গণ-অভ্যুত্থানে হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার এক বছরেও পুরোপুরি স্থিতিশীল ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। ফ্যাসিবাদের দোসররা নিরাপত্তা বাহিনীসহ দেশের প্রায় সব সেক্টরে ঘাপটি মেরে বসে আছে। এ অবস্থায় দেশের ভেতরে-বাইরে থেকে নানা ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত তারা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা যেকোনো অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতে পারে। জুলাই বিপ্লবের বর্ষপূর্তি ঘিরে এই পরাজিত শক্তি সন্ত্রাস-নাশকতা করার উচ্চঝুঁকি তৈরি করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এসময় বাড়তি সতর্কতা গ্রহণ প্রয়োজন।

ভারতে থেকে পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনা অব্যাহতভাবে প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি-জামায়াতের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিতে এবং সরকারের সাথে সম্পৃক্তদের হত্যার উসকানি দিচ্ছেন। তার পক্ষ থেকে দেশে-বিদেশে বড় একটি চক্র ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। রাজধানীতে সম্প্রতি সন্ত্রাসীদের একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও চালানো হয়। এতে সারা দেশ থেকে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ৪০০ সদস্য জড়ো করা হয়। অত্যন্ত গোপনে এটি পরিচালনা করা হয়। প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলার সময় সব সিসিটিভি বন্ধ রাখা হয়। তাদের শেখানো হয়, কিভাবে নাশকতা করতে হবে। বিশেষ করে আক্রমণ পরিচালনা করে কিভাবে ত্বরিত সটকে পড়া যায়। অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে এ কর্মসূচি নেয়া হয়। সামরিক বাহিনীতে কর্মরত একজন মেজর কর্মশালা পরিচালনা করেন। তিনি আবার কর্মস্থলে দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত। আইএসপিআর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনী ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে বিষয়টি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ও গভীর উদ্বেগের। হাসিনা নিরাপত্তা বাহিনীগুলো জনগণের নিরাপত্তা ধ্বংসে ব্যবহার করেছেন। আমাদের বাহিনীগুলোর নিশ্চয়তা তৈরি করতে হবে, যাতে তাদের সদস্যদের কেউ দেশের নিরাপত্তা বিঘ্ন ঘটাতে ব্যবহৃত হতে না পারেন।

আওয়ামী লীগের কিছু গোপন তৎপরতা সরকারের গোয়েন্দা নজরে এসেছে। তাদের নিশানা হচ্ছে- ৩ থেকে ৫ আগস্ট দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটানো। এ জন্য সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে নানা গুজব। দলটির সারা দেশে দেয়াল লিখন ও পোস্টার সাঁটানোর নির্দেশনা রয়েছে। কয়েকটি জেলায় দেয়াল লিখন ও পোস্টার সাঁটানোও হয়েছে। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের অসংখ্য নেতা এখনো গ্রেফতার হননি। তারা কার্যক্রম চালাচ্ছেন। কর্মীদের সংগঠিত করছেন। এদিকে ৫ আগস্ট ঘিরে জুলাইয়ের বিপ্লবী শক্তিগুলো সারা দেশে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ঠিক তেমনি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সরকার, এনসিপি, শিবির ও ছাত্রদল নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সদস্যরা এগুলোতে সন্ত্রাসী হামলা চালাতে পারে।

ঢাকাসহ সারা দেশে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ৮ আগস্ট পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আশা করা যায়, নাশকতাকারীরা কোনো সুযোগ পাবে না। এরপরও পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ প্রতিটি সেক্টরে বহাল তবিয়তে থাকা ফ্যাসিস্টের সহযোগীদের নিষ্ক্রিয় করতে যথেষ্ট পদক্ষেপ এখনো নেয়া যায়নি। যারা চিহ্নিত, তাদের বিচারের আওতায় আনা গেলে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানো যেত। সরকার দাগি অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিলে আশা করা যায়, দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।