শীতকাল ধনী বা সামর্থ্যবানদের কাছে আনন্দের কিংবা আরামদায়ক হলেও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কষ্টের শেষ থাকে না। তীব্র শীত দিন এনে দিন খাওয়া মানুষের কাজে যেমন বিঘ্ন ঘটায়, তেমনি গরম কাপড়ের অভাবে শীত নিবারণ করাও তাদের পক্ষে কষ্টকর হয়ে ওঠে। ফলে এসব মানুষ দুই দিক থেকে দুর্ভোগে পড়েন।

এবার শীত মৌসুমে হঠাৎ করে তিন দিন ধরে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের কষ্ট আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। দুশ্চিন্তার বিষয় হলো- আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, এমন শীত আরো কয়েক দিন থাকতে পারে। এতে করে গরিব মানুষের কষ্ট আরো বাড়বে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

আবহাওয়া অধিদফতরের বরাতে গণমাধ্যমের খবর, দেশে গতকাল শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় যশোরে, ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই দিন ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়ার পূর্বাভাস, আগামী কয়েক দিন সারা দেশে তাপমাত্রা আরো কমতে পারে। বাড়তে পারে শীতের তীব্রতা। পাশাপাশি থাকবে কুয়াশার প্রকোপ। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার (পাঁচ দিন) আবহাওয়ার বিষয়ে এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

দেশে গত কয়েক দিন ধরে শীতের প্রভাব বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের কথা বলা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, এ বলয়ের প্রভাবে দেশে শীতের তীব্রতা আরো বাড়তে পারে। এ বলয়ের বর্ধিতাংশ এখন আমাদের দেশের পার্শ্ববর্তী ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো বিত্তবানদের জন্য একটি মানবিক দায়িত্ব। কোনোভাবে বা কোনো অজুহাতে এই দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার নয়। তীব্র শীতে কষ্টে থাকা অসহায়, দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের উষ্ণতা পূরণে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা সমাজের ধনী ও সামর্থ্যবানদের অবশ্যকরণীয় কাজের একটি। এটি মানবিক ও ধর্মীয় কর্তব্য, যা আমাদের পারস্পরিক ভালোবাসা ও মমত্ববোধ প্রকাশ করে।

সরকারের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বা ব্যক্তি শীতবস্ত্র বিতরণ, নগদ অর্থ সহায়তা, খাবার ও ওষুধ দিয়ে শীতার্ত মানুষের সহায়তায় পাশে দাঁড়ালে, তা তাদের দুঃখ দূর করতে ও জীবন সহজ করতে সাহায্য করবে। তবে এ কথা বলা অত্যুক্তি হবে না যে, আমাদের সমাজে ভোগবাদী অপসংস্কৃতি যেভাবে জেঁকে বসেছে, সেখানে মানবিক চেতনা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভোঁতা বলে মনে হয়। এর নজির আমরা পাই, দেশে করোনাকালে অভাবগ্রস্তদের সহায়তায় বিত্তবানদের সেভাবে এগিয়ে না আসা। অথচ মানুষ হিসেবে একে অপরের বিপদে এগিয়ে আসা সবার নৈতিক দায়িত্ব। এটি সমাজের বিত্তবান ও অসহায়দের মধ্যে মানবিক সেতুবন্ধন তৈরি করে।

আমাদের প্রত্যাশা, কনকনে শীতে সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তির সামান্য সাহায্য অভাবী মানুষ বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের জীবনে স্বস্তি বয়ে আনবে। তাই সবাইকে সাধ্যমতো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার উদাত্ত আহ্বান জানাই আমরা। এ ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে শীতার্তদের সহায়তায় জনসচেতনতা তৈরি করতে তরুণদের ভূমিকা রাখতে হবে।