ইসরাইলের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডকে প্রকাশ করার কোনো ভাষা আমাদের জানা নেই। দেশটি অপরাধের সবধরনের সীমা লঙ্ঘন করেছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতি ও আইনের ধার ধারে না। গত দুই বছরে গাজায় ৬৬ হাজার নিরপরাধ মানুষ হত্যা করেছে। ইরান ও কাতারে বৈধ কারণ ছাড়াই আক্রমণ করেছে। গাজায় শুধু ক্রমাগত মানুষ হত্যা নয়, উপত্যকা অবরোধ করে রেখেছে। এখন গাজাকে সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিচ্ছে। বাসিন্দারা খাদ্য-পানীয় ও নিত্যপণ্যের অভাবে জীবন-মৃত্যুর মুখোমুখি। এ অবস্থায় ত্রাণ নিয়ে একটি নৌবহর বৈশ্বিক মানবাধিকারের উদ্যোগে পরিচালিত হয়। তাতেও ইসরাইল আক্রমণ করেছে। এটি নিশ্চিত করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হলেও মোড়ল রাষ্ট্রগুলোর কেউ তেলআবিবকে থামানোর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

ইসরাইলের নিষ্ঠুর অবরোধে তীব্র খাদসঙ্কটে মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা নামের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ৪৪টি দেশের ৫০০ মানবাধিকারকর্মী এ মানবিক অভিযানে অংশ নিয়েছেন। এতে রয়েছেন বৈশ্বিক পরিবেশ আন্দোলনের আইকন গ্রেটা থুনবার্গ। রয়েছেন বাংলাদেশের খ্যাতিমান আলোকচিত্রী শহিদুল আলম ও ব্রিটিশ বাংলাদেশী মানবাধিকারকর্মী রুহি লরেন আখতারের মতো প্রতিশ্রুতিশীল ব্যক্তিরা। ৪০টি নৌযান নিয়ে তারা গাজা সমুদ্রসৈকত অভিমুখে যাত্রা করেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা কিংবা ফিলিস্তিন উপকূলে অবৈধভাবে এই বহরে হামলা চালায় ইসরাইল। থুনবার্গসহ বেশির ভাগ মানবাধিকারকর্মী ও নৌযান আটক করা হয়েছে। এর আগেও থুনবার্গসহ মানবাধিকারকর্মীদের গাজা অভিমুখী নৌযান থেকে আটক করা হয়েছিল।

স্মরণযোগ্য যে, ২০১০ সালে তুরস্কের এ ধরনের একটি ত্রাণবহরে ইসরাইল সরাসরি হামলা চালায়। তারাও ইসরাইলের অবরোধ ভেঙে গাজার পথে রওনা হয়েছিল। পথে ইসরাইলি কমান্ডোরা একযোগে হেলিকপ্টার ও যুদ্ধজাহাজ থেকে আক্রমণ করে ১০ জনকে হত্যা করে।

২০১১, ২০১৫ ও ২০১৮ সালেও ত্রাণ নিয়ে অভিযান চালানো হয়। নিরস্ত্র এসব ত্রাণ অভিযানের কোনোটিই ইসরাইল সহ্য করেনি। মোট কথা, আরবদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের কৃত কোনো অপকর্ম অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। নির্বিচারে হত্যা চালিয়ে গেলেও বিচারের আওতায় আসে না। এমন চরম সীমালঙ্ঘনের ঘটনা সভ্য দুনিয়ায় আর কোথাও দেখা যায় না। এবারের বৈশ্বিক মানবাধিকারকর্মীদের গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা স্পেন থেকে শুরু হয়। এতে আছেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, স্পেন, ফ্রান্সসহ পশ্চিমা বিশ্বের মানবাধিকারকর্মীরা। তাই এ নৌবহরকে সরাসরি আক্রমণ করে হত্যাযজ্ঞ চালানো যাচ্ছে না। তবে তারা এদের আটক করে গাজামুখী ত্রাণ অভিযান ভণ্ডুল করে দিচ্ছে।

ইসরাইলের এমন দানব হয়ে ওঠায় মূলত পশ্চিমা বিশ্ব দায়ী। দেশটি নিয়ে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগে পশ্চিমারা কখনো আগ্রহী হয় না। ফলে দেশটি আরব বিশ্বকে অসহায় করে ফেলেছে। তাদের কৃত এ গুরুতর অপরাধকে শুধু ইসরাইলের অপরাধ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। এর দায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের ওপরও বর্তায়। এ পরাশক্তিধর দেশগুলোর সরাসরি সমর্থনে আরবদের হত্যা, দেশ থেকে ক্রমাগত উচ্ছেদ করে যাচ্ছে ইসরাইল। রাশিয়া ও চীনও দায়মুক্তি পেতে পারে না। কারণ বর্তমান বিশ্বের সুপারপাওয়ারের অংশ হয়েও দেশ দু’টি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে মোটাদাগের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্তভাবে দাঁড়ায়নি। একটা সময় নিশ্চয়ই আসবে, যখন বর্তমান এই বিশ্বকে এর দায় কড়ায়গণ্ডায় শোধ করতে হবে।