ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ)-এর শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের মুখোমুখি অবস্থানের ভিডিওকে ছাত্রদলের ওপর পুলিশের হামলা বলে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট।
বাংলাফ্যাক্ট অনুসন্ধান টিম জানিয়েছে, ‘ভিডিওটি ছাত্রদলের ওপর পুলিশের হামলার নয়, বরং ভিন্ন ঘটনার।’
তারা অরো জানায়, ‘বিএনপির পক্ষে মিছিল করার কারণে ছাত্রদলের কর্মীদের ওপর পুলিশ হামলা চালিয়েছে-এমন দাবি করে সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়ানো হয়েছে।
১১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশের পোশাকে তিনজন ব্যক্তি গলায় আইডি কার্ড পরা এক যুবককে দৌড়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। ডান পাশে আরো কয়েকজন যুবককে দৌড়াতে দেখা যায়। এমন সময় পাশ থেকে আরেক যুবক ওই যুবককে ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। তখন পুলিশের পোশাকে থাকা একজন কর্মকর্তা তাকে সরিয়ে দেন।
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, ভিডিওটি বিএনপির পক্ষে মিছিল করার কারণে ছাত্রদলের ওপর পুলিশের হামলার নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি গত ২১ জুন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ)-এর শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের মুখোমুখি অবস্থানের ভিডিও।
বাংলাফ্যাক্ট অনুসন্ধান টিম জানায়, ভিডিওতে থাকা দৈনিক ইত্তেফাকের লোগো দেখে অনুসন্ধান করে তাদের ইউটিউব চ্যানেলে একই ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।
২১ জুন প্রকাশিত ভিডিওর বিবরণ থেকে জানা গেছে, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ)-এর ২৫ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের প্রতিবাদে রাজধানীর নতুনবাজার মোড়ে রাস্তা অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘক্ষণ সড়ক অবরোধের কারণে ওই এলাকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে সাধারণ মানুষ ভয়াবহ ভোগান্তিতে পড়ে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থী ও পুলিশের মুখোমুখি অবস্থান নেয়।
ফ্যাক্টচেক আরো জানায়, আজকের পত্রিকায় ২১ জুন প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই দিন কুড়িল বিশ্বরোড-বাড্ডা সড়ক অবরোধের কারণে যানজট এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শিক্ষার্থীদের রাস্তার পাশে অবস্থান নিতে বলেন। শিক্ষার্থীরা তা না মানায় পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। এছাড়া দ্য ডেইলি স্টার, সমকাল, যুগান্তরসহ একাধিক জাতীয় দৈনিকেও এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
বাংলাফ্যাক্ট অনুসন্ধান টিম জানায়, ইউআইইউ শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ভিডিওকে বিএনপির পক্ষে মিছিল করার কারণে ছাত্রদলের ওপর পুলিশের হামলার দৃশ্য বলে প্রচার করা হচ্ছে, যা বিভ্রান্তিকর।
বাংলাদেশে চলমান গুজব, ভুয়া খবর, অপতথ্য প্রতিরোধ এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে দায়িত্ব পালন করছে বাংলাফ্যাক্ট। সূত্র : বাসস