ঈদ এলেই মানুষের মধ্যে একধরনের উদ্বেগ কাজ করে। এই উদ্বেগ যেমন সড়ক ও রেলপথে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিয়ে, তেমনি বাস ও ট্রেনের টিকিট পাওয়া নিয়েও। অথচ কর্তৃপক্ষের যথাযথ আন্তরিক পদক্ষেপ ঈদযাত্রা সুন্দর ও আরামদায়ক করতে পারে।

আসন্ন ঈদুল আজহায় ঢাকা থেকে প্রায় দেড় কোটি মানুষ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করবেন। আর এই মানুষের অধিকাংশই যাতায়াত করবেন সড়কপথে। তাই সড়কপথ নিয়ে আশঙ্কাটা একটু বেশি।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এবার ঈদযাত্রায় সড়কপথে ঘরমুখী মানুষের দুর্ভোগের কারণ হতে পারে ৯৪টি যানজটপ্রবণ স্পট। এসব স্পট ছাড়াও শ্রমিক অধ্যুষিত গাজীপুর, আব্দুল্লাহপুর, বাইপাইল এলাকার সড়কে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়াও ঈদে দেশের চারটি প্রধান মহাসড়কে ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বৃষ্টির কারণে তৈরি হওয়া খানাখন্দ, মেঘনা সেতুর টোলপ্লাজায় ধীরগতি এবং সড়কের ধারের পশুর হাট যানজট সৃষ্টি করতে পারে। ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কে যমুনা সেতুর সরু পথ বা ‘বটলনেক’, এলেঙ্গায় ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ এবং চন্দ্রা মোড়ে রাস্তা সরু হয়ে যাওয়ায় যানবাহনের জটলা হওয়ার ঝুঁকি আছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চার লেনের কাজ চলায় খোঁড়াখুঁড়ি, রাস্তার গর্ত এবং যেখানে-সেখানে বাস থামানোর কারণে যাত্রীদের দেরি হতে পারে। এ ছাড়া ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর অংশে বৃষ্টি হলেই পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, যা এ পথের ঘরমুখী মানুষের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

অন্য দিকে রেলের অর্ধেকের বেশি (প্রায় ৫১ শতাংশ) ইঞ্জিন নিয়মমাফিক আয়ুষ্কাল অতিক্রম করেছে। ট্রেন পরিচালনার সময় তাই প্রায়ই বিকল বা দুর্ঘটনায় পড়ছে পুরনো সব ইঞ্জিন। আছে কোচের সঙ্কটও। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইঞ্জিন ও কোচ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এ সঙ্কট আরো প্রকট হয়েছে। এসব কারণে রেলযাত্রায়ও ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে।

পথের এই শঙ্কার সাথে সুলভ মূল্যে টিকিট প্রাপ্তির নিশ্চিয়তা মানুষ কখনোই পায় না। নির্ধারিত দামের অধিক দাম নেয়া বাসমালিকদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

যাত্রীদের ভোগান্তিহীন ঈদযাত্রা নিশ্চিতে সরকারকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। যানজটপ্রবণ স্পটগুলোতে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমের দ্রুত যান চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। চারটি মহাসড়কের যেসব স্থানে খানাখন্দ আছে, ঈদের আগেই সেগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত গাড়ি চলাচলের উপযোগী করে রাখতে হবে। ঈদে রেলের ইঞ্জিন বিকল হওয়া কিংবা মাঝপথে রেলের বগিতে আগুন লাগা বন্ধ করতে ইঞ্জিন মেরামত নিশ্চিত করতে হবে। সড়কে কোরবানির পশুর গাড়িতে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। একই সাথে সড়কের পাশে যেন কোনোভাবেই পশুর হাট না বসে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এতে সড়কে যানজট কমবে।

গত ঈদে পোশাকশ্রমিকদের ঈদের ছুটি ধাপে ধাপে দেয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। ফলে এক দিনে সবার ছুটি হওয়ায় সড়কে চাপ বাড়ে এবং যানজট বেড়ে যায়। পোশাকশ্রমিকদের ধাপে ধাপে ছুটি নিশ্চিতে বিজিএমইএকে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ বিষয়ে পোশাক কারখানার মালিকরাও আন্তরিক হবেন বলে আমরা আশা রাখি। শুধু পোশাকশ্রমিক নয়, অন্যান্য বেসরকারি চাকরিজীবীদেরও ধাপে ধাপে ঈদের ছুটি দেয়া যায় কি না, ভাবা দরকার।

ভোগান্তিহীন ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে অনেক কথাই শোনা যায়। কিন্তু প্রতিটি ঈদে ভোগান্তিই যেন মানুষের নিয়তি হয়ে দাঁড়ায়। আমরা ঈদযাত্রায় মানুষের ভোগান্তি আর দেখতে চাই না। এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি সব পক্ষের সহযোগিতা কামনা করি।