আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট ও মানবাধিকার কেড়ে নেয়। ক্ষমতার বাইরে থাকলে আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস-নাশকতার মাধ্যমে জনজীবনে ভীতি ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে। দলটির পুরো রাজনৈতিক ইতিহাস এর স্বাক্ষী। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপযুক্ত অংশীদার রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের কখনো দেখা যায়নি। এবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে দলটির প্রধান শেখ হাসিনাসহ শীর্ষ সব নেতা পালিয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকার গণহত্যাসহ ভয়াবহ অপরাধের দায়ে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পরও তাদের আগের চরিত্রে পাওয়া যাচ্ছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে পতিত আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ঝটিকা মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে ভীতি সৃষ্টির অপচেষ্টা করা হচ্ছে।

দেড় দশকে শেখ হাসিনার নিষ্ঠুর শাসন শেষে গণহত্যার পর জাতি যখন ট্রমায়, সংশোধন ও অনুশোচনার বদলে শক্তি প্রয়োগ করে তারা আবার ক্ষমতায় ফিরতে চায়। দলটির শীর্ষ নেতা হাসিনা থেকে একেবারে সর্বনিম্নস্তরের একজন কর্মী সবাই একই মনোভাব পোষণ করেন। তারা আওয়ামী লীগ ছাড়া দেশের বাদবাকি সবাইকে শত্রু গণ্য করেন। তারা মনে করেন, সন্ত্রাসের মাধ্যমে আবারো হাসিনাকে ক্ষমতায় ফেরানো যাবে। এ জন্য তারা দেশে-বিদেশে অব্যাহত ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করে যাচ্ছেন। সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যাচ্ছে, সন্ত্রাস ও নাশকতা চালানোর জন্য তারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় গোপন বৈঠক করছেন। সেখানে অনলাইনে যুক্ত হচ্ছেন দেশে-বিদেশে পলাতক আওয়ামী সদস্যরা।

নয়া দিগন্তের খবর অনুযায়ী, রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত একটি বহুতল ভবনে নিয়মিত এ ধরনের বৈঠক করছেন আটক হাজী সেলিমের অনুগতরা। হাজী সেলিমের মালিকানাধীন মদিনা গ্রুপের করপোরেট কার্যালয় মদিনা টাওয়ারের দায়িত্বে আছেন তার পুত্র পলাতক এরফান সেলিম। সাবেক একজন সেনাকর্মকর্তাসহ হাসিনা রেজিমের সুবিধাভোগী নয়জন এখানে গোপন বৈঠক করেন। এ সময় তাদের সাথে অনলাইনে যুক্ত হন এরফানসহ অন্যরা। বৈঠকের সময় ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ রাখা হয়। মূলত বৈঠকে আওয়ামী লীগের ব্যানারে ঢাকায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সংঘটনের ষড়যন্ত্র হয়। সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ঝটিকা মিছিলের জন্য ১০০ কোটি টাকার বরাদ্দ ও বিলিবণ্টনের কাজ এখান থেকে হয়েছে। হুন্ডির মাধ্যমে নগদ অর্থ পৌঁছে দেয়ার কাজ কিভাবে হবে তার পরিকল্পনা হয়। কারাগারে আটক আওয়ামী লীগ নেতারাও বিভিন্ন মাধ্যমে সমন্বয় করছেন। তাদের লক্ষ্য- ধারাবাহিকভাবে অস্থিরতা সৃষ্টি করে যাওয়া। একটা পর্যায়ে গিয়ে আওয়ামী লীগের উত্থান হবে, যাতে করে হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা যায়। এ জন্য তাদের রয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। তাদের দরকার শুধু গোছানো সংগঠিত শক্তি প্রদর্শন। টাকার জোরে তারা সেটি করতে সক্ষম হচ্ছে।

মনে রাখতে হবে, ফ্যাসিবাদী শক্তি পুনরায় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পারলে দেশপ্রেমিক সবার অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। বিদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধি এবং বিএনপি-জামায়াত ও এনসিপির প্রতি তাদের প্রকাশিত আক্রোশ থেকে তা প্রমাণিত। তাদের হুমকি থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে আওয়ামী লীগ ও তার ফ্যাসিবাদী বীজকে দেশ থেকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তাদের রাষ্ট্রবিরোধী চক্র শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এ জন্য গোয়েন্দা কার্যক্রম সুচারুরূপে পরিচালনা করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হতে হবে আরো তৎপর।