বর্ষা বিপ্লবের পর থেকে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অর্জনে লড়াই করছে বাংলাদেশ। নিরাপত্তা সংস্থাকে একান্ত নিজের বানিয়ে মাফিয়া কায়দায় দেশ শাসন করেছেন শেখ হাসিনা। তাই তার পালিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে দেশের পুরো নিরাপত্তাকাঠামো ভেঙে পড়ে। পুলিশ প্রশাসন হাওয়া হয়ে যায়। খোদ পুলিশপ্রধান পালিয়ে যান, এ অবস্থায় প্রথম কয়েক দিন দৃশ্যপটে পুলিশ ছিল না। এক বছর অতিক্রান্ত হলেও নিরাপত্তা ঘাটতি পূরণ করা যায়নি। আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে, ফ্যাসিবাদী শক্তি নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে। এমন বাস্তবতায় গত শনিবার রাজশাহী শহরে অস্ত্র ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার হয়।
নগরীর কাদিরগঞ্জে একটি কোচিং সেন্টারে অভিযান চালিয়ে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি, সামরিক মানের দুরবিন ও স্নাইপার স্কোপ, পাঁচটি উন্নতমানের ওয়াকিটকি, একটি সামরিক মানের জিপিএস, একটি টিজার গান, বিপুলসংখ্যক অব্যবহৃত সিমকার্ড উদ্ধার করেছে যৌথবাহিনী। বোমা তৈরির তাজা সরঞ্জামও ছিল, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট যা নিষ্ক্রিয় করে। এ ছাড়া ছয়টি দেশীয় অস্ত্র, সাতটি বিদেশী ধারালো ডেগার এবং বিভিন্ন দেশী-বিদেশী ব্র্যান্ডের মদও ছিল। দেশে পুলিশ এখনো পরিপূর্ণ সংগঠিত হয়ে উঠতে পারেনি। এ দিকে হাসিনা ও তার দেশী-বিদেশী মাফিয়া চক্র দেশের ভেতরে বড় ধরনের নাশকতার ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে।
সম্প্রতি রাজধানীতে সন্ত্রাসীদের একটি দলকে প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন গ্রেফতার হয়েছে। তারা সারা দেশ থেকে আওয়ামী লীগ, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের লোকজনকে জড়ো করে নাশকতার ছক এঁকেছিল। এ দিকে সরকার আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির শুরুতে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে। আওয়ামী লীগ চায় যেকোনো প্রকারে এ নির্বাচন বানচাল করতে। কোচিং সেন্টারের মালিক অনিন্দ্য রাজশাহীর সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা খায়রুজ্জামান লিটনের চাচাতো ভাই। তার বিরুদ্ধে হোলে আর্টিজানে জঙ্গি হামলা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক হত্যা মামলায় অভিযোগ এসেছিল। কোচিং সেন্টারকে নিরাপদ স্থান বিবেচনা করে অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুদ করেছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সন্দেহের আওতার বাইরে নিরাপদে নাশকতার কার্যক্রম চালানো যাবে- এমনটি হয়তো তারা ভেবে থাকতে পারে।
এক মাস ধরে গোয়েন্দা নজরদারির পর কোচিং সেন্টারটিতে অভিযান চালানো হয়। হাসিনার সময় অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের নামে অসংখ্য নাটক করা হয়েছে। বিরোধী মতের লোকদের ফাঁসাতে এমন অভিযান চালানো হতো। সরকারকে লক্ষ রাখতে হবে, আগের মতো এ ধরনের গুরুতর বিষয়ে নিরপরাধ মানুষকে জড়াতে ওই ধরনের নাটকের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়।
ফ্যাসিবাদী শক্তি জানে, দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা সুসংহত হলে তাদের ফেরার কোনো সুযোগ থাকবে না। তাই তারা যেকোনো মূল্যে দেশে একটি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়। এ জন্য রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কৌশলগত স্থানে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর চক্রান্ত করছে। কোচিং সেন্টারের মতো নিরাপদ জায়গাগুলোতে অস্ত্র গোলাবারুদ মজুদ ও তৈরির জন্য নিশানা তারা করতে পারে। তাদের কাছে জনবল ও অর্থের অভাব নেই। এ ধরনের চক্রান্ত রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।