বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ইতিবাচক খবর খুব একটা সামনে আসে না। নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে দেশের অন্য অনেক প্রতিষ্ঠান যখন ডুবছে, এই প্রতিষ্ঠানটিও এর ব্যতিক্রম ছিল না। অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বরং বিমান বাংলাদেশ বিগত বছরগুলোতে আরো বেশি আলোচনায় ছিল। এবার দেখা যাচ্ছে উপর্যুপরি কারিগরি ত্রুটির কবলে পড়ছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থাটি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সেবা নিয়ে অভিযোগের অন্ত ছিল না, এখন তাতে যুক্ত হলো নিরাপত্তার প্রশ্নটিও। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে ত্রুটির কারণে দুটো বিমানের উড্ডয়ন বাতিল করতে হয়েছে। জীবনহানির ঝুঁকি থেকে বাঁচা গেলেও এতে যাত্রীদের বড় ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

রোববার নেপালের কাঠমান্ডুতে বিজি-৩৭২ ফ্লাইটের উড়োজাহাজে উড্ডয়নের আগ মুহূর্তে কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ে। স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় ঢাকার উদ্দেশে বিমানটির যাত্রা শুরুর কথা ছিল। নির্ধারিত সময় যাত্রীসমেত রানওয়ের দিকে এগিয়ে যায় বিমান। এ সময় ত্রুটি শনাক্ত হয়। পরে উড্ডয়নের বদলে এটি পুনরায় টার্মিনালে ফিরিয়ে এনে অপেক্ষমাণ রাখা হয়। এতে বিপদে পড়েন ১২৭ যাত্রী। বিজনেস ক্লাসের যাত্রীদের লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়া হলেও সাধারণ যাত্রীরা চরম অসুবিধায় পড়েন। আরেকটি উড়োজাহাজ পাঠিয়ে যাত্রীদের ঢাকায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়। রাত ১০টায় তারা ঢাকার দিকে রওনা হন। এই সঙ্কটের অবসান হলেও বিমান বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনাগত গাফিলতি বরাবরের মতো স্পষ্ট।

গত ৭ আগস্ট রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আরেকটি ফ্লাইট আটকা পড়ে। ওই বিমানে আড়াই শতাধিক যাত্রীকে ৪০ ঘণ্টা ভোগান্তি পোহাতে হয়। বয়স্ক নারী ও শিশু এবং অসুস্থরা বড় বিপদে পড়ে যান। যাত্রীদের থাকা খাওয়া ও বিশ্রামের ব্যবস্থায় সময়মতো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এমনকি বিমানটির জন্য মেরামত ও যন্ত্রাংশ সরবরাহ করারও সেখানে ব্যবস্থা ছিল না। আশপাশে কোথাও থেকে এর আঞ্জাম দেয়ার সুযোগ তারা গ্রহণ করতে পারেনি। পরে ঢাকা থেকে প্রকৌশলী দল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ পাঠিয়ে জাহাজটি সচল করতে হয়েছে।

বিষয়টি তখন ব্যাপক সমালোচনা হলেও যাত্রীদের কষ্ট লাঘবে ত্বরিত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষ সময়মতো সমাধান করতে পারেনি। তবে এ ঘটনার জন্য পরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে সংস্থাটির মহাব্যবস্থাপক ও জনসংযোগ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। কাঠমান্ডুতে আটকাপড়াদের দ্রুত সরিয়ে আনতে আগের শাস্তির উদাহরণ কাজে আসে। তবে এই শাস্তি কেবল লোকদেখানো কিনা সেটি ভবিষ্যতে দেখা যাবে। অনেক সময় প্রতিষ্ঠানগুলো তাৎক্ষণিক ক্ষোভ প্রশমনে এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে থাকে। ফ্লাইট বিপর্যয় হলে যাত্রীদের তাৎক্ষণিক সহযোগিতা করার প্রস্তুতি বিমান কর্তৃপক্ষের থাকা উচিত। প্রতিষ্ঠিত বিমান সংস্থাগুলো সবসময় সেই প্রস্তুতি রাখে।

একটি রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটি যাত্রী ভোগান্তি ছাড়াও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনাম ও ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন করে। কেন বারবার এই সমস্যা হচ্ছে তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা উচিত। এজন্য কারো গাফিলতি থাকলে সেটি চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। পরপর এভাবে ফ্লাইট বাতিল হলে যাত্রীদের আস্থাও তলানিতে ঠেকে। বিমান পরিচালনায় কর্তৃপক্ষকে যে আরো সতর্কতা ও দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে, এই দুই ঘটনা তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।