দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মাটি তুলা চাষের জন্য বেশ সম্ভাবনাময়। ফলে ১৯৮০ সালে যশোরের চৌগাছার জগদীশপুরে ১৫৭ একর জমির ওপর এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ তুলা গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বীজ বর্ধন খামার প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত এ প্রতিষ্ঠানটি জনবল সঙ্কটের কারণে খুঁড়িয়ে চলছে। তুলা উৎপাদন, প্রশিক্ষণ কিংবা তুলা নিয়ে গবেষণা এর কোনোটিই এখন ঠিকভাবে হচ্ছে না।

গতকাল বৃহস্পতিবার নয়া দিগন্তে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহৎ তুলা গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বীজ উৎপাদনকেন্দ্রটির ২৮টি অনুমোদিত পদের ১৫টিই দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য রয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় গবেষণা, বীজ উৎপাদন, প্রশিক্ষণ ও খামারের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অলস পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে লাখ লাখ টাকার কৃষি যন্ত্রপাতি। খামারের অভ্যন্তরীণ সড়কসহ প্রবেশপথও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

গবেষণা কেন্দ্রটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো— এখানে বৃহত্তর যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এখান থেকে উচ্চফলনশীল ও পোকা প্রতিরোধী সিবি-৫ তুলার জাত উদ্ভাবিত হয়েছে।

স্থানীয় তুলাচাষি মিজানুর রহমান বলেছেন, একসময় খামারটি ঘিরে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগের কারণে তুলা চাষও বাড়ছিল। এখন সেই কার্যক্রমের অনেকটাই ভাটা পড়েছে।

দেশে এক সময় পাটই ছিল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে পাটের স্থানটি পোশাক শিল্প দখল করে নেয়। আর পোশাক শিল্পের জন্যই মূলত তুলার প্রয়োজন হয়। দেশে এখন স্পিনিং মিল বাড়ার সাথে কাঁচা তুলার চাহিদাও বাড়ছে। ২০২৪ সালে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, দেশে প্রতি বছর তুলার চাহিদা আছে ৮৫ লাখ বেল। দেশে উৎপাদিত হয় মাত্র দুই লাখ বেল। বাকি ৮৩ লাখ বেল তুলাই আমদানি করতে হয়। আর এতে খরচ হয় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে ২০২৫ সালে প্রকাশিত অপর এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে (২০২০-২৪) বাংলাদেশ ৩৬টি দেশ থেকে ৩৯ দশমিক ৬১ মিলিয়ন বেল তুলা আমদানি করেছে, যার ব্যয় প্রায় ২০ দশমিক ২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মাটি তুলা চাষের জন্য উপযোগী। তুলার বিপুল চাহিদা মেটানোর জন্য এখানে এর চাষ বাড়ানো দরকার। চৌগাছার তুলা বর্ধন খামারটি এজন্য গুরুত্ব পাওয়ার দরকার ছিল। উল্টো সেটি অবহেলার শিকার।

চৌগাছার তুলা বর্ধন খামারটির জনবল সঙ্কটসহ যাবতীয় সমস্যা সমাধানে কৃষি মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু চৌগাছার তুলা উৎপাদন খামার নয়; দেশের অন্যান্য তুলা উৎপাদনের প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আরো যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশে সোনা ফলে। এখানকার মাটির উর্বরতার খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। এমন একটি কৃষিভিত্তিক দেশে উৎপাদনের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত তুলা উৎপাদন করতে না পারা আমাদের ব্যর্থতা। এ ব্যর্থতা দূর করতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আরো সক্রিয় ভূমিকা রাখা জরুরি।