জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রংপুর মহানগরীতে র‌্যালী ও সমাবেশে করেছে ছাত্র শিবির ও উলামা-জনতা ঐক্য পরিষদ।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১২টায় নগরীর শাপলা চত্বর জুলাই জাগরণ-নব উদ্যোমে বিনির্মান স্লোগানে র‌্যালী বের করে ইসলামী ছাত্রশিবির মহানগর শাখা। এতে নেতৃত্ব দেন মহানর সভাপতি নুরুল হুদা, জেলা সভাপতি ফিরোজ মাহমুদ, মহানগর সেক্রেটারি আনিছুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি হামিদুর রহমান, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি সোহেল রানা।

র‌্যালীটি শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে বিকন মোড়, খামার মোড়, লালবাগ পার্কের মোড় হয়ে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবু সাঈদ গেটে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে হাতে বাংলাদেশের পতাকা এবং মাথায় পতাকার বেড়ি দিয়ে অংশ নেন নেতাকর্মীরা। সেখানে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নেতারা।

মহানগর শিবির সভাপতি বলেন, ‘আজকে একটা ঐতিহাসিক দিন। আজকের দিনে খুনি হাসিনা পালিয়ে গিয়েছিল। আজকের দিনটি বাংলাদেশের সকল মানুষের আনন্দের দিন। কিন্তু দিনটি কিনতে হয়েছে হাজার শহীদ, আহত খুন গুম হওয়ার বিনিময়ে। কিন্তু যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে জুলাই বিপ্লব হয়েছিল। সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দৃশ্যমান কোন কিছুই নাই। এটা খুবই আশাহত করেছে জাতিকে।’

নুরুল হুদা বলেন, ‘আমরা এখন মুক্তভাবে কথা বলতে পারছি। চলাফেরা করতে পারছি। কিন্তু এখনো শহীদদের পুর্নাঙ্গ তালিকা করতে পারেনি সরকার। আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারেনি। শহীদ ও আহত পরিবারদের পুনর্বাসন করতে পারেনি। খুনিদের বিচার দৃশ্যমান নেই। খুনিরা প্রকাশ্যে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে। খুনিদের পুনর্বাসিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যা জুলাই স্পিরিটের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। এসব দাবি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেই পূরণ করতে হবে।’

অন্যদিকে বেলা পৌনে ১২টায় সদর হাসপাতাল জামে মসজিদের সামন থেকে দিনটি উপলক্ষে শুকরিয়া র‌্যালী বের করে উলামা জনতা ঐক্য পরিষদ। র‌্যালীতে রংপুরের বিভিন্ন স্তরের ওলামা মাশায়েখ সাধারণ জনতা অংশ নেন। র‌্যাললিটি প্রেসক্লাব চত্বর ঘুরে আবারো সদর হাসপাতাল জামে মসজিদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালীর শুরুতে মোনাজাতে অংশ নেন অংশগ্রহনকারীরা।

এছাড়াও আজ সকাল ৯টায় জুলাই শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার, ডিসি, এসপিসহ বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, শহীদ পরিবার, স্থগিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারাও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে শহীদ পরিবার, আহত ও সম্মুখ যোদ্ধাদের সম্মিলন ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

বেলা আড়াই টায় রংপুরের সর্বস্তরের ফ্যাসিস্ট বিরোধী ছাত্র-জনতার উদ্যোগে র‌্যালী, বেলা ৩টায় সিটি পার্ক মার্কেট থেকে ইসলাম আন্দোলন ও বিকেল সাড়ে ৩টায় শাপলা চত্বর থেকে জামায়াতে ইসলামীর র‌্যালী বের করার কর্মসূচি দেয়া হয়েছে।