ফ্যাসিবাদী অপশক্তি পালিয়ে যাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলাজনিত শূন্যতা দেশের জন্য নাজুক অবস্থা তৈরি করেছে। বাংলাদেশ তাই একটি সঙ্কটকালীন অবস্থা পার করছে। ছাত্র-জনতা আশা করছেন, সংস্কারের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকতা পাবে। এদিকে শত্রুরা চাইছে অন্তর্বর্তী অবস্থার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে। তারা কোনোভাবে দেশ মসৃণভাবে এগিয়ে যাক, স্থিতিশীলতা অর্জন করুক তা চায় না। নাশকতা চালিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ করে দিতে চায়। দেশে চলমান উপর্যুপরি নাশকতার ঘটনা শত্রুদের ষড়যন্ত্রের ফসল। আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে, অস্ত্র চোরাচালান ও লুট হয়ে যাওয়া বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ। সন্ত্রাস, হানাহানি ও গুপ্তহত্যার মতো ঘটনা ঘটিয়ে পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে পরিচালিত করার উচ্চ আশঙ্কা বিরাজ করছে দেশে।
রাজধানীর বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে গত রোববার বনলতা এক্সপ্রেস থেকে বিদেশী অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটির একটি বগিতে তল্লাশি চালিয়ে আটটি বিদেশী পিস্তল, ১৪টি ম্যাগাজিন, ২৩ রাউন্ড অ্যামুনিশন এবং সাড়ে চার কেজি গান পাউডার ও প্লাস্টিক বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। এর চার দিন পর চট্টগ্রামের রাউজানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে ১১টি বন্দুক উদ্ধার করেছে। এর সাথে ছিল ২৭টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও ১৫টি কার্তুজ। অস্ত্রের পাশাপাশি গাঁজা ও বিদেশী মদও উদ্ধার করা হয়েছে। এটি চট্টগ্রামের সবচেয়ে সন্ত্রাসপ্রবণ এলাকাগুলোর একটি। অস্ত্রের পাশাপাশি মাদকের মজুদ থেকে বোঝা যায়, সন্ত্রাসীদের পোষা হ্িচ্ছল সেখানে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে তারা যেকোনো কিছু ঘটাতে পারে।
৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। অস্ত্র সন্ত্রাস ও পেশিশক্তির রাজনীতি অকার্যকর হয়ে গেছে। প্রায় দুই হাজার মানুষের প্রাণহানি ও ৩০ হাজার মানুষের গুরুতর আহত হওয়ার বিনিময়ে এই পরিবর্তন এসেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এর প্রভাব দেখা গেছে। সেখানে অস্ত্র ও পেশিশক্তি কোনো কাজে আসেনি। যারা শক্তি খাটানোর চেষ্টা করেছেন, তারা ছাত্রদের সমর্থন হারিয়েছেন।
এ অবস্থায় শত্রুরা ওঁৎ পেতে আছে দেশে বিবদমান রাজনৈতিক পক্ষগুলোর বিরোধের সুযোগে আবারো অস্ত্র ও পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে। পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী নেতৃত্ব ও তাদের দোসররা এ সুযোগ খুঁজছে। বনলতা এক্সপ্রেসে আটক হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ ভারতের চব্বিশ পরগনা থেকে আনা হয়েছে। হাসিনা বাংলাদেশের গোয়েন্দা বাহিনীগুলো পঙ্গু করে দিয়ে গেছেন। নাশকতা ঠেকাতে ইতোমধ্যে দেশে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বলতা দেখেছি। এ অবস্থায় সীমান্ত পেরিয়ে চারদিক থেকে আগামী নির্বাচনের আগে বিপুল অস্ত্র ঢোকানোর কাজ তারা করতে পারে। এর সাথে থানা থেকে গত বছর লুট হওয়া বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র শঙ্কার জন্ম দিচ্ছে। লুট হওয়া অস্ত্র গোলাবারুদের খুব সামান্য উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।
দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দেশে বিদেশে ঘাপটি মেরে থাকা শত্রুরা নাশকতার ছক কষছে। তাদের হাতে মজুদ অস্ত্র যেমন আছে, সেই সাথে অস্ত্র চালানও হচ্ছে। এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। সাথে সাথে গোয়েন্দা কার্যক্রম আরো জোরদার করার চেষ্টা চালাতে হবে।