চট্টগ্রাম নগরীতে খাবার পানির তীব্র সঙ্কট চলছে। কিছু এলাকায় পানি পাওয়া গেলেও লবণাক্ততায় তা পান অনুপযোগী। একটি সহযোগী দৈনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসের শেষ দিকে বন্দরনগরীর সুপেয় পানির উৎস কর্ণফুলী নদী ও হালদা নদে ঢুকে পড়ে সাগরের পানি। লবণাক্ততা এড়াতে জোয়ারের সময় পাঁচ-ছয় ঘণ্টা পানি সংগ্রহ বন্ধ রাখছে ওয়াসা। আবার গভীর নলকূপ থেকে যা উঠছে, তা মিশিয়েও কমছে না লবণের তীব্রতা। ফলে উৎপাদন কমে সঙ্কটের তীব্রতা বেড়েছে। সামনে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

খাবার পানিতে লবণের স্বাভাবিক মাত্রা লিটারে ২৫০ মিলিগ্রাম থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে চট্টগ্রামে ওয়াসার পানিতে এই মাত্রা আড়াই হাজার মিলিগ্রাম। বলার অপেক্ষা রাখে না, চট্টগ্রামের পানীয়জলে লবণাক্ততা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। তবে বন্দরনগরীর পানি লবণাক্ত ১৯৯৪ সাল থেকে। সেই থেকে প্রায় প্রতি বছর লবণাক্ত পানির সমস্যায় ভুগছেন নগরবাসী। কিন্তু সুপেয় পানি সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব যে ওয়াসার, সেই সংস্থাটি এ নিয়ে নির্বিকার কেন?

চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন বলেছেন, ‘কাপ্তাই থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ছাড়া হচ্ছে না। এবার বৃষ্টিও কম হয়েছে। ফলে কর্ণফুলী ও হালদায় পানি চলাচলের গতি কমে প্রাকৃতিকভাবে জন্মেছে শ্যাওলা। পানি সংগ্রহে শ্যাওলা বড় বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।’ কিন্তু কর্ণফুলী ও হালদার শ্যাওলা সমস্যার কথা এখন না বলে আগে ভাবা প্রয়োজন ছিল। তাহলে এমন সমস্যায় পড়তে হতো না। কর্ণফুলী ও হালদায় দ্রুত খনন করা জরুরি। নগরবাসীর সুপেয় পানি সঙ্কটের দায় ওয়াসা এড়াতে পারে না।

চট্টগ্রাম নগরীর সুপেয় পানির সমস্যা সমাধানে পতিত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে কোটি কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সুপেয় পানি সঙ্কট থেকে গেছে।

বিশ্বব্যাপী লবণাক্ত পানির সমস্যা যেমন আছে; তেমনি আছে এর সমাধান। জার্মান সংবাদ সংস্থা ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদন বলছে, ইংল্যান্ডে টেমস নদীর তীরে ‘টেমস ওয়াটার’ নামে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধ করে পানযোগ্য করা হয়েছে। এক্ষেত্রে জোয়ারের পানি ব্যবহার করা হয়। এ ব্যবস্থায় ৮৫ শতাংশ লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধ পানীয়জলে পরিণত করতে পারছে। পানি লবণমুক্ত করতে জ্বালানি খরচ বেশি হলেও ‘টেমস ওয়াটার’ প্রকল্পে স্বল্প খরচে করা হয়।

সঙ্গত কারণে গ্রীষ্মকালে চট্টগ্রামে সুপেয় পানির সঙ্কট তীব্র হয় এটি মাথায় রেখে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধ করে মানুষের খাবার উপযোগী করতে হবে ওয়াসাকে। এই সেবামূলক সংস্থার প্লান্ট বসানোর ব্যবস্থা করে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। বৃষ্টির পানির জন্য বসে থাকার সুযোগ নেই।

পবিত্র রমজান মাসে চট্টগ্রাম নগরীর মানুষের পানির কষ্ট দুঃখজনক। আমরা মনে করি, নগরবাসীর সুপেয় পানি সঙ্কট সমাধানে চট্টগ্রাম ওয়াসাকে দ্রুত বিকল্প পদক্ষেপ নিতে হবে। সেই সাথে এ সমস্যার টেকসই সমাধান নিশ্চিত করাও ওয়াসার দায়িত্ব।