হলি আর্টিজান ট্র্যাজেডির ১০ম বছর উপলক্ষে ঢাকায় আয়োজিত এক স্মরণসভায় নিহত সাত জাপানি নাগরিকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন অ্যাজেন্সি (জাইকা)। একইসাথে ওই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত অন্যদেরও স্মরণ করা হয়।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরার মেট্রোরেল প্রদর্শনী ও তথ্যকেন্দ্রে (এমইআইসি) ২০১৬ সালের ১ জুলাই সংঘটিত হলি আর্টিজান ট্র্যাজেডির ১০ম বছর স্মরণে এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নিহত সাত জাপানি নাগরিক বাংলাদেশের মেট্রোরেল ব্যবস্থার প্রাথমিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাদের অবদানে গড়ে ওঠা ঢাকা মেট্রোরেল বর্তমানে রাজধানীর লাখো যাত্রীর যাতায়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং এটি বাংলাদেশ-জাপান অংশীদারত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্মরণসভায় জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো, দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক ইয়ামাদা তেতসুইয়া, জাইকা বাংলাদেশ অফিসের মুখ্য প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো, জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী শিমাদা তোমোআকি, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচিসহ জাপান সরকার ও দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি, নিহতদের পরিবারের সদস্য, উন্নয়ন সহযোগী এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তারা নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং শান্তি, সহনশীলতা ও সহযোগিতার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে যুক্ত বিভিন্ন জাপানি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো: শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: শৌগাতুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলায় সাত জাপানি নাগরিক নিহত হন। তারা বাংলাদেশের মেট্রোরেল প্রকল্পের উন্নয়ন কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। সেই ঘটনার স্মরণে প্রতিবছর জাইকা তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আসছে।

জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো বলেন, ‘বাংলাদেশ সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। তবে সেদিনের দুর্ঘটনায় আমরা যাদের হারিয়েছি, তারা চেয়েছিলেন বাংলাদেশের মানুষ যেন আরো ভালোভাবে, উন্নত পরিবেশে বাঁচতে পারে। আমরা তাদের সেই স্বপ্ন বুকে নিয়ে এবং নিরাপত্তার প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার রেখে এই কাজ সম্পন্ন করতে আশাবাদী।’