দক্ষিণ কোরিয়ায় ভয়াবহ দাবানল শুষ্ক আবহাওয়া ও বাতাসের কারণে রাতারাতি আরো ব্যাপক আকার ধারণ করেছে বলে মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) জানিয়েছে দেশটির কর্মকর্তারা।

চলতি সপ্তাহে এক ডজনেরও বেশি বিভিন্ন ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তা মন্ত্রী জানান, হাজার হাজার লোককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং চারজন নিহত হয়েছেন।

ভারপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্র ও নিরাপত্তা মন্ত্রী কো কি-ডং বলেন, এখন পর্যন্ত দাবানলে প্রায় ১৪ হাজার ৬৯৪ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি ক্রমশ বাড়ছে। ক্ষতির পরিমাণের কারণে এই দাবানল দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে তৃতীয় বৃহত্তম দাবানলে পরিণত হতে পারে বলে মনে হচ্ছে। এর আগে ২০০০ সালের এপ্রিলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ দাবানলে পূর্ব উপকূলজুড়ে ২৩ হাজার ৯১৩ হেক্টর জমি পুড়ে যায়।

তিনি দুর্যোগ ও নিরাপত্তা সভায় বলেন, তিন হাজারেরও বেশি মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। কমপক্ষে ১১ জন মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। তীব্র বাতাস, শুষ্ক আবহাওয়া ও কুয়াশা অগ্নিনির্বাপণ প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, আজ ১১০টি হেলিকপ্টার ও ছয় হাজার ৭০০ জনেরও বেশি কর্মী মোতায়েন করা হবে।

স্থানীয় একটি মন্দিরের কর্মীরা সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে রক্ষায় ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো সরানোর ও বৌদ্ধ মূর্তিগুলোকে ঢেকে দেয়ার চেষ্টা করছেন।

স্বরাষ্ট্র ও নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দাবানল মোকাবেলায় ছয় হাজার ৭০০ জনেরও বেশি অগ্নিনির্বাপক কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রায় দুই-পঞ্চমাংশ কর্মীকে উইসং এলাকায় পাঠানো হয়েছে। সারা দেশে একযোগে দাবানলের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখ করে সরকার চারটি অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।

সূত্র : এএফপি/বাসস