দিন-দুপুরে ঢাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর দুর্বলতার সুযোগে নগরীতে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে। ছুরি, চাপাতি, চাকু, ক্ষেত্রবিশেষে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ছোট ছোট গ্রুপে পথচারীদের ওপর চড়াও হচ্ছে ছিনতাইকারীরা। নিরস্ত্র মানুষের কাছে থাকা অর্থকড়ি, মোবাইলসহ মূল্যবান সরঞ্জাম ছিনিয়ে নিচ্ছে দুষ্কৃতকারীরা। এরা ভয় দেখাতে গিয়ে নির্দয়ভাবে আঘাত করছে। এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। ঢাকায় পথ চলতে অন্যতম দুশ্চিন্তার কারণ এটি।

আইনশৃঙ্খলাবাহিনী অভিযান চালিয়ে ছিনতাইকারীদের আটক করছে। এর সাথে রয়েছে কঠোর আইন এবং উপযুক্ত শাস্তির বিধান। তবু ছিনতাই কমছে না। বাস্তবতা হলো- কোনোভাবে রাজধানীর ছিনতাইকারীদের নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।

চলতি পথে টান মেরে ব্যাগ, মোবাইল ছিনিয়ে নিলে চুরির ঘটনায় মামলা হলে শাস্তি সর্বোচ্চ তিন বছর। ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে কারো মৃত্যু হলে ৩০২ ধারায় যাবজ্জীবন সাজা, সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। তাই সহজে অনুমেয়, ছিনতাই বা চুরি করে দণ্ডিত হয়ে সাজা খাটলে রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে এত অপরাধীর অস্তিত্ব থাকার কথা নয়। বাস্তবে বিভিন্ন অভিযানে এরা নিয়মিত গ্রেফতার হলেও আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে জামিনে ছাড়া পাচ্ছে।

একটি দৈনিকের প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, গত তিন মাসে ঢাকার আদালত থেকে এক হাজার ১০৮ জন এমন আসামি ছাড়া পেয়েছে। ছাড়া পেয়ে এই অপরাধীরা বাড়তি উৎসাহে ছিনতাই করে জানমালের নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মামলার এজাহারে আসামিদের সন্দেহভাজন হিসেবে অজ্ঞাতনামা দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আসামিরা যে ঘটনার সাথে জড়িত তার বিস্তারিত বিবরণ থাকে না। এ সুযোগে তারা সহজে জামিন পেয়ে যায়।

লক্ষণীয়, গত তিন মাসে উচ্চহারে জামিন পাওয়া ব্যক্তিরা ছিনতাইয়ের মামলার এজহারভুক্ত আসামি। জুলাইয়ে জামিন পাওয়া ৩৭৮ জনের মধ্যে ১৪৮ জন এজহারভুক্ত। সুনির্দিষ্ট অপরাধ ও নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তারপরেও কেন জামিন পাচ্ছে সেই প্রশ্ন উঠছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপি রাজধানীর ৪৩২ জায়গা ছিনতাইয়ের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এগুলোতে ৯৭৯ ছিনতাইকারী সক্রিয়। এর মধ্যে মোহাম্মদপুর ১০৮ স্পটে সবচেয়ে বেশি ২০৫ ছিনতাইকারী রয়েছে। এদের বেশির ভাগ একাধিক ফৌজদারি মামলার আসামি।

ছিনতাই নেটওয়ার্কের ওপর আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর একধরনের নিয়ন্ত্রণ আছে। নিয়মিত এ ধরনের অপরাধী গ্রেফতার হচ্ছে। দস্যুতার ঘটনা হলে দণ্ডবিধির ৩৯২ ধারা, দস্যুতার চেষ্টা ৩৯৩ ধারা, ছুরি বা কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করলে ৩৯৪ ধারায় মামলা হয়। দস্যুতা প্রমাণ হলে সাত বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

একটি দেশের রাজধানীতে বেপরোয়া চুরি-ডাকাতি ও ছিনতাই যেমন মানা যায় না তেমনি অপরাধ শূন্যে চলে আসবে এমনটা আশা করা যায় না। তবে আইনশৃঙ্খলার দুর্বলতায় ঢাকার অপরাধীচক্র পার পেয়ে যাচ্ছে তা আঁচ করা যায়। বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের গভীর তদন্ত দরকার। পুলিশি ব্যবস্থা ও বিচারাঙ্গন বোঝাপড়ার মাধ্যমে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। ছিনতাইকারীরা যাতে কোনোভাবে ছাড়া না পায়, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।