করা যায়নি। যেকোনো সময় সেখানে আগের মতো বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ফের ঘটতে পারে। নতুন গড়ে ওঠা শিল্প এলাকাগুলোতে একই প্রবণতা বিদ্যমান। আগে থেকে অগ্নিকাণ্ডের উচ্চ ঝুঁকির পাশাপাশি ওই সব এলাকায় দ্রæত অগ্নিনির্বাপণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়নি। চট্টগ্রাম রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (সিইপিজেড) এ ধরনের একটি অগ্নিকাণ্ড দেখা গেল। শিল্পকারখানা ও জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের মধ্যে যথেষ্ট সতর্কতা নেই। শত্রু ও দুষ্কৃতকারীরাও দেশকে বিপদে ফেলতে এই দুর্বলতার সুযোগ নিতে পারে।

সিইপিজেডের একটি সাততলা ভবনে গত বৃহস্পতিবার আগুন লাগে। আগুন নেভাতে সাড়ে ১৭ ঘণ্টা সময় লাগে। যদিও এর মধ্যে মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। অর্থাৎ পরিস্থিতি অনুক‚লে থাকার পরও সময়মতো আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। সিইপিজেড আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শিল্প এলাকা। এর যাত্রা ১৯৮৩ সালে। ৪৫৩ একর জমির ওপর শিল্প এলাকাটি গড়ে ওঠে। বহু আগে এর সব প্লটে কারখানা স্থাপিত হয়েছে। নতুন কোনো জায়গা না থাকায় সেখানে পুরনো ভবন ভেঙে নতুন বহুতল ভবন তৈরি হচ্ছে। এখানে কর্মসংস্থান হয়েছে দুই লাখের বেশি মানুষের। বার্ষিক এ শিল্পাঞ্চল থেকে রফতানি ২০০ কোটি ডলার। এ ধরনের একটি পরিকল্পিত শিল্প এলাকায় অগ্নিনির্বাপণের যে ত্বরিত ব্যবস্থা থাকার কথা, তা ছিল না। অনেকসময় পরে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিস। আগুন নেভাতে চট্টগ্রাম শহর থেকে ফায়ার সার্ভিসের সব ক’টি ইউনিট যোগ দেয়। যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতার পাশাপাশি ঘিঞ্জি, অপরিসর রাস্তা ও যানজটে অগ্নিনির্বাপণের কাজ বিলম্বিত হয়।

একটি তোয়ালে, ক্যাপ ও সার্জিক্যাল গাউন তৈরির কারখানার গুদামে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। সাততলায় অবস্থিত ওই গুদাম থেকে পরে ছয়তলা ও পাঁচতলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে তা পুরো ভবন গ্রাস করে। ওই ভবনে ৭০০ শ্রমিক কাজ করে। আগুন লাগার সাথে সাথে ফায়ার অ্যালার্ম দিয়ে শ্রমিকদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে। কেউ আহত কিংবা অগ্নিদগ্ধ হননি। তবে এ ধরনের আগুনের উৎস নিয়ে সন্দেহ রয়ে যায়। এর আগে সীতাকুণ্ডে কেমিক্যাল কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও আগুনের ঘটনা ঘটে। বিগত কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার অগ্নিকাণ্ডে অত্র বাণিজ্যিক অঞ্চলে বড় ধরনের প্রাণহানি ও বিপুল সম্পদহানির ঘটনা সেখানে ঘটেছে। এগুলো অন্তর্ঘাতমূলক কাজ কি না গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত হওয়া দরকার। কারণ কারখানায় আগুন ধরিয়ে দেয়া সহজ। সেখানে উচ্চ দাহ্য পদার্থ থাকে। দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করায় এমনটি হচ্ছে কি না সেটি খতিয়ে দেখতে হবে।

গত কয়েক দিন আগে ঢাকার মিরপুরে একটি অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ওই অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানি ঘিঞ্জি এলাকায় কারখানা তৈরির কারণে ঘটেছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো থেকে আমরা শিক্ষা নিচ্ছি না। আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে, আমাদের জন্য সামনে বড় ধরনের দুর্ঘটনা হয়তো অপেক্ষা করছে।