আমাদের দেশে সড়ক যোগাযোগে অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। তবে অনেক মহাসড়ক মেরামতের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আবার দেখা গেছে, বিগত ১৫ বছরে সব মহাসড়ককে সমান গুরুত্ব দেয়নি সরকার। প্রয়োজনীয় সংস্কার করেনি। ঢাকা-খুলনা এমনি একটি অবহেলিত মহাসড়ক।
একটি সহযোগী দৈনিকের খবর অনুযায়ী, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ঝিনাইদহ অংশের ২৭ কিলোমিটারসহ যশোর পর্যন্ত প্রায় ৪৭ কিলোমিটার পথের বেহাল অবস্থা। অংশটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ স্থানে পিচ-পাথর উঠে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় পানি জমে থাকে। ভাঙাচোরা থাকায় ৪৫ মিনিটের পথ যেতে যানবাহনগুলোর দেড় ঘণ্টা লেগে যায়। অথচ এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মালবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন বেনাপোল ও দর্শনা স্থল এবং মোংলা সমুদ্রবন্দরসহ দক্ষিণের জেলা উপজেলায় যাতায়াত করে। এ ছাড়া খুলনা বিভাগের সাথে রাজশাহী বিভাগের যোগাযোগের একমাত্র সড়কপথ এটি।
অতি গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে যাতায়াত করা দুরূহ হয়ে উঠেছে। সড়কটির যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের ৪৭ কিলোমিটার অধিকাংশে পিচ-পাথর উঠে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এসব স্থানে ব্রিক সলিং করে যানবাহন চলাচলে উপযোগী করলেও বর্ষার পানিতে যাতায়াত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একই অবস্থা যশোর অংশের ২০ কিলোমিটার পথে। ফলে ৪৫-৫০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে যানবাহনগুলোর দ্বিগুণ সময় লাগছে। এতে জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। প্রায় দুই বছর ধরে সড়কটির এমন বেহাল অবস্থা।
দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবির তথ্যমতে, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে গত ১৪ বছরে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের অধীনে বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণ কাজে ২৯ হাজার ২৩০ কোটি থেকে ৫০ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, সড়ক ও মহাসড়ক খাতে রাজনীতিবিদ, সংশ্লিষ্ট আমলা ও ঠিকাদারের ত্রিপক্ষীয় আঁতাতের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রমের নীতিনির্ধারণ, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে করায়ত্ত করা হয়েছে। ত্রিপক্ষীয় যোগসাজশে সড়ক ও মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম-দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করা হয়েছে। দুর্নীতিবাজ কিছু রাজনীতিবিদ, কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জনের অবাধ সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
দুর্নীতি করাই যেখানে প্রধান উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায় সেখানে সড়ক-মহাসড়কের এমন বেহাল দশা অস্বাভাবিক নয়। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের যেসব স্থানে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে; সেসব জায়গায় মেরামত কাজে মানসম্পন্ন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে কিনা তা আমাদের জানা নেই। তবে, বিগত সময়ে দুর্নীতির যে বাড়বাড়ন্ত হয়েছিল তাতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করাই স্বাভাবিক বলে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে। তাই ওই মহাসড়কে যেসব ঠিকাদার কাজ করেছেন তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। সেই সাথে জনদুর্ভোগ লাঘবে মহাসড়কটির সংস্কার কাজে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।