দেশের সবচেয়ে বড় সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ। নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও দিনাজপুরের হাজার হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দেয় এ প্রকল্প। কিন্তু পাথরখেকোদের উৎপাতে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ বিপন্ন হয়ে পড়েছে। একটি সহযোগী দৈনিকের নীলফামারী প্রতিনিধির প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

উল্লিখিত প্রতিবেদন বলছে, ‘উত্তরবঙ্গের প্রাণ’খ্যাত তিস্তা ভয়াবহ সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় চলছে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের মহোৎসব। প্রভাবশালী চক্রের মদদে শত শত ইঞ্জিনচালিত নৌকা ব্যবহার করে নদী থেকে তুলে নেয়া হচ্ছে হাজার হাজার ঘনফুট পাথর। ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি ভাঙনের কবলে পড়ে ভিটেমাটি হারাচ্ছে মানুষ।

প্রতিদিন উপজেলার বাইশপুকুর, চরখড়িবাড়ি, একতা বাজার, তেলির বাজার, তিস্তাবাজার, কালীগঞ্জ ও ছোটখাতা গ্রোয়েন বাঁধসহ ১৫-২০টি স্থানে চলছে পাথর উত্তোলন। নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে পাথর-বালু উত্তোলনের তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে। নদীর পাড়, ফসলি জমি, বসতভিটা ভাঙনের কবলে পড়ছে। শত শত ট্রলি দিয়ে নদীর পাড় থেকে পাথর পরিবহন করায় তিস্তার ডান তীরের বাঁধ ও রাস্তাঘাটের ক্ষতি হচ্ছে।

পাথর বোঝাই ভারী ট্রাক্টর চলাচলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ নদীর ডানতীরে প্রধান বাঁধ ও সড়ক চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলে পাথর পরিবহন, যা নদীর পাড় থেকে সঠিবাড়ি বাজার, ডালিয়া বাজার সড়কের ধারে স্তূপ করে রাখা হয়। সেখান থেকে রাতারাতি পাথর বিক্রি করা হচ্ছে। অবৈধভাবে পাথর-বালু উত্তোলন করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ‘তিস্তা নদীতে পাথর বা বালুমহাল নেই। নদী থেকে পাথর-বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। নদীর বালু-পাথর উত্তোলনের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব প্রশাসনের। বাঁধসহ বিভিন্ন অবকাঠামো রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের।

প্রভাবশালী চক্রের মদদে শত শত ইঞ্জিনচালিত নৌকা ব্যবহার করে তিস্তা নদী থেকে অবাধে পাথর উত্তোলনের বিষয়ে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান বলেন, ‘নদী বা মাটির তলদেশ থেকে পাথর ও বালু উত্তোলনের আইনগতভাবে সুযোগ নেই। এটি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।’

প্রশ্ন হলো- প্রশাসনের অভিযান সত্তে¡ও কেন কিছু দিন পর আবার নদীর বুক খুঁড়তে শুরু করে দুর্বৃত্তচক্র? অথচ তিস্তাপাড়ের মানুষ অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে। প্রতিদিন তাদের ভিটেমাটি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নদীভাঙনে কী তিস্তাপাড়ের মানুষের উদ্বাস্তুতে পরিণত হতে হবে?

সাধারণত ক্ষমতার অপব্যবহারকারীরা বালু-পাথর ইত্যাদি লুটের সাথে জড়িত থাকে। আইন সেখানে নিশ্চুপ। আইন সবার বেলায় সমানভাবে প্রয়োগ করা হলে এমন অবস্থা হতো না। একমাত্র গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনের সমান প্রয়োগ সম্ভব। কিন্তু ২০০৯-২৪ সাল পর্যন্ত পতিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে এটি সম্ভব ছিল না। তখন গোষ্ঠীস্বার্থে আইনের প্রয়োগ দেখা গেছে। কিন্তু এখন ফ্যাসিবাদ-উত্তর দেশে আইনের প্রয়োগ যথাযথভাবে নিশ্চিত করার অবকাশ রয়েছে।