সারা বিশ্বে বাংলাদেশীরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। তাদের ভোটের সুযোগ করে দিতে হলে বড় ধরনের উদ্যোগ ও কর্মপ্রচেষ্টা দরকার। অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে ঢিমেতালে চলছে। কোন পদ্ধতিতে প্রবাসীরা ভোট দেবেন- এখনো সেই প্রাথমিক কাজটিও সারা হয়নি। নির্বাচন কমিশনের এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।
ভোটে অংশগ্রহণে কেন প্রবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ সেটি তারা ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছেন। নিকট অতীতে বিদেশে থাকা এক কোটির বেশি বাংলাদেশী সর্বাধিক দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছেন। ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে হটাতে জুলাইয়ে সারা বিশ্বে আন্দোলন ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। বিশ্ববাসী জানতে পারেন হাসিনা কতটা স্বৈরাচারী। সেই সময় প্রাণের মায়া ত্যাগ করে তারা বিদেশে বিক্ষোভ করেন। অনেকে এজন্য গ্রেফতার হন। এ কারণে কেউ কেউ এখনো কারান্তরীণ। সময়মতো তারা রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ করে দিয়ে হাসিনার অর্থনীতির লাইফলাইন ধসিয়ে দেন। এতে ফ্যাসিবাদের পতন ত্বরান্বিত হয়। একইভাবে হাসিনার রেখে যাওয়া বিধ্বস্ত অর্থনীতি রেমিট্যান্স পাঠিয়ে সচল রেখেছেন। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তারা বর্ধিত হারে অর্থ পাঠিয়ে পতনের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। সঙ্কটের সময় এক মাসে তারা তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়ে রেকর্ড করেছেন। এতে বিদেশের সাথে সচ্ছলভাবে লেনদেন করতে ও বিদেশী ঋণ পরিশোধে বেগ পেতে হচ্ছে না অন্তর্বর্তী সরকারকে।
সঙ্গত কারণে এটি বলা যায় যে, দেশ চালাবে কারা- সেই মতামত সবার আগে প্রবাসীর কাছ থেকে আসা উচিত। এ ব্যাপারে তাদের নেয়া সিদ্ধান্ত সঠিক হওয়া স্বাভাবিক। তারা যেমন দেশপ্রেমিক, একইভাবে কে দেশের পক্ষে কাজ করবেন এবং দেশপ্রেমিক তা তারা ভালো বাছাই করতে পারবেন।
বিদেশে থাকা বাংলাদেশীরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না- এ আশঙ্কা থেকে সরকারকে একটি লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা ২০ প্রবাসীর উদ্যোগে এটি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার নোটিশটি পাঠানো হয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সচিব বরাবরে। নোটিশ পাওয়ার পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে কর্তৃপক্ষকে। ভোটাধিকার পাওয়ার জন্য প্রবাসীদের আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে হলো, এটি দুর্ভাগ্যজনক। সরকারকে তৎপর হয়ে তা সময়মতো করে দেয়া উচিত ছিল।
বিশ্বের প্রায় সব অগ্রসর গণতান্ত্রিক দেশে প্রবাসীদের ভোটের নিশ্চয়তা রয়েছে। আমাদের জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ প্রবাসী। আমাদের এই বিপুল জনগোষ্ঠী জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ে ন্যূনতম গুরুত্ব পাচ্ছেন না। এ কারণে তারা প্রবাস থেকে দেশে ফিরে অবহেলার শিকার হন। যার শুরু বিমানবন্দর থেকে। অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অমনোযোগিতা দেখে উদ্বিগ্ন প্রবাসীরা তাদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
আমরা মনে করি, প্রবাসীদের ভোটের ব্যবস্থা করা সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় প্রথম দিকে থাকা উচিত। আদালতের কোনো ধরনের আদেশের আগে সরকার যেন এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়। এ ব্যাপারে সরকার কতটা তৎপর, সবাই সেদিকে তাকিয়ে আছেন।