অনিয়মকে যেন সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত অনেকে নিজেদের জন্য নিয়ম বানিয়ে ফেলেছেন। মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসারের (আরএমও) বেলায় তেমনটি দেখা যাচ্ছে। চাকরির নিয়ম অনুযায়ী, আরএমওকে আবাসিকভাবে কোয়ার্টারে থাকতে হয়। ২৪ ঘণ্টা রোগীসেবা নিশ্চিত করতে হয়। কিন্তু সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও হাসপাতালে থাকেন না। থাকেন ঢাকায়। ঢাকা থেকে মর্জিমাফিক সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে অফিস করেন। এতে সেখানকার স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

একটি জাতীয় দৈনিকের খবর, সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা: ইমতিয়াজ আহমেদ পাঁচ মাস আগে যোগদান করলেও কর্মস্থলে থাকেন না। কর্মস্থলে অফিস করেন সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন। বুধবার ও শনিবার অফিস না করে ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সকাল সাড়ে ৮টায় আসার কথা থাকলেও আসেন নির্ধারিত সময়ের পরে। আবার রোগী না দেখে চলে যান ইচ্ছেমতো।

একটি প্রতিষ্ঠান প্রধানের এ অবস্থা হলে অধীনস্থরা তার কাছ থেকে কী শিখবেন! তারাও কাজে ফাঁকি দিতে চাইবেন এটিই সাধারণ প্রবণতা। স্বাস্থ্য বিভাগের বড় একটি সমস্যা হলো চিকিৎসকরা নির্ধারিত স্থানে চিকিৎসাসেবা দিতে চান না। নির্ধারিত জায়গায় থেকে চিকিৎসাসেবা দিতে তাদের অনীহা রয়েছে। এর অনেক কারণও রয়েছে। কিন্তু যত কারণ থাকুক না কেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো একটি প্রতিষ্ঠান প্রধানের এভাবে অনুপস্থিতি মেনে নেয়া যায় না।

চলতি মাসে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেছিলেন, স্বাস্থ্য খাতে শুধু সমস্যা আর সমস্যা। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা যে স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়ে শতভাগ সত্য মন্তব্য করেছেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো- এসব সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব কার? এই যে সিংগাইর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও কর্মস্থলে না থেকে নিজের মর্জি মতো যখন-তখন গিয়ে অফিস করেন, তার এসব বিষয় তদারকির দায়িত্বইবা কার? জেলা সিভিল সার্জন কিংবা স্বাস্থ্য অধিদফতরের কী এগুলো নিয়ে কোনো নজরদারি আছে?

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে মানুষ যান চিকিৎসা পেতে। প্রথমত তারা সেখানে চিকিৎসা চান। কিন্তু যখন কোনো কারণে চিকিৎসা পান না; তখন তাদের অনেকে সেখানকার প্রধানকে খোঁজেন। আর প্রধানকে না পেলে তারা পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সুতরাং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধানকে তার দায়িত্ব পালনে বাধ্য করতে হবে।

রোগবালাই মানুষের জীবনের অংশ। সব শ্রেণিপেশার মানুষ রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হন। তাই ধনী-গরিব সবার সুন্দর জীবনের জন্য আমাদের দেশের চিকিংসাব্যবস্থা উন্নত করা দরকার। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসা খাতে কোনো ধরনের অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়। সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ সারা দেশে যেখানে যেখানে আরএমও কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন তাদের নির্ধারিত স্থানে থেকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদারকি বাড়াবে এটি সবার প্রত্যাশা। যাতে করে দেশের মানুষ তাদের ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন। এটি নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।