দেশে সড়ক যোগাযোগে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। তাই জনগণের যাতায়াত সহজ হয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবন-মানে তাৎপর্যপূর্ব পরিবর্তন এসেছে। তার পরও দেশের অনেক স্থানে সহজ যোগাযোগের জন্য কাঙ্ক্ষিত সড়ক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। আবার অবকাঠামো তৈরির পর সেটির যথাযথ সংস্কার প্রায়শ করা হয় না। একবার ভেঙে গেলে তা যথাসময়ে পুনর্নির্মাণ না করে ফেলে রাখা হয়। এমনো দেখা যায়, একটি সড়ক খানাখন্দে ভরে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও সেটি সহসা সংস্কারের মুখ দেখে না। এমনো দেখা যায়, কোনো সড়কে, নদী অথবা খালের ওপর সেতু জরাজীর্ণ হলেও কিংবা ভেঙে পড়লেও তা সংস্কারবিহীন ফেলে রাখা হয়েছে বছরের পর বছর। এতে দুর্ভোগে পড়েন ওই সব সড়ক, সেতু ব্যবহারকারী জনগণ। তেমনই একটি ঘটনার কথা জানা গেছে নয়া দিগন্তের উলিপুর (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতার পাঠানো খবরে।

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের বড়ুয়া তবকপুর গ্রামের প্রধান সেতুটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে অর্ধযুগ আগে। কিন্তু সেটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ভেঙে পড়া এ সেতুর কারণে পাঁচটি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ দীর্ঘ দিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ছয় বছর ধরে অবহেলিত সেতুটি স্থানীয়দের কাছে এখন ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠেছে।

খবরে বলা হয়, উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের বড়ুয়া গ্রামে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) ২০১৬ সালে ইট-সিমেন্টের সেতুটি নির্মাণ করে; কিন্তু ২০১৮ সালের বন্যায় এর পিলার ভেঙে পড়ে। সেই সাথে দক্ষিণপ্রান্ত দেবে যায়। এর পর থেকে এটি আর সংস্কার করা হয়নি। অথচ এ সেতুর ওপর দিয়ে বড়ুয়া, শ্রীবল্লভ, রসুলপুর, চুনিয়ারপাড় ও আশপাশের গ্রামের ১০ হাজারের মতো মানুষ উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন।

সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় ওই এলাকার বাসিন্দাদের এখন পাঁচ কিলোমিটার পথ ঘুরে ১১-১২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে উপজেলা সদরে যেতে হয়। এতে স্কুল, কলেজ, ব্যবসায়-বাণিজ্য, চিকিৎসা ও জরুরি কাজে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় সংশ্লিষ্ট পাঁচটি গ্রামের মানুষের।

সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করতে না পারায় স্থানীয় বাসিন্দাদের অসুবিধা বর্ণনাতীত। শুষ্ক মৌসুমে কেউ জমির আইল ধরে, কেউ ভেলায় করে খাল পার হন। বর্ষায় ড্রাম ভাসিয়ে মানুষ ও গবাদিপশু পারাপার করা হয়। সঙ্কটাপন্ন রোগীদের সময়মতো হাসপাতালে নেয়া যায় না। সেতুটি সংস্কার বা নতুনভাবে নির্মাণে বারবার আবেদন, মানববন্ধনসহ ইতঃপূর্বে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে; কিন্তু কর্তৃপক্ষ জনদুর্ভোগের বিষয়টি আমলে নেয়নি।

উপজেলা প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, বড়ুয়া সেতুটি সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লে অনুমোদন পাওয়া যাবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো- প্রকল্পের মেয়াদ যদি না বাড়ে তা হলে কী সেতুটি সংস্কারবিহীন পড়ে থাকবে? সহসা অনুমোদন না মিললে ১০ হাজার মানুষ কী অনির্দিষ্টকালের জন্য চলাচলের এ দুর্ভোগ পেহাতে থাকবে?

সঙ্গতকারণে আমরা মনে করি, ১০ হাজার মানুষের ভোগান্তির কথা বিবেচনায় সরকারকে অবিলম্বে বিকল্প তহবিল থেকে অর্থের সংস্থান করে সেতুটির সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে।