বাংলাদেশে দুর্নীতি সয়লাব হয়ে গেছে। শিক্ষা বিভাগও এতে ডুবেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে যেন অন্য বিভাগ থেকেও এখানে বেশি দুর্নীতি হচ্ছে। এবার খবর হলো প্রধান শিক্ষক নিরুদ্দেশ। এতে খুব বেশি অসুবিধা ছিল না। দেখা গেল তিনি অনুপস্থিত থেকেও বেতন তুলছেন। এর আগেও এই ধরনের খবর প্রকাশ হয়েছে। যারা শিক্ষা বিভাগে ঢুকে এমন দুর্নীতি করছে তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি ও বিলম্ব বারবার দেখা গেছে।
টাঙ্গাইল থেকে প্রেরিত সহযোগী একটি দৈনিকের প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে, জেলার মির্জাপুরে প্রায় দুই বছর ধরে প্রতিষ্ঠানে না গিয়েও বেতন তোলার অভিযোগ উঠেছে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তবে শোকজ করার পর মাঝে একবার বিদ্যালয়ে গিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে এসেছেন তিনি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের দাফতরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করছেন অজ্ঞাত স্থান থেকে। এই অভিযোগ উপজেলার ময়নাল হক অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়া ১৮ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি মাধ্যমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক হয়। যেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক নিজেই উপস্থিত থাকেন না তাতে পড়াশোনা হওয়ার কথা নয়। পরীক্ষার ফলাফলে তারই প্রভাব পড়েছে।
একই অভিযোগ উঠেছে উপজেলার এ এইচ দাখিল মাদরাসার শিক্ষক সোজা উদ্দিনের বিরুদ্ধে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত মাদরাসায় অনুপস্থিত থেকেও বেতন তুলছেন তিনি। তবে এ বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে তার বেতন বন্ধ রয়েছে। এমন অভিযোগ আরো বহু শিক্ষকের বিরুদ্ধে পাওয়া গেছে। দেখা গেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাজির থাকেন না এমনকি বিদেশে থেকেও বেতন তুলছেন। বিগত সরকারের অনিয়ম-দুর্নীতির মচ্ছবের মধ্যে এটা চলতে পেরেছে।
ময়নাল হক অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে। তার পর থেকে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসেন না। তার জায়গায় কোনো ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়নি। এবার এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর থেকে তিনি বেশির ভাগ সময় তার মোবাইল ফোন বন্ধ রাখছেন। মোবাইল ফোন সচল করলেও কারো ফোন রিসিভ করছেন না। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘একবার নোটিশ করার পর বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় বকেয়া স্বাক্ষর করে গেছেন। অনুপস্থিত থাকার কারণ জানাননি। আমরা তাকে নোটিশ পাঠানোর কথা ভাবছি।’ শিক্ষা প্রশাসনে কিছুটা অরাজকতা আছে। এই ধরনের ক্ষেত্রে শিক্ষকের বেতন বন্ধ করা যায় না সহজে। এটা করতে হয় নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের এখতিয়ারে। দেখা যায় প্রতিষ্ঠানের বাকি শিক্ষকরা অনেকসময় গরহাজির শিক্ষকের সাথে হাত মেলান।
স্কুল ও মাদরাসার শিক্ষকরা হবেন আদর্শ, যাতে অন্যরাও অনুসরণ করতে পারে তাদেরকে। আমরা মনে করি সারা দেশে এই ধরনের দুর্নীতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করা উচিত। যারা এই গুরুতর অপরাধ করছেন তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।