কুমিল্লার মুরাদনগরে ঘরের দরজা ভেঙে এক হিন্দু মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে- ওই মহিলা প্রায় ১৫ দিন আগে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে সন্তানদের নিয়ে বেড়াতে এসেছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ফজর আলী (৩৮) নামে এক ব্যক্তি তার বাবার বাড়ি গিয়ে ঘরের দরজা খুলতে বলে। তিনি দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানালে একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে।
ঘটনার একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত ফজর আলীসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশকে অস্থিতিশীল করার নানা অপচেষ্টা আমরা লক্ষ করেছি। বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অপচেষ্টা ছিল চোখেপড়ার মতো। ৫ আগস্টের পর দেশে হিন্দু নির্যাতন হচ্ছে- এমন অপপ্রচার ও গুজব এতটাই বেশি হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো প্রতিবেদন প্রকাশ করে বলতে বাধ্য হয়েছে, বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানোয় মুখ্য ভূমিকা রাখে। যার ফলে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বড় ধরনের আন্দোলন করে। তাদের শাহবাগ দখল, ইসকন নেতাকর্মীদের চট্টগ্রামে সড়ক অবরোধ করতে আমরা দেখেছি। তারা ঢাকামুখী লংমার্চের ঘোষণাও দিয়েছিল। তাদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে একজন আইনজীবীকেও জীবন দিতে হয়েছে।
হিন্দুদের কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির এই অপচেষ্টা এখনো চলছে বলেই মনে হয়। কয়েক দিন আগে লালমনিরহাটে হিন্দু নাপিত বাবা-ছেলের ধর্ম অবমাননার ঘটনা দেখা গেল। পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেছে।
গত ২৭ জুন নয়া দিগন্তে প্রকাশিত ‘ইসকনের ওপর গোয়েন্দা নজরদারির তাগিদ’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর থেকে তাদের পুনর্বাসনের জন্য কৌশলে নানা কর্মসূচি মাঠে ছুড়ে দেয়া ইসকন আবারো ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। তারা নতুন করে নিজেদের সংগঠিত করে আবারো দেশকে অস্থির করার জন্য অপতৎপরতা শুরু করেছে বলে পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র আভাস দিয়েছে। তাদের অপতৎপরতা রোধে এখনই কঠোর গোয়েন্দা নজরদারির পরামর্শ সূত্রের।’ কুমিল্লার মুরাদনগরে হিন্দু মহিলা ধর্ষণের সর্বশেষ ঘটনাটি দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর অপচেষ্টা কি না খতিয়ে দেখা দরকার।
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে সুন্দর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে মানুষ দীর্ঘ দিন থেকে যে যার ধর্ম নির্দ্বিধায় পালন করে আসছেন। এখানে হিন্দুদের ওপর ধর্মীয়ভাবে নির্যাতন-নিপীড়নের ঘটনা নেই বললেই চলে। তাদের সাথে যেসব অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে তার অনেকগুলোর সাথেই রাজনীতি কিংবা কোনো কু-মতলব জড়িত। এগুলো যেমন সবাইকে বুঝতে হবে, তেমনি সরকারকেও সতর্ক থাকতে হবে।
কুমিল্লার ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার করায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে সাধুবাদ জানাই। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি এ ঘটনা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র কি না, তা উদঘাটন ও প্রকাশের দাবি জানাই।