কুমিল্লার মুরাদনগরে পিটিয়ে-কুপিয়ে একই পরিবারের তিনজনকে হত্যা করার উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে। সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যাচ্ছে, জনতাকে উত্তেজিত করে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মানুষের দীর্ঘ বিচারবঞ্চনা নিয়ামক হিসেবে কাজ করলেও নিজ হাতে আইন তুলে নেয়ার জঘন্য অপরাধও সঙ্ঘটিত হয়েছে। দেশের মানুষ বছরের পর বছর বিচার পাননি। এ সুযোগে অন্যায় অনিয়ম দুর্নীতি ও চোরকারবারি করে দেশে একটি শ্রেণী বিপুল সম্পদের মালিক ও প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। এ গোষ্ঠীর হাতে সমাজের সাধারণ মানুষ বন্দী হয়ে গিয়েছিলেন। শেখ হাসিনার দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী জমানায় দেশের এ জবরদস্তিকারী শ্রেণীটি গড়ে উঠেছে।

জুলাই বিপ্লবের পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। অন্যায়ভাবে সম্পদে ফুলেফেঁপে ওঠা ও প্রভাবশালী হওয়া গোষ্ঠীটি এখন সরকারের পক্ষ থেকে সমর্থন পাচ্ছে না। এ দিকে বিচারবঞ্চিত মানুষের ক্ষোভ পুঁজি করে তাদের গণবিচারের সম্মুখীন করা হচ্ছে। এ বিচারহীনতাও কোনোভাবে সমর্থনযোগ্য নয়। মুরাদনগরের ঘটনাটি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থাকে কার্যকর জায়গায় ফিরিয়ে আনার জন্য একটি সুযোগ হিসেবে নিতে হবে। প্রশাসনকে এখন থেকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যাতে শেখ হাসিনার দুঃশাসনে বেড়ে ওঠা দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কেউ যেন আর আইন হাতে তুলে নিতে না পারেন।

একটি মোবাইল চুরি ঘিরে মুরাদনগরের ঘটনার সূত্রপাত। দেখা গেল একপর্যায়ে সব ক্ষোভ গিয়ে পড়ল স্থানীয় মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত একটি পরিবারের ওপর। এ সময় একটি গ্রুপ ওই পরিবারের সাথে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার বিষয় পুঁজি করে প্রচারণা চালায়। উত্তেজিত জনতা তখন পিটিয়ে ও এলাপাতাড়ি কুপিয়ে তিনজনকে হত্যা করে, একজনকে গুরুতর আহত করে। এর মধ্যে একটি শ্রেণী জড়িত থাকার আশঙ্কা রয়েছে; যারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ এটি প্রমাণ করতে চায়।

সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যাচ্ছে, হত্যার শিকার পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। নিহত রোকসানার বিরুদ্ধে ১৬টি, তার ছেলে রাসেলের বিরুদ্ধে ৯টি ও মেয়ে তাসপিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা রয়েছে এবং পরিবারের অন্যদের বিরুদ্ধেও মামলা রয়েছে। এরা বিভিন্ন সময় গ্রেফতার হলেও সহজে জামিন পেয়েছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, পুরো পরিবার মাদক চোরাকারবারের সাথে জড়িত। এ সূত্রে এলাকায় তারা বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছে। সাধারণ মানুষ তাদের মাদক সন্ত্রাসের শিকার। স্থানীয় মানুষের তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ রয়েছে।

এ ধরনের ঘটনা যাতে কোনোভাবে আশকারা না পায় সেদিকে সরকারকে কঠোর মনোযোগ দিতে হবে। প্রত্যেক অপরাধীর বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে, রয়েছে মানবাধিকার। মুরাদনগরে হত্যার সাথে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সবার কাছে এ বার্তা পৌঁছাতে হবে, অপরাধ যত বড় হোক না কেন, কারো বিরুদ্ধে আইন হাতে তুলে নেয়া যাবে না।

সরকারকে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা চাচ্ছে মানুষের ক্ষোভ উসকে দিয়ে দেশে একটি অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে। কোনোভাবে তাদের এই সুযোগ দেয়া যাবে না।