দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়া দাবানলের কারণে কমপক্ষে ১৮ জন নিহত এবং প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন। দেশটির হাজার হাজার দমকলকর্মী ও সৈন্য দ্রুত বর্ধনশীল দাবানল নিয়ন্ত্রণে লড়াই করছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি বার্তাসংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, বুধবার দাবানলের ষষ্ঠ দিনে নিহতের সংখ্যা ১৮ জনে পৌঁছেছে। তীব্র ও শুষ্ক বাতাসের কারণে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হান ডাক-সু বলেছেন, ভয়াবহ দাবানল এই ধরণের দুর্যোগের জন্য সব ধরনের পূর্বাভাস মডেলকে ছাড়িয়ে গেছে।

কোরিয়া বন পরিষেবা জানিয়েছে, বুধবার সকাল পর্যন্ত দেশব্যাপী কমপক্ষে পাঁচটি সক্রিয় দাবানলের বিরুদ্ধে লড়াই করছে দমকলকর্মীরা।

এতে আরো বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে একটি উইসং শহরে দাবানল নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টার সময় একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। উদ্ধার প্রচেষ্টা চলছে এবং ধারণা করা হচ্ছে, বিমানটিতে কেবল একজন পাইলট ছিলেন।

শুক্রবার গভীর রাতে উত্তর গিয়ংসাং প্রদেশের সানচেওং কাউন্টিতে দাবানল শুরু হয় এবং রাজধানী সিউল থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত পার্শ্ববর্তী উইসিওং কাউন্টিতে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা আন্দং, চেওংসাং, ইয়ংইয়াং ও ইয়ংদেওক এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়ে।

আন্দং ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় অন্যান্য শহরের কর্মকর্তারা বাসিন্দাদের নিরাপদে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আগুন ৪২ হাজার একর বন পুড়িয়ে দিয়েছে এবং শত শত স্থাপনা ধ্বংস করেছে, যার মধ্যে রয়েছে উইসিয়ংয়ের এক হাজার বছরেরও বেশি পুরনো গৌনসা মন্দির।

ইয়োনহাপের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী আনুমানিক পাঁচ হাজার সেনা সদস্য মোতায়েন করেছে এবং হাজার হাজার দমকলকর্মীর পাশাপাশি আগুন নেভানোর জন্য ১৪৬টি হেলিকপ্টার পাঠিয়েছে।

সূত্র : আল জাজিরা