বাংলাদেশে আগের চেয়ে দারিদ্র্য বাড়ছে। সাউথ এশিয়ান ন্যাশন্স ফর ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) পরিচালিত সাম্প্রতিক জরিপে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। করোনা মহামারীর সময় এক জরিপ পরিচালিত হয়; তখন অনেকে কর্মহীন হয়ে শহর থেকে গ্রামে চলে যান। তাদের বেশির ভাগ আর শহরে না ফিরে গ্রামে থিতু হয়েছিলেন। কিন্তু দারিদ্র্যের কশাঘাতে এখন আবার শহরমুখী হচ্ছেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। সহযোগী একটি দৈনিকের বরিশাল প্রতিনিধির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বরিশাল বিভাগে দারিদ্র্যের হার দেশের সর্বোচ্চ।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, বরিশালের গ্রামে দরিদ্র মানুষের হার ২৮ দশমিক ৪ এবং শহরে ২১ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি চারজন মানুষের মধ্যে এক বা একের বেশি দারিদ্র্যের কবলে। এ জন্য উল্লিখিত অঞ্চলে গ্রাম থেকে বরিশাল শহরে বিপুল সংখ্যক মানুষ অভিবাসনের মাধ্যমে শহরে এসে আশ্রয় নিচ্ছেন। ফলে এই নগরের কলোনিগুলোতে জনচাপ বেড়ে গেছে। এতে করে বরিশাল নগরীর কলোনি বা বস্তিতে বসবাসকারীদের জীবনযাত্রা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। অবস্থা এমন যে, হাজারো মানুষ কলোনিতে আশ্রয় নেয়ায় কলোনিগুলোতে জনচাপ বেড়ে জীবনযাত্রা আরো কঠিন হয়ে উঠেছে। অথচ কলোনিগুলোতে সঙ্কট সমাধানের উদ্যোগের বড়ই অভাব। দারিদ্র্য, অপরিচ্ছন্নতা ও অপর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধার মধ্যে জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন গ্রাম থেকে শহরে আসা এসব হতদরিদ্র মানুষ।

ভাসমান জনগোষ্ঠীর সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় বরিশাল শহরের কলোনি বা বস্তিতে বসবাস করা ক্রমবর্ধমান মানুষ সুরক্ষার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। বস্তিতে সীমিত জায়গা, দারিদ্র্য, অপরিষ্কার পরিবেশ এবং নাগরিক সুবিধার অভাব-সব মিলিয়ে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দিন কাটছে তাদের। এ সঙ্কট সমাধানে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ ও পরিকল্পনা এখনই প্রয়োজন হলেও তা দৃশ্যমান নয়।

এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সমাজ ও উদ্বাস্তু উন্নয়ন কর্মকর্তা বলেন, ‘জায়গা খুব কম, লোকসংখ্যা অনেক বেশি। হতদরিদ্র মানুষকে নিয়ে সরকারের ভাবা দরকার।’ আর বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, ‘ছিন্নমূল মানুষের জন্য বড় প্রকল্প নেই। উন্নয়নে বড় বাজেট দরকার।’

আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে শহর ও গ্রামের মধ্যে কিছুটা বৈষম্য থাকে। কিন্তু ধনী ও গরিবের মধ্যে পার্থক্য আকাশছোঁয়া হলে তা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

ধনী-গরিবের মধ্যে অর্থনৈতিক ব্যবধান অস্বাভাবিক হলে তা সবার চোখে ধরা পড়বে। তাই যারা গ্রাম থেকে জীবন-জীবিকার জন্য শহরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন, তাদের বসবাসের জন্য ন্যূনতম স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকে। এটি সরকারের তরফ থেকে স্থানীয় সরকারের কাজ। এক্ষেত্রে বরিশাল সিটি করপোরেশন এই কাজ এড়িয়ে যেতে পারে না। লোকসংখ্যা বেশি হলেও তা অসম্ভব নয়। শত সঙ্কট ও সমস্যার মধ্যেও চেষ্টা করতে এটিই সারকথা। এদিকে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি আমরা।