বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেকটাই রেমিট্যান্সনির্ভর। কিন্তু বর্তমানে বিদেশের শ্রমবাজার অনেকটা সীমিত হয়ে আসছে। এই সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করা ও নতুন শ্রমবাজার খোঁজার জন্য যে শ্রম কূটনীতির প্রয়োজন ছিল তা লক্ষ করা যাচ্ছে না। বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো যথেষ্ট সক্রিয় নয়।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ১০ লাখ ১১ হাজার ৮৬৯ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। এর মধ্যে ৯৫ শতাংশ কর্মী গেছেন মাত্র পাঁচটি দেশ— সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কাতার, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে। তবে এই সংখ্যা ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম। অন্যদিকে কর্মসংস্থানের উদ্দেশে গত বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমান ১১ লাখ ২৮ হাজার বাংলাদেশী। দেখা যাচ্ছে, জনশক্তি রফতানি বিদায়ী বছরে কিছুটা বাড়লেও তা ২০২৩ সালের তুলনায় কম। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ কর্মী পাড়ি জমিয়েছেন সৌদি আরবে। বাকি প্রবাসীদের অধিকাংশই কাজের জন্য গেছেন কাতার, সিঙ্গাপুর, কুয়েত, মালদ্বীপসহ মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। বিদেশে শ্রমিক পাঠানো কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ তিনটি বড় শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাওয়া। এগুলো হলো মালয়েশিয়া, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
বন্ধ শ্রমবাজার খোলা ও সম্প্রসারণে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখেন মিশন প্রধান ও শ্রম কাউন্সিলর। কিন্তু এ কাজে তাদের তৎপরতা কম। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বেশ কিছু দিন থেকে বন্ধ। সেটি চালুর বিষয়ে সেখানকার দূতাবাস কী করছে তা স্পষ্ট নয়। প্রায় একই অবস্থা কুয়েতে।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের শ্রম কূটনীতি যেখানে শক্তিশালী থাকার কথা সেখানে শ্রমবাজার নিয়ে দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিষ্ক্রিয়তা গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত মনিটরিং দরকার। একই সাথে বন্ধ শ্রমবাজার চালু ও সম্প্রসারণে উৎসাহিত করতে কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।
বাংলাদেশের শ্রমিকদের অন্যতম সমস্যা দক্ষতাবিষয়ক। কাজের দক্ষতা থাকলেও অনেক বাংলাদেশী ভাষাগত দক্ষতার অভাবে কাজ করতে পারে না। মধ্যপ্রাচ্যে যেতে ইচ্ছুক শ্রমিকদের আরবি ভাষা শেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
আমাদের শ্রমিকদের প্রায় সবাই মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক হলেও বিশ্বের অন্যান্য দেশের দিকেও নজর দেয়ার সময় এসেছে। ইউরোপের দেশগুলো এ ক্ষেত্রে ভালো বিকল্প হতে পারে। কিন্তু আমরা লক্ষ করছি, এসব দেশে অবৈধভাবে পাড়ি দেয়ার প্রবণতা বেশি। বৈধভাবে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার অভাব রয়েছে। বিশেষ করে, পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে কী ধরনের শ্রমবাজার রয়েছে এবং কেমন শ্রমিক প্রয়োজন তার আলোকে আমাদের জনশক্তি তৈরিতে জোর দিতে হবে। এসব দেশে বৈধভাবে যাওয়ার পথ সুগম করতে হবে। বিদেশের শ্রমবাজার বিষয়ে আমাদের মিশনগুলোর যেমন দায়িত্ব রয়েছে তেমনি শ্রমিক ও রিক্রুটিং এজেন্সিসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায়িত্বও কম নয়। সব পক্ষের সার্বিক সহযোগিতায় বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার চালু থাকবে সেটিই কাম্য।