সুনামগঞ্জের শস্যভাণ্ডার খ্যাত দেখার হাওরের ফসল রক্ষায় মহাসিং নদীর দু’পাড়ে ডাইক-১ ও ডাইক-২ নাম দিয়ে আট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি দিয়েছে শান্তিগঞ্জ উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসন। উথারিয়া ক্লোজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এসব বাঁধে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল দেড় কোটিরও বেশি টাকা। নির্দেশনা অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এ হাওরের কোনো প্রকল্পের কাজ এখন পর্যন্ত শতভাগ শেষ হয়নি। কোনো কোনোটিতে সামান্য ঘাস লাগিয়ে দায় সেরেছেন কমিটির কৃষকরা।

বেশির ভাগ প্রকল্পে এখনো শুরু হয়নি ঘাস লাগানোর কাজ। দু’টি প্রকল্পের কাজ হয়েছে নিম্নমানের। এর ৫১ নম্বর প্রকল্পের বেশির ভাগ জায়গায় মাটির বদলে বালু মাটি বেশি ব্যবহার করা হয়েছে। ৪৯ নম্বর প্রকল্পের কাজ এখনো চলমান। এ প্রকল্পে শ্রমিকরা এখনো মাটির কাজ করে যাচ্ছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঘাস লাগিয়ে সম্পূর্ণ কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে বাঁধের ৫০ শতাংশ কাজও শেষ হয়নি। এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন কমিটির লোকজন বলেন, কাজ দেরিতে পেয়েছেন বলে শেষ হতে দেরি হচ্ছে। এ দৃশ্য শুধু দেখার হাওরে নয়, উপজেলার ৬৫টি প্রকল্পের একই অবস্থা। খোদ পানি উন্নয়ন কর্মকর্তা বলেন, ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। যদিও মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবতা নিয়ে অনেক প্রশ্ন থেকে যায়।

কৃষকরা বলেন, বাঁধের কাজ নিয়ে তারা চিন্তায় আছেন। এসব বাঁধের অসমাপ্ত কাজ যেন দ্রুত শেষ করা হয় সেই তাগিদ দেন তারা।

দেখার হাওরের আটটি প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, ছয়টি প্রকল্পে কোনো শ্রমিক বা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির লোকজন নেই। দু’টির একটিতে এখনো মাটির কাজ করছেন আটজন শ্রমিক এবং অপরটিতে লাগানো ঘাসের ওপর পানি দিচ্ছেন একজন। তিনটি প্রকল্পের সামান্য অংশে ঘাস লাগিয়ে দায় সেরেছে পিআইসি কমিটিগুলো। বাকিগুলো বিরান ভূমি। ধুলা উড়ছে।

শান্তিগঞ্জ পানি উন্নয়ন কর্মকর্তা (এসও) মোমিন মিয়া বলেন, আমাদের উপজেলায় হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ প্রায় ৮৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, ঘাস লাগানোর কাজ শুরু হয়েছে। যে কাজগুলো বাকি আছে সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে তাগিদ দিচ্ছি।

সরকারি বিভিন্ন দফতরে প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন অফিসার থাকেন। তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করতে হয়। বিশেষ হাওর এলাকায় বাঁধের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে হয়। ডিসেম্বর মাসে বাঁধের কাজ শুরু করতে হয় প্রত্যেক বছর। তারা কাজ না করার কারণে ’৮৪ সালে আকস্মিক বন্যা হয়েছিল। এতে কৃষকরা প্রচুর ক্ষতিগ্রস্ত হন। ’৮৪ সালের পুনরাবৃত্তি আর চাই না। হাওরের অন্যান্য প্রকল্প যথাসময়ে শেষ হলেও হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ কেন শেষ হবে না। জনমনে এটি বিরাট প্রশ্ন হয়ে রয়েছে।