প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ‘আইনের শাসন কাকে বলে আমরা দেখিয়ে দিতে চাই।’ নির্বাচন সামনে রেখে প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে গত মঙ্গলবার এক বৈঠকে এই মন্তব্য করেন তিনি। বৈঠকে প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তারা নানামুখী চ্যালেঞ্জের কথা জানান। তাতে আশাবাদের কথা যেমন আছে, তেমনি শঙ্কার কারণও প্রকাশ পেয়েছে।

সব বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং আঞ্চলিক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়ে এ বৈঠক হয়। সেখানে রাজনৈতিক দলের আশ্রয়ে থেকে সন্ত্রাসীদের তৎপরতা, অবৈধ অস্ত্র ও অর্থের প্রবেশ, সামাজিক মাধ্যমের নেতিবাচক ব্যবহারসহ সম্ভাব্য প্রায় সব ধরনের চ্যালেঞ্জের বিষয় উঠে আসে।

নির্বাচন কমিশনাররা বলেছেন, এই নির্বাচন ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যর্থ হবে। তারা নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে দরকারি সব ধরনের আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেন মাঠ প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের। কমিশনাররা আরো বলেন, আইনানুগ কাজ করলে ইসি পাশে থাকবে।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, নির্বাচন সফল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার সম্পূর্ণ সক্ষমতা তাদের আছে।

বাস্তবতা হলো- গত প্রায় দুই দশকে দেশে কোনো নির্বাচন হয়নি। নির্বাচনের নামে হয়েছে প্রহসন। মানুষের ভোটাধিকার ছিল না। জুলাই বিপ্লবের পর এখন একটি অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বে। তারা দেশকে সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ছাড়া দেশ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যাত্রা শুরু করতে পারবে না। তাই এ নির্বাচনের গুরুত্ব গত ৫৪ বছরের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্বাচন এমন হতে হবে, যেন এর গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো অবকাশ না থাকে।

নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে যেসব বিষয় উঠে আসে সেগুলো বিদ্যমান বাস্তবতা। কিন্তু অদৃশ্য নানা বাস্তবতাও আছে। পতিত স্বৈরাচারের দোসররা প্রশাসনের ভেতর থেকে নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করছে। বাইরের শক্তি এখানকার বিশেষ শক্তিকেন্দ্র ব্যবহার করে খুন-জখমসহ আইনশৃঙ্খলার সার্বিক অবনতি ঘটাচ্ছে। এটি পুরো নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার পাঁয়তারা। একই কারণে কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সঙ্কট সৃষ্টি করে নির্বাচন নিয়ে দেশবাসীর মনোযোগ ভিন্ন দিকে সরিয়ে নেয়ার অপচেষ্টা হচ্ছে। সীমান্তে হুমকি সৃষ্টি করা হলে জনগণ নির্বাচন প্রসঙ্গ ছেড়ে আগ্রাসন মোকাবেলায় ঝাঁপিয়ে পড়বে। নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এটি তথাকথিত ‘অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচনের বয়ানের সাথে সম্পর্কিত। এই সূত্রে নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি নানা নেতিবাচক ভিডিও-অডিও বার্তা।

নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র খুব বেশি উদ্ধার হয়নি। অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে পুলিশ কারো সাহায্য পাচ্ছে না- এমন অভিযোগ করেছেন একজন। বৈধ অস্ত্রও জমা নেয়া হয়নি। ফ্যাসিবাদের দোসর ও অপরাধীরা কারাগারে বসেও অপরাধচক্র সক্রিয় করতে পারছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে এমন শোরগোল ফেলার চেষ্টা হচ্ছে, যাতে জনমনে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে, মানুষ ভোটকেন্দ্রে যেতে ভয় পান। তাহলে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কমবে। এগুলো বড় সমস্যা, যা নির্বাচন কমিশনকে আমলে নিতে হবে। যা করার দ্রুত করতে হবে। কারণ সময় আছে সামান্যই।