সারা দেশ ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলারে ভরে গেছে। এতে গণপরিবহন সহজ হলেও রাস্তায় বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে। যানটির অনিয়ন্ত্রিত গতি নিয়মিত দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠেছে। সবধরনের রাস্তা থ্রি-হুইলারে এখন ঝুঁকিপূর্ণ। মহাসড়কেও এর উৎপাত লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। দূরপাল্লার দ্রুতযান চলাচল থ্রি-হুইলারে বিঘ্নিত হচ্ছে, প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। ব্যাটারিচালিত এ যানে ব্যবহৃত ব্যাটারি মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। বেপরোয়াভাবে দেশে থ্রি-হুইলারের সংখ্যা বেড়ে গেলেও নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো ধরনের নীতি প্রণয়ন কিংবা উদ্বেগও নেই। অথচ এটি জনজীবনে এখন গুরুতর প্রভাব ফেলছে।

ব্যাটারিচালিত এ যান দেশে ব্যবহৃত রিকশার নতুন ভার্সন। বৈদ্যুতিকশক্তিকে যান্ত্রিকশক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যমে এটি চলে। ইজিবাইক অটো কিংবা রিকশা নামে এটি রাস্তায় চলে। স্বল্পমাত্রার দূরত্ব দ্রুত অতিক্রমে এটি কার্যকর। অল্পব্যয়ে এ যান সংগ্রহ করা যায়। বিপুল চাহিদার কারণে মাত্র এক দশকে পুরো দেশে এটি ছেয়ে গেছে। বর্তমানে দেশে ৪০ লাখ থ্রি-হুইলার রয়েছে। এর অর্ধেক ২০ লাখ শুধু ঢাকাতেই চলছে। রাজধানীর কয়েক কোটি মানুষের চলাচলে এটি এক দিকে সহজ করেছে, অন্য দিকে বিপত্তি ও বিশৃঙ্খলার কারণও ঘটাচ্ছে। অন্যান্য বিভাগীয় শহরেও এর আধিক্য দেখা যায়। কিন্তু খুব কমসংখ্যকের নিবন্ধন রয়েছে। অর্থাৎ- এগুলো সবধরনের ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ নেই এগুলোর ওপর। রাস্তায় দুর্ঘটনার চেয়েও বড় বিপদের দিক এর ব্যাটারি। এতে ব্যবহার হয় সিসা, সিসা অক্সাইড ও সালফিউরিক এসিড। এগুলো কমবেশি সবই বিষাক্ত পদার্থ। তার মধ্যে সিসার দূষণ মারাত্মক।

পরিত্যক্ত ব্যাটারি থেকে এ বিষ মাটি ও পানিতে মিশে যাচ্ছে। খাদ্যের সাথে এগুলো ঢুকে পড়ছে মানুষের দেহে। বাড়ন্ত শিশুদের বিকাশ এই বিষ থামিয়ে দেয়। বড়দের হৃৎপিণ্ড, কিডনিসহ দেহের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বিকল করে দেয়। সিসা দিয়ে নির্মিত ব্যাটারির ৭৮ শতাংশ ব্যাটারিচালিত থ্রি-হইলারে ব্যবহার হয় বাংলাদেশে। পরিত্যক্ত সিসাসমৃদ্ধ ব্যাটারি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো নিয়ম দেশে নেই। তাই এগুলো যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে। ফলে এ থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক সহজে মাটি ও পানিতে মিশে যাচ্ছে। দীর্ঘ মেয়াদে স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করছে।

বিগত এক দশক ধরে এ ব্যাটারিচালিত যান অবাধে আমদানি করা হচ্ছে। দেশেও দেদার নির্মিত হচ্ছে। উচ্চ চাহিদার কারণে বেপরোয়া গতিতে এর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এ পর্যায়ে এসে এর ক্ষতিকর দিকটি নজরে এসেছে। কোনো নীতিমালা না থাকায় কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়া উচ্চগতির রিকশা নিয়ে যে কেউ রাস্তায় নেমে পড়তে পারছেন। সেই সাথে সড়কের শৃঙ্খলা নষ্টের পাশাপাশি অবাধে দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। জনস্বার্থে একটি যুগোপযোগী নীতি প্রণয়ন করে একে শৃঙ্খলায় আনা জরুরি হয়ে পড়েছে।

ব্যাটারি থেকে নির্গত ক্ষতিকর পদার্থের নিষ্কাশন নিয়েও নীতি দরকার। অন্যান্য যানবাহন এবং আরো অনেক সেক্টরে ব্যাটারি ব্যবহার হয়। থ্রি-হুইলারের তুলনায় যদিও এর ব্যবহার সীমিত। তবে সবার জন্য একটি সাধারণ নিয়ম প্রণয়ন করতে হবে, যাতে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশদূষণ কমানো যায়।