শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডে ৭ ঘণ্টা কার্যক্রম বন্ধ হয়। এই সময় ২৩ বিদেশী ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে অবতরণ করতে বাধ্য হয়। বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে আসা শত শত যাত্রী পড়েন ভোগান্তিতে। এতে করে বন্দরের কার্যক্রমে যে জটলা তৈরি হয়েছে তার প্রভাব কাটাতে বেশ কয়েক দিন লেগে যাবে। সবচেয়ে বড় বিষয় দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয় এমন নেতিবাচক বার্তা যাবে। অতি সম্প্রতি আরো দুটো অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে দেশে। ওই দুটো অগ্নিকাণ্ডের ধরনও একই রকম। কৌশলগতভাবে ব্যবসায়িক কেন্দ্রেগুলোতে আগুন লাগছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলোর পেছনে কোনো ধরনের গাফিলতি কিংবা নাশকতার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না তা সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা দরকার।

শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে এবারের আগুন লাগে। ভিলেজের যেই অংশে আমদানি করা পণ্যের গুদাম রয়েছে। ১৩টি ফায়ার স্টেশনের ৩৭টি ইউনিট আগুন নেভাতে একসাথে যুক্ত হয়। ফায়ার ব্রিগেডের পাশাপাশি এতে অংশ নেয় সেনা, বিমান, নৌবাহিনী, বিজিবি ও বন্দরের আনসার বাহিনীর সদস্যরা। আগুন নেভানোর কাজে যুক্ত ৩৫ জন আহত হন। বাতাসের উচ্চ প্রবাহের কারণে আগুন নেভাতে হিমশিম খেতে হয়েছে ফায়ার ব্রিগেডকে।

বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ড নিছক দুর্ঘটনা না নাশকতা সে ব্যাপারে প্রশ্ন উঠেছে। এমন জায়গায় আগুনের সূত্রপাত হয়েছে যেখানে সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর আগে গত মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়িতে একটি রাসায়নিক গুদামে আগুন লাগে। সেখানে আশপাশে পোশাক তৈরির কারখানাও ছিল। অন্য দিকে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকার একটি ভবনের সাততলায় আগুন ধরে। সেখানেও পোশাক কারখানা ও রাসায়নিক গুদাম ছিল। এগুলো নিছক দুর্ঘটনা, না এর পেছনে দুষ্কৃতকারীরা রয়েছে, সেটি দেশবাসীকে উদ্বিগ্ন করছে।

দুর্ঘটনাগুলো এমন সময় ঘটছে যখন বাংলাদেশ একটি অন্তর্বর্তী গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। সরকার অনেকটা দুর্বল। বিশেষ করে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা দুর্বলতা অনুভব করা হচ্ছে। অন্যদিকে দেশী-বিদেশী শক্তি ক্রমাগত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। দেশে যাতে মসৃণভাবে গণতন্ত্রের উত্তরণ ঘটতে না পারে সে জন্য শত্রুরা যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি তৎপর। এর আগে নাশকতার প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা আটক হয়েছিল। তিনি এবং তার একটি গ্রুপ আওয়ামী সন্ত্রাসীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল কিভাবে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড চালানো যায়। দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো তাদের নিশানা। দেশের ভেতরে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারলে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থ হবে। এই সুযোগে শত্রুরা সফল হবে। সে কারণে অগ্নিকাণ্ডসহ আরো যেকোনো নাশকতা তারা ঘটাতে পারে।

শাহজালাল বিমানবন্দর বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার একটি। এ ধরনের স্থাপনায় কোনো ধরনের দুর্ঘটনা কোনোভাবে কাম্য হতে পারে না। এ জন্য এর নিরাপত্তা প্রস্তুতিতে থাকবে সর্বোচ্চ উদ্যোগ ও সতর্কতা। যেভাবে এর কার্গো ভিলেজে আগুন লাগল তাতে এর নিরাপত্তা দুর্বলতা ও ত্রুটি প্রকাশ হলো। সরকার এরই মধ্যে ক্ষয়ক্ষতি ও আগুনের কারণ জানতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা উচিত। এই ক্ষেত্রে গাফিলতির কোনো সুযোগ নেই। সেই সাথে দেশের নাজুক অবস্থাকে বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ গুরুত্ব দিতে সরকারের পক্ষ থেকে আদেশ ও সতর্কতা জারি করতে হবে।