বর্তমানে তৈরী পোশাক শিল্প দেশের রফতানি আয়ের সবচেয়ে বড় খাত। এ খাত থেকে সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়। এর পরে রয়েছে পাট এবং চামড়াজাত পণ্য। তবে তৈরী পোশাকের সাথে অন্য দুই খাতের আয়ের বিশাল ব্যবধান আছে। মোট রফতানি আয়ের ৮৫ শতাংশ আসে তৈরী পোশাক থেকে। হিমায়িত খাদ্য, কৃষিজাত পণ্য, প্রকৌশল সামগ্রী, ওষুধ শিল্প থেকেও কিছু পরিমাণ রফতানি আয় আসে।

বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে। সেই সাথে বাংলাদেশের রফতানি নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী হচ্ছে। এসময় রফতানি বহুমুখীকরণের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। রফতানি পণ্যের তালিকায় আরো নতুন পণ্য যোগ করার তাগিদ দেন তারা। তৈরী পোশাকের বিকল্প হতে পারে ওষুধ শিল্প। এর পাশাপাশি ওষুধের কাঁচামাল (এপিআই) উৎপাদনও বড়ো ধরনের শিল্প হয়ে উঠতে পারে।

ওষুধের কাঁচামাল তৈরীর শিল্প এখনো প্রাথমিক স্তরে। এখন পর্যন্ত আলোচনায় আসার মতো অবস্থানে পৌঁছেনি। তবে সম্ভাবনা আছে যথেষ্ট। শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ ওষুধ শিল্পের চাহিদা পূরণ করতে পারলেও এ খাতে উৎপাদন হবে প্রায় দেড় শ’ কোটি ডলারের কাঁচামাল। কারণ দেশের ওষুধ শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের প্রায় পুরোটা আমদানি করা হয়। খোদ ওষুধ কোম্পানি এবং এপিআই উৎপাদনকারীরা মিলে তৈরি করে মোট চাহিদার মাত্র ১০ শতাংশের মতো।

২০১৮ সালের শেষভাগে দেশের প্রথম অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট বা এপিআই শিল্প পার্ক প্রতিষ্ঠা করে সরকার। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ২০০ একর জমির ওপর ৩৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় শিল্প পার্কটি। এতে ১৫-১৬টি প্রতিষ্ঠান এপিআই উৎপাদন করছে। আরো ২৭ প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি কিছু পরিমাণে রফতানিও হচ্ছে। ২০১৯ সালে এক কোটি ৮০ লাখ ডলারের এপিআই রফতানি হয়েছে। কিন্তু হাজার রকমের কাঁচামালের মধ্যে এরা তৈরি করছে মাত্র ৭০ রকমের কাঁচামাল। আরো ৯৩০ প্রকার কাঁচামাল তৈরির সুযোগ আছে। এ জন্য দরকার হবে আরো শত শত এপিআই কোম্পানি প্রতিষ্ঠার। তাহলে এ শিল্প হয়ে উঠতে পারে রফতানি আয়ের অন্যতম খাত।

এপিআই প্রস্তুতকারকদের সংগঠন (বিএআইএমএ) সভাপতির বক্তব্য অনুযায়ী সরকারের নীতি সহায়তা ও আর্থিক প্রণোদনা পেলে এ শিল্প থেকে দেশীয় ওষুধ কোম্পানির চাহিদা মিটিয়ে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ২০০ কোটি (দুই বিলিয়ন) ডলারের কাঁচামাল রফতানি করা সম্ভব। তিনি বলেন, সব ধরনের এপিআই উৎপাদনে প্রায় এক হাজার প্রতিষ্ঠান দরকার।

শিল্পোদ্যোক্তাদের এ খাতে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করা যেতে পারে। নতুন শিল্পের জন্য শুল্ক ছাড়ের সুবিধা দেয়াসহ প্রয়োজনীয় নীতিগত সুবিধা দেয়া যেতে পারে।

ওষুধ একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। যেহেতু রোগ-ব্যাধি মানব শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সে জন্য জনস্বাস্থ্য ঠিক রাখতে ওষুধের প্রয়োজন সব সময় থাকবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্কার কমিশন এপিআইকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু’ হিসেবে উল্লেখ করে এ শিল্পে নীতি ও আর্থিক সহায়তা দেয়ার সুপারিশ করেছে। এ পদক্ষেপ আশাব্যঞ্জক। প্রতিবেশী দেশ এ খাতে বিশেষ প্রণোদনা দিচ্ছে। আমাদেরও সম্ভাবনাময় এই খাতের বিকাশে মনোযোগী হওয়া দরকার।