নিরাপত্তার কাজসহ শখের কারণেও কুকুর বেশ জনপ্রিয়। তবে অনেকসময় বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত বেড়ে যায়। যেমনটা হয়েছে জনবহুল গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকায়।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, গাজীপুর মহানগরের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের নীলেরপাড়া ও কানাইয়াতে বেওয়ারিশ কুকুরের আক্রমণে জনজীবনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিগত ১৫-২০ দিনের মধ্যে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ অন্তত ২৬ জন কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন। তাদের অনেকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কেউ জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন নিয়েছেন।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘গত এক মাসে আমাদের হাসপাতালে কুকুরে কামড়ানো রোগীর সংখ্যা চার হাজার ২২০ জন। এর মধ্যে সরকারিভাবে দুই হাজার জনকে ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে, বাকিরা বাইরে থেকে সংগ্রহ করেছেন।’

গাজীপুর মহানগর দেশের একটি ঘনবসতিপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। এমন এলাকায় কুকুরের উৎপাত বেড়েছে অথচ সিটি করপোরেশন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কেন, তা আমাদের বুঝে আসে না।

লক্ষণীয়, অনেকসময় খাবারের অভাবে কুকুর হিংস্র হয়ে ওঠে। এমন অবস্থা দেখা দিয়েছিল করোনাকালে। তখন হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় খাবার সঙ্কটে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত বেড়ে গিয়েছিল। এখন সে অবস্থা নেই। হোটেল-রেস্তোরাঁ খোলা এবং মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরা রয়েছে। তার পরও বেওয়ারিশ কুকুরের খাদ্যসঙ্কট হলে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ও গাজীপুরে সিটি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে তা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রাণিবিশেষজ্ঞদের মতে, প্রজনন মৌসুমে কুকুরের আচরণে পরিবর্তন আসে। এ সময় প্রাণীটির কামড়ানো প্রবণতা বাড়ে। ফলে কুকুরে কামড়ানো রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়। এ ছাড়া কুকুরের সাধারণ প্রবণতা হচ্ছে, বছরে দু’বার বাচ্চা দেয়া। তবে আমাদের দেশে বেশির ভাগ কুকুর বছরে একবার বাচ্চা দেয়। দেশে জুন থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত কুকুরের প্রজনন মৌসুম। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসেও কুকুর প্রজাতির প্রজনন হচ্ছে। কিছু কুকুর বছরের অন্যান্য সময়েও বাচ্চা প্রসব করছে। এতে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি কুকুরে কামড়ানো রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।

কুকুরবিদ্বেষে অকারণে প্রাণীটিকে অনেকে আঘাত করেন। ঢিল ছুড়লে কিংবা কিছু দিয়ে আঘাত করলে কুকুর যখন অস্তিত্ব সঙ্কটে ভোগে, তখন আক্রমণকারীকে কামড় দিতে উদ্যত হয়। প্রাণিবিশেষজ্ঞরা বলেন, কুকুরের প্রজননে ৪৫ মিনিট সময় লাগে। প্রজননরত অবস্থায় কুকুরকে আঘাত করলে প্রাণীটি আক্রমণাত্মক হয়ে কামড় দেয়।

গাজীপুরে কুকুরের উৎপাত নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানকার সিটি করপোরেশনকে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বেওয়ারিশ কুকুর যাতে জলাতঙ্ক রোগ না ছড়াতে পারে তার জন্য এগুলোকে ভ্যাকসিন দিতে হবে। একই সাথে কুকুর নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পিত পন্থা বন্ধ্যত্বকরণ জোরদার করতে হবে। তবে এ কথাও মনে রাখা আবশ্যক, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কুকুরের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। তাই প্রাণীটি নিশ্চিহ্ন না করে; এর নিরাপদ বাঁচার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।