ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে এমন অজুহাতে সম্প্রতি দেশটিতে হামলা চালায় ইসরাইল। ফলে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ বেধে যায়। যদিও ইরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র আছে কি না তা নিশ্চিত নয়। কিন্তু ইসরাইলের কাছে যে পরমাণু অস্ত্রের বিপুল মজুদ আছে তা নিশ্চিত।

ইরানি হামলায় বিপর্যস্ত ইসরাইল। কিছু দিন ধরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জল্পনা ছিল যুক্তরাষ্ট্র এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে। অবশেষে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষণে ইসরাইলের পক্ষ হয়ে ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের ফোর্দো, নাতাঞ্জ আর ইসফাহানের পারমাণবিক কেন্দ্রে সফলভাবে হামলা চালানো হয়েছে। ইরান আগেই হুঁশিয়ার করে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এ যুদ্ধে জড়ালে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালাবে তেহরান। এখন যদি ইরান যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আঘাত হানে তাহলে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ নতুন মোড় নেবে। পরিণতিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেবে।

সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর থেকে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য জারি রয়েছে। লক্ষণীয়, প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় নব্বইয়ের দশক থেকে ওয়াশিংটন নিজের মর্জিমাফিক বিশ্বব্যাপী ছড়ি ঘোরাচ্ছে। এক্ষেত্রে ন্যায়-অন্যায়ের বালাই নেই। এর প্রমাণ, নিকট অতীতে অন্যায় যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের সমৃদ্ধ দেশ ইরাককে ধ্বংস করে পশ্চিমারা। স্মরণযোগ্য যে, ইরাকে গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র থাকার অজুহাতে ইঙ্গ-মার্কিন বাহিনী দেশটিতে হামলা চালালেও পরে দেখা যায়, ইরাকে তেমন কোনো মারণাস্ত্র নেই।

অথচ ৭৭ বছর ধরে বিশ্ববাসী অবাক বিস্ময়ে দেখছে, অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল কিভাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সন্ত্রাসী কায়দায় নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছে। মানবতাবিরোধী এই অপকর্মে সর্বাত্মক সাহায্য-সহযোগিতা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা। ইসরাইল অনবরত ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছে ফিলিস্তিনি গণহত্যা কোনো অপরাধ নয়! বরং তারা সব সময় নিজেদের আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে একচোখা নীতিতে ইসরাইলের অনৈতিক কাজে সমর্থন জোগাচ্ছে; বিশেষ করে ওয়াশিংটন। এতে আমেরিকার বিরুদ্ধে বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে।

যেভাবে ইরাক ধ্বংস করা হয়েছে, ঠিক একইভাবে ইরানকে ধ্বংস করা হয় কি না তা নিয়ে অনেকেরই আশঙ্কা। প্রশ্ন হলো, বিশ্বের শান্তিকামী মানুষ কি এভাবে একটি দেশকে ধ্বংস করা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবে? যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্র ইউরোপের শক্তিকে সাথে নিয়ে বিশ্বে যা ইচ্ছা তাই করবে? এটি হতে পারে না। মানবতাবাদী প্রত্যেক মানুষকে মার্কিন ও ইউরোপের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে।

আজকে ইরানি জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে সেখানে ইসরাইল-মার্কিন ধ্বংসযজ্ঞ মেনে নিলে তা ভবিষ্যতে আরো অনেক দেশ ধ্বংসের পথ সুগম করবে। ইরানের ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ায় বিস্তৃত হতে পারে। এখানেও শক্তির ভারসাম্য বিনষ্ট হতে পারে। সঙ্গত কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ থামাতে বিশ্বের অপরাপর জাতিকে প্রবল কূটনৈতিক চাপ দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যাতে এই অন্যায় যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য হয়।